অপূর্ণ অভিলাষ – আশিক রহমান রাহাত

 [post-views]

 [printfriendly]

[smbtoolbar]

প্রিয়সির হাত ধরে হাঁটার মাঝে এক অদ্ভুত ধরনের শক্তি আছে, যে শক্তি বলে প্রেমিক বহু পথ অতিক্রম করতে পারে। ক্লান্তি তার কাছে তখন একটি বাক্য মাএ। যুগলের দুটি হাত যখন একটি মুষ্টির সৃষ্টি করে , সে দশ আঙুলের মুষ্টিতে আবদ্ব্য থাকে এক অদ্ভুত ভালোবাসা। যে ভালোবাসা অবিবাহিত যুগল ছাড়া অনূভব করে না অন্য কেউ। অনিন্দ সুন্দর সে ভালোবাসা। একটা সময় আসে যখন না চাইতেও প্রিয়সির কোমল হাত ছেড়ে দিতে হয় লোক চক্ষুর ভয়ে। প্রেমিকের তখন কি বড্ড অভিমান, সে মানতে চাইছেনা সমাজের কোন নিয়ম, ছাড়তে চাইবে না ভালোবাসার নারীটির হস্ত । বিজ্ঞ লোকের মত প্রনয়নী কত কথাই না বলবে, তবুও মন কি মানে?

ঠিকি মুষ্টিটা খুলে গেল, আস্তে আস্তে আঙুল গুলো স্পর্শ হারালো, নিদারুণ বিরহ ছেয়ে গেল দুজন। ভালোবাসা ফুরোয়নি , শুধু রুপ বদলেছে । আলাদা হলেও যে তাদের মনে একি বাসনা। প্রেমিক প্রিয়সির পেছন পেছন গিয়ে বাসায় পৌঁছে দিল । প্রেমিক জানে অনেক দিন তাদের আর দেখা হবে না। শত কষ্ট বুকে চেপে ও সে হাসি মুখে বিদায় জানায়। প্রিয়সির বুকেও যে একি ব্যাথা । ছুটে যেতে সেও চাইছিল তার আস্তার মানুষটির বুকে। সমাজের কিছু নিকৃষ্ট নিয়ম তাদের মাঝে বেড়া দিয়েছে।

একটা সময়ে উভয় দৃষ্টির অগোচর হয় একে অপরের। প্রেম বুকে নিয়ে পাখিদ্বয় আপন নীড়ে ফিরে যায়। এই অল্প সময়টুকুও উভয় প্রান মনে রাখবে দীর্ঘ কাল। কত কিছুই না তারা ভাববে , ভাবনা গুলো কি শুধুই ভাবনা থাকবে? হ্যাঁ! এক সময় ঘটে বিচ্ছেদ। কয়টা প্রেম পূর্ণতা পেয়েছে এ শহরে ? ভালোবাসা মানেই যে অপ্রাপ্তি। প্রেম পূর্ণতা পেলনা ঠিকি , তবে ভালোবাসা পেয়েছে নতুন রূপ। প্রিয়সি ভুলে গেছে সে সকল সুন্দর সময় অল্প দিনের ব্যবধানে । নিজিকে সাজিয়ে চলেছে সে কোন এক কর্পোরেট মানুষের জন্য।

সে সুখ খুঁজেছে অর্থ আর নিরাপত্তায়। নিরাপত্তা চাওয়া দোষের কিছু না। তবে নিরাপত্তা যদি শেষ কথা হয় তবে কেন মাতৃ গর্ভে থেকে গেল না? উহা তো সবথেকে নিরাপদ স্থান। ছেলেটি কিন্তু ভালোবাসা ভুলে যায়নি। সে আজ ও প্রেমময় সময় হাতড়ে ফিরে । সে জন্ম দিয়েছে এক সত্বা সঙ্গিনীর তার হৃদয় মাঝে। তাকেই সে এখন প্রচন্ড ভালোবাসে। মাঝে মাঝে সে ভাবে নিজেকে এক “মহা পুরুষ” । সে নিজেও ভেবে পায়না কি করে সে পারে অস্তিত্ব বিহীন কাউকে এতটা ভালোবাসতে।

 

 

 

Ashik Rahman

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top