অবহেলা – জাকারিয়া আহমেদ

সেদিনও এসেছিলে তুমি
দেখেছিলাম আমি দূর থেকে,
আমিতো অবহেলিত তোমার কাছে
তাই আর কাছে আসিনি !
শুধু আচ করতে পেরেছিলাম
বুরকা পড়ে দাড়িয়ে থাকা
মানুষটা আর কেউনা শুধু তুমি।
কতদিন দেখিনা তোমার ওই
মায়াবী দু’টো চোখ.!
জান? খুব দেখতে ইচ্ছে করছিল
কাছ থেকে তোমায়,
কিন্তুু পারিনি! ওইযে বললামনা?
অবহেলা ; তাই আর বিরক্ত করতে
কাছে আসিনি তোমার।
বড্ড কষ্ট হচ্ছিল আমার,
বুকের বা পাশটা চিনচিন করে
ব্যাথা করছিল ;ঝর্ণা ধারার মতো
রক্তের ফোয়ারা বইছিল হৃদপিন্ডে!
ফুঁপিয়ে কাদতে পারিনি
মানুষ আমায় সুধাবে বলে,
অশ্রুসিক্ত নয়নে আকাশের
পানে চেয়েছিলাম তবু পারিনি,
বাঁধ ভাঙা জোয়ারের মতো অশ্রু
ঠিকই গড়িয়ে পড়েছিল টপাটপ
গাল বেয়ে ! তারি ঘরি করে
মুছে ফেলেছিলাম লোকচক্ষুর অগচুরে।।
তবু যেন চোখ দু’টো ঝাঁপসা হয়ে
আসছিল বারবার.!!
দূর থেকে তুমিও দেখেছিলে একবার
অচেনা অদেখা আগন্তুকের মতো !
আমি ঠিকই খেয়াল করেছি,
অবহেলার চাঁদরে মোড়ানো
আমার ভালোবাসা কতটা উপেক্ষিত,
তা রঙধনুর মতো ফুটে উঠেছিল
তোমার স্বরুপ আচরনে !!
গোলাপী বোরকা আর স্কার্ফের
আদলে ঢাকা সারা দেহ,
তাই আর দেখা হলোনা
তোমার মেঘ কালো চুল,
আর সোহাগী বদন।
অতিথী পাখির মতো গন্তব্যের পথে
আবারও ছোটে চলা।
দৌড়ে আসতে চেয়েও আসতে পারিনি
ওইযে বললামনা অবহেলা?
বিদায়ক্ষণে জানাতে পারিনি বিদায়
আমি ব্যর্থ প্রেমিক হারমানা অক্ষম তাই.!!
তবে যাওয়ার বেলায় ঠিকই
পিছু নিয়েছিলাম তোমার.!
চাঁতক পাখির মতো দূর থেকে
চাহিয়া ছিলাম তোমার চলন পথে,
একবারও চাওনি তুমি পিছন ফিরে !
নিমেষেই মিশেগেছ তরুলতার ভীড়ে,
আমার দৃষ্টি সীমার বাহিরে ।।
বুক ভড়া কষ্ট নিয়ে দৌড়ে এসেছিলাম ঘরে
হেরে যাওয়া বালিকার মতো ঢুকরে ঢুকরে
কেঁদেছিলাম বালিশে মুখ চেঁপে ধরে।
এভাবে আর কতকাল যাতনা দেবে আমায়?
আমিকি তীর্থের কাকের বেশে
এভাবেই কাটাবো চিরকাল.???

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top