আদি ধর্মগ্রন্থ বেদের উৎপত্তি – সৌম্য ঘোষ

– 

[post-views]

সমগ্র পৃথিবীর পন্ডিত জ্ঞানীগুণীরা এক বাক্যে মেনে নিয়েছেন যে, কোন এক সুদূর অতীত কালে ভারত বর্ষ নামক অতিপ্রাচীন দেশের সিন্ধু নদীর তীরে রচিত গ্রন্থটির পৃথিবীর আদিমতম গ্রন্থ।

সূচনা কাল থেকেই বেদ গ্রন্থ আকারে ছিল না। বৈদিক সাহিত্য এক সুবিশাল ভান্ডার যেখান থেকে প্রাচীন ভারতীয় সভ্যতার নানা তথ্যাবলী জানা যায় । বৈদিক সাহিত্যে সন্নিবিষ্ট আছে বেদ-বেদান্ত-উপনিষদ-মহাকাব্যদ্বয় ও অষ্টাদশ পুরান । এই সবেরই রচয়িতা ছিলেন ঋষিগণ । মহাশক্তিধর এই ঋষিগণ ছিলেন মন্ত্রশক্তিতে বিশেষ পারদর্শী । মন্ত্র গুলির স্মৃতির মাধ্যমে শিষ্য পরম্পরায় বিস্তৃত হত। স্মৃতি থেকেই বেদ নামক এক মহাগ্রন্থসম্ভারের উদয় হয়েছিল সেই সুপ্রাচীনকালে । এই সুপ্রাচীনকাল বলতে ঠিক কত দিনব্যাপী দীর্ঘ প্রচেষ্টায় বেদসাহিত্য রচিত হয়েছিল এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর খুঁজে পাওয়া যায় না । তবে প্রচলিত ধারণা অনুসারে যিশুখ্রিস্টের জন্মের ৪০০০ খ্রিঃ পূঃ থেকে ১৫০০ খ্রিঃ পূঃ অতীতের মধ্যে প্রায় ২৫০০ বছরব্যাপী বিভিন্ন ঋষিদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পৃথিবীর আদিমতম গ্রন্থ বেদ ভারতবর্ষে রচিত হয়েছিল । সেই সুদূর অতীতকাল থেকে আজ পর্যন্ত ভারতের সমাজ ও ধর্ম জীবন অনেকাংশে বেদ গ্রন্থ দ্বারা অনুশাসিত । ঋগ্বেদকে প্রাচীন আদি বেদ বলে জানা ছিল । কিন্তু বর্তমানে পণ্ডিতও জ্ঞানীগুণী মানুষেরা অনুসন্ধানের দ্বারা প্রমাণ করেছেন যে, ঋগ্বেদ নয় অথর্ববেদে সবথেকে প্রাচীন । ঋষিদের শিষ্য পরম্পরায় প্রতিটি বেদ এক পুরুষ থেকে উত্তরপুরুষের অনুশ্রুত হতে থাকে।  আজকের সামাজিক স্থিতি তে তথা সংস্কৃতভাষা চর্চার অভাবে এবং বিজ্ঞানের নতুন নতুন আবিষ্কারে ও আধুনিক সভ্যতার পরাক্রমে আমাদের বেদকেন্দ্রিক ভাবধারা সম্পূর্ণ না হলেও বহুলাংশে বিচ্যুত হয়েছে।

অধ্যাপক সৌম্য ঘোষ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top