আমার শিক্ষা কি – স স আলম শা্

[post-views]

বিংশ শতকে শিক্ষাই রাষ্ট্রের অন্যতম বিবেচ্য বিষয় । শিক্ষাই জাতির শক্তি অর্জনের উপায় ।
লোগান উইলসন বলেছেন, এ যুগে মানব শক্তি বলতে মস্তিকের শক্তি অথবা কোন দেশের অধিবসীদের বুদ্ধি সংক্রান্ত সন্ম্পদের সঞ্চয় ক্ষমতাই বুঝায় ।
বিশ্বব্যাপী মানব সমজ এটাও জানে যে, মানুষের জন্য সবচেয়ে মূল্যবান প্রকৃতিক সন্ম্পদ হল মানুষের প্রতিভা । কারণ এই প্রতিভার সাহায্যেই মানুষ সমস্ত প্রকৃতির শক্তি ও সন্ম্পর্ক মানব সমাজে ব্যবহার উপযোগী করতে সক্ষম হয়েছে এবং হচ্ছে ।

তাই শিক্ষা প্রতিষ্টান তথা জ্ঞান শিল্প মানুষের জন্য সবচেয়ে মূল্যবান শিল্প প্রতিষ্টান এবং কোন দেশে শক্তি ও সম্পদ বলতে সে দেশে মানুষের বুদ্ধি সংক্রান্ত সম্পদের সঞ্চয় ক্ষমতাই বুঝায় । তাই মানব জাতি সত্যই উপলদ্ধি করছে যে, সার্বজনীন শিক্ষা যত ব্যয় এবং পীড়াদায়কই হোক না কেন ব্যাক্তি মানসের পরির্পূণ বিকশের জন্য তা অপরির্হায । সুতরাং গণভিত্তিতে শিক্ষাদানের সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যেকটি লোক যেন শিক্ষার উদ্দেশ্যে সম্পর্কে সম্যক অতিবাহিত হতে পারে তাঁর প্রতি দৃষ্টি দিতে পারে ।


আমরা জানি শিক্ষা শব্দটি ইংরেজী এডুকেশন শব্দের প্রতিরূপ । EDUCATION শব্দটি ল্যাটিন EDUCATUM , EDUCARE এবং EDUCERE শব্দ হতে গৃহীত । EDUCATUM বা EDUCARE শব্দর অর্থ হল বের করা, লালন পালন করা, পরিপুষ্ট সাধন করা, প্রশিক্ষন দেয়া এবং পরিচালিত করা । আর EDUCERE শব্দের অথ হল ভিতর হতে কোন কিছু আনায়ন করা, অভ্যন্তরীন সাধন করা বা গুনাবলীর পরিপুষ্টতার বিকাশ ঘটানো । কাজেই শিক্ষার বুৎপত্তিগত আথ দাড়াঁয় যা মানবের শরীরিক, মানসিক, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতি বিধানে সহায়তা করে তাই শিক্ষা ।


কিণ্ড আমাদের সাধারণ সমাজ, শিক্ষার অথে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, প্রভূতি শিক্ষা প্রতিষ্টানে অধ্যয়ন করে যে বিদ্যালাভ হয় তাকে বুঝায় । অর্থাৎ পুঁথিগত বিদ্যাকে তাঁরা শিক্ষা বলে মনে করে । কিণ্ড সত্যিকার অর্থে ইহা শিক্ষা নয়, এ সব শিক্ষা লাভে সহায়তা করে মাত্র ।
অধ্যাপক ইমরাসনের মতে স্কুল, কলেজ, ও বিশ্ববিদ্যালয় যা শিখান হয় তা শক্ষা নয়, শিক্ষার মাধ্যম মাত্র ।


কাজেই স্কুল কলেজের শিক্ষা সামগ্রিক শিক্ষার একটি মাত্র । তাহা পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা নয় । প্রাতষ্টানিক শিক্ষা কাজে লগে অথ উপার্জনে, আর স্বশিক্ষা কাজ করে মানব চরিত্র বা পরম মানুষ গঠনে । স্কুল কলেজে যারা লেখাপড়া করেনি বা শিখেনি তাদেরকে এক কথায় অশিক্ষিত বলা যায় না । লেখাপড়া না শিখেও বহু ব্যাপারে পারদর্শী হওয়া যায় ।


পৃথিবীতে এমন সব মহামানব জন্ম গ্রহন করেছেন, যারা কোন প্রাতিষ্টানিক শক্ষা প্রতিষ্টানে লেখা পড়া করে নাই বা জানতেন না । কিণ্ড সত্যিকার দৃষ্টিতে তাঁরা অশিক্ষিত ছিলেন না । বরং তাদের জীবনই ছিল শিক্ষার দশন । তাদের জীবন হতে মানুষ প্রকৃত শিক্ষা জানতে পারে ।যেমন হযরত মুহন্মদ সাঃ তাঁর জীবন্ত প্রমান । তাঁর শিক্ষা কোন আক্ষরিক শিক্ষার মধ্যে সীমাব্দ্ধ নয় ।


এদিকে শিক্ষার সংজ্ঞা যুগে যুগে দেশে দেশে বিভিন্ন মহাজ্ঞনীগণ বিভিন্ন ভাবে প্রকাশ করেছেন । তার সব উল্লেখ না করে শিক্ষার কয়েকটি সংজ্ঞা নীচে দেওয়ার চেষ্টা করিলামঃ-
সক্রেটিস বলেছেন, শিক্ষা হল মিথ্যার অপনোদন ও সত্যের অবিস্কার বং শিক্ষাই সমস্ত গুনের আধাঁর ।
প্লেটো বলেছেন, মানব মনের জন্মগত গুনরাজি বন্ধের জন্য প্রশিক্ষনের নামই হল শিক্ষা ।
এরিষ্টটল বলেছেন, ন্যায়নীতির ভিতর দিয়ে সূখ লাভই হল শিক্ষা ।
জন ডিউ বলেছেন, আত্ম উপলদ্ধিই হল শিক্ষা ।
জন লক বলেছেন, সুস্হ শরীরে সুস্হ মন সৃষ্টিই হল শিক্ষা ।
রুশ দেশে শিক্ষার সংজ্ঞা হল, শিক্ষাই জীবন ও জীবনই হল শিক্ষা ।


আর স স আলম শা্ এর অভিমত হল, সুন্দর চেতন শক্তি জগ্রত করাই হল মূল শিক্ষা । যা দ্বারা মানুষের কল্যান হয় ।
১৯৪৫ সালে একদল আমেরিকান শিক্ষাবিদ কতৃক শিক্ষার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, শিক্ষা এমন এক সুসংবদ্ধ উপায় বা কৌশল যা সামাজিক জীব হিসাবে ব্যাক্তির সর্বাদিক কর্মক্ষমতা, ধ্যানধারনা, রুচি, ও স্বভাবের পরিবতন ও পরিবধন সাধন করে । বিশ্ব কোষের সংজ্ঞা – এনমাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকাতে ( ENCYCL OPEDIA BRITANICA) শিক্ষা সন্মন্ধে বলতে গিয়ে জেমস মিল বলেন, শিক্ষার উদ্দেশ্য হল শিক্ষাত্রীকে এমন ভাবে গড়ে তোলা যেন সে নিজের জবনকে আনন্দে ভরপুর করে তুলতে পারে । তিনি আরও বলেন, শিক্ষা হল আমরা আমাদের জন্য, যা করি এবং অপরে আমাদের জন্য যা করে । আর এর ফলে আমাদের প্রকৃতিগত গুনগুলো পূর্ণতা লাভ করে ।


কাজেই আমরা সবকিছু মিলিয়ে বলতে পারি, সামজক জীব হিসাবে মানুষের দৈহিক, মানসিক, ও আত্মিক উন্নতির সাথে জগতিক সকল প্রকার সমস্যা সমাধানের যে যন্ত্র বা কলা কৌশল মানুষকে সাহায্য করে তাই শিক্ষা । আর শিক্ষার্থীর মঙ্গল কামনাই হল শিক্ষার মূল লক্ষ্য এবং সামাজিক ও জাতীয় জীবনের আদশ ও চাহিদাই শিক্ষার আদশ । কিণ্ড বর্তমান জগৎ ব্যাপী শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ধন সম্পদ আহরণ ও শক্তি অজন করা । এটা কো সুস্হ ধারা বা জ্ঞান গব শিক্ষা নয়, এ হল একটি অসভ্য, ববর, মনুষ্যত্বহীন শিক্ষা । যা মানব জীবনে ধ্বংস ডেকে আনে । তাই বর্তমান যুগের যে শিক্ষা ব্যবস্হা চালো আছে তাকে ডেলে সাজাতে হবে এবং কল্যান মূখী ও মানুষ গড়ার শিক্ষা চালো করতে হবে । আমাদের দেশে জ্ঞানগর্বস্ব শিক্ষা ব্যাবস্হা তিন ভাগে বিভক্ত । যথাঃ
প্রাথমিক স্হর ।
মাধ্যমিক স্হর।
উচ্চ শিক্ষা স্হর ।


প্রাথমিক স্হরের শিক্ষাঃ- দেশের প্রতিটি মানুষ যাতে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেই দিকে লক্ষ্য রেখেই মূলত সকল শিশুকে স্কুলে যাওয়ার অভ্যাস করতে হয় এবং এই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হওয়ার দরকার, শিশুর মেধা বিকাশ, শারীরিক সুস্হতা রক্ষা করা ও শিশুর মনের মনোবৃত্তির প্রসার ঘটানো । যাতে করে শিশুটি শিক্ষার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠে । কিণ্ড বর্তমানে তা না করে শিশুর গারের উপর এক বুজা বই দিয়ে ঘোড়ার পিঠের মত বেঁধে তাকে জোড় করে পিঠিয়ে হাঁটাতে হাঁটাতে স্কুলে নিয়ে যায় । হায়রে বিধাতার কি নিষ্টুর শিক্ষা ব্যাবস্হা । এটা কখনো সুষ্ট দ্বারার শিক্ষা ব্যাবস্হা নয় । এই শিক্ষা শিশুরদের এবং জাতির জন্য কোন কল্যান ভয়ে আনবে না । কাজেই আমার বা আমাদের শিশুদের জন্য জ্ঞানগব শিক্ষা ব্যাবস্হা যাতে হয় তাই প্রাথমিক স্হরে কাম্য হোক ।


মাধ্যমিক স্হরের শিক্ষার লক্ষ্য হল, ছাত্র ছাত্রীদের শক্তি ও প্রবৃত্তি নিরুপন করা, নৈতিকতা ও মানসিকতার উন্নয়ন, জাগতিক বিষয়ে সচেতনতা, সামাজিক ও পার্থিব বিষয়ে আগ্রহ এবং বুদ্ধির আদান প্রদানে আগ্রহ সৃষ্টি করা ।

আর উচ্চ স্হরের শিক্ষার লক্ষ্য সকল পেশার জন্য বিশদ শিক্ষা ও প্রতিভার দরকার । এরূপ যোগ্য শিক্ষিত লোক সৃষ্টি করা উচ্চ স্হরের শিক্ষার লক্ষ্য । সেই সাথে আধ্যাত্মিক জ্ঞানের প্রসার ঘটানো যাতে মূল লক্ষ্যই হয় তা নিশ্চিত করা আবশ্যক । কারণ আধ্যাত্মিক জ্ঞান ছাড়া উচ্চ শিক্ষার কোন মূল্য নাই বা পরম সত্ত্বার জ্ঞান লাভে সাহায্য করে না । 

স স আলম শা্

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top