আর ঘণ্টা খাবো না

 38 total views

আর ঘণ্টা খাবো না (অণুগল্প)

প্রকাশ চন্দ্র রায়

তরকারী’র চেহারা দেখে রাগে তাপে মন খারাপ করে, বারান্দায় বসে ভাতের থালা নিয়ে, ভাবছেন বাবা। আমি কাঁদছি উক্ত ঝাল তরকারী খেয়ে।
কলাগাছের থোড় কুঁচি কুঁচি করে কেটে তাতে শুঁটকি’র গুড়ো আর সোডা(ক্ষার) দিয়ে বিশেষ একপ্রকার গ্রাম্য-তরকারী রান্না করেছে মা। চাটনি জাতীয় এ তরকারীটা’র বৈশিষ্ট্য হলো,খুববেশি মাত্রায় রসুন-পেঁয়াজ আর শুকনো মরিচের ঝাল থাকতে হবে। খাওয়ার সময় আঙুলের ডগা দিয়ে এক চিমটি করে নিয়ে নিয়ে জিহ্বার ডগায় ছোঁয়াতে হবে মাত্র। বাবা একদম পছন্দ করেন না এই জাতীয় বাজে তরকারীগুলোকে,আমিও চাই না এসব খেতে। অন্যকোন উপায় না থাকায় ঠেকায় পড়ে আজ বাধ্য হয়ে এই তরকারীই রান্না করেছে মা,গ্রামের মহিলাদের মধ্যে কিন্তু খুবই জনপ্রিয় একটা তরকারী এটা।
নাল্টু আমার ছোটকাকার ছোটছেলে,বয়স তিন-চার বছর।
ওদের ঘরের বারান্দায় খেতে বসেছে সে। সেখান থেকে চিৎকার দিচ্ছে বারবার-
-বড়’বা,তোমাদের কী তরকারী? ও বড়’মা, তুুমি কী তরকারী রেঁধেছো? বড়’মা, ও বড়’মা?
আমার মা কিছু বলছে না,আমিতো ঝালের চোটে উঁহু-আঁহা! করছি।
নাল্টুর চেঁচামেচিতে ক্ষুদ্ধ-বিরক্ত হয়ে ব্যাঙ্গ করে জবাব দিলেন বাবা,
-তোর বড়’মা “ঘন্টা” রেঁধেছে আজ!
ক্ষোভ ঝাড়লেন বাবা, মায়ের উপরে।
বাবার জবাব শুনে আনন্দে লাফাতে লাগলো ছোট্ট নাল্টু।
-বড়’বা, আমি ঘণ্টা খাবো। বড়’মা,আমি ঘণ্টা’র তরকারী খাবো।
বলতে বলতেই ছোট্ট একটা বাটি নিয়ে ছুটে এলো সে আমাদের কাছে।
ছোট্ট নাল্টু’র কাণ্ড দেখে সমস্ত রাগ-তাপ নিমেষেই উধাও হয়ে গেল বাবা’র। হাসতে হাসতে বললেন মা’কে,
-দাও একটু ঝালের তরকারী।
মা আঁতকে উঠে বললো,
-না,না,এ তো দেওয়া যাবে না! এ যে ভীষণ ঝাল!
মায়ের কথা শুনে প্রতিবাদ ফেটে পড়লো নাল্টু! জোরালো কণ্ঠে বলে উঠলো সে,
-আমি খেতে পারবো বড়’মা। দাও না একটু ঘণ্টা’র তরকারী।
নাল্টুর জেদ সইতে না পেরে রান্নাঘর থেকে সামান্যকিছু ঝাল তরকারী এনে ওর বাটিতে ঢেলে দিলো মা।
ঝাল তরকারীর টসটসে লাল রং দেখে,আর তর সইছে না নাল্টু’র! এক লহমায় মুখে পুরে দিলো প্রায় পুরো তরকারীটুকু। আর যায় কোথায়! মুহূর্তের মধ্যেই ঝালের প্রকোপে লাফাতে শুরু করলো নাল্টু। কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগলো বারবার–
-ওঃ!বাবা’রে! আমি আর ঘণ্টা খাবো না। ঘণ্টার তরকারী খাবো না! (সমাপ্ত)
রচনাকাল-০৬,০৬,২০২১ রবিবার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *