আসুন বদলাই – শম্পা সাহা

নারীকে অধিকার দিতে হবে না, সমানাধিকার ও নয়। এ আপনাদের পকেটে রাখা মানিব্যাগ নয়, যে পকেট থেকে বার করে তার থেকে দয়া করে দুএকটা খুচরো দেবেন। আমাদের অধিকার আমরা বুঝে নিতে পারবো। শুধু অকারণে ভয় পেয়ে আমাদের রাস্তায় পাথর, কাঁচ ছড়াবেন  না।
কি? ভয় পাচ্ছেন না! তাহলে এতো প্রতিবাদ কেন? কেন এতো নাকি কান্না, যে পুরুষ রা অত্যাচারিত অথচ তাদের জন্য কোনো আইন নেই! কি মনে হয়, যারা আইন প্রণয়ন করছেন তারা সবাই নারী, তাই তারা এ ধরনের একপেশে আইন রায় দিচ্ছেন অথবা তাদের স্ত্রী দের দ্বারা অনৈতিক ভাবে প্রভাবিত হয়ে এই রায় দিচ্ছেন?
অনেকে বলেছেন যে যৌন সুখ নাকি স্ত্রী পুরুষ সকলেই সমান ভাবে উপভোগ করেন, তাই যদি হয় তাহলে বৈবাহিক ধর্ষণ কথাটি এসেছে কেন? নাকি ওটাও মিথ্যা মন গড়া কথা।
অনেকেই বলেছেন স্ত্রী দ্বারা যৌন ভাবে পুরুষ রাও শোষিত হন! হতে পারে, কারণ ” এভরিথিং ইজ পসিবল ইন দিস হোরাশিও! ” তবে কজন পুরুষ মানুষ বিয়ের পর স্ত্রীর যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ছিন্নভিন্ন যৌনাঙ্গ নিয়ে, একটু পরিসংখ্যান দিন।
অনেকেই বলেন, মেয়েদের মেয়েরা যদি অর্থ নৈতিক ভাবে স্বাধীন হয়, তবে সে সন্তানের দায়িত্ব নিজেই নিতে পারবে, তার জন্য স্বামীর কাছে খোরপোষ চাইতে হবে না। ঠিক কথা? দারুন কথা। স্বামী ইচ্ছে মত ভোগ করবে, তার পর ইচ্ছে হলে ছুঁড়ে ফেলে দেবে সন্তান সহ। তখন সে মহিলা অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ব্যবহার করে নিজের এবং সন্তানের দায় বহন করবে। আর পুরুষ গায়ে হাওয়া লাগিয়ে, ঝাড়া হাত পা হয়ে ঘুরে বেড়াবে! কারণ মেয়েটি স্বাধীন সব দিক দিয়ে।
আর সন্তানের প্রতি মায়ের ভালোবাসা বা টান অনেক বেশি সে কে না জানে। তাই মা হয়ে সন্তান কে ছুঁড়ে যে ফেলে দেবে না, সে তো বলাই বাহুল্য।
সব শেষে একটা কথা। অনেকেই বলেন, মেয়েরা যদি অত ই সমানাধিকার চায় তাহলে চাকরি করা মেয়েরা কেন বেকার ছেলে কে বিয়ে করে না। কে বলেছে করে না বা করবে না। অনেক মেয়েই আছে বেকার ছেলে বিয়ে করে। কিন্তু সে ক্ষেত্রে ছেলেটি কি একজন হাউস ওয়াইফের মত সব সাংসারিক দায়িত্ব নেয়? সন্তান ধারণ না হয় বাদ ই দিলাম, কারণ সেক্ষেত্রে তার কিছু করার নেই, কিন্তু একজন গৃহবধূর মত সে কি খুশি মনে সব করে স্ত্রী কে শুধু চাকরির জন্য ছেড়ে দেবে?
আমার অভিজ্ঞতা কিন্তু উল্টো কথা বলে। বেকার ছেলেটি পায়ে পা তুলে বসে থাকে, হীনমন্যতায় ভোগে, প্রতি মুহূর্তে স্ত্রী কে নানাভাবে অপদস্থ করে, যেন স্ত্রীর কারণেই সে বেকার এবং তার সঙ্গে সঙ্গে দোষারোপ তো আছেই।
পরিণতি, হয় ডিভোর্স নয় তো চাকুরিরতা মেয়েটি সংসারের স্বার্থে সব মেনে নেয়। এ কিন্তু আমার নিজের চোখে দেখা পরিণতি।
তাই আমাদের ভাবতে হবে যে সমস্যা কিন্তু গোড়ায়। ছেলে মেয়ে নয় আসুন আমরা মানুষ তৈরি করি, তাদের বোঝাই শারীরিক গঠন বাদে ছেলে মেয়ে তে কোনো বিভেদ নেই, তা হলে হয়তো একশো বছর বাদে পরিস্থিতি বদলালেও বদলাতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top