এখনও ১০ টাকায় পুরো এক প্লেট বিরিয়ানি – সিদ্ধার্থ সিংহ

[post-views]
.
.

পুরানো ঢাকার ওয়ারিতে বনগ্রাম মসজিদের ঠিক নীচে পাওয়া যায় একটা গোটা ডিম-সহ পুরো এক প্লেট বিরিয়ানি। যার দাম শুনলে অবাক হয়ে যাবেন। হ্যাঁ, ওই এক প্লেট বিরিয়ানি দাম মাত্র ১০ টাকা।

আর এই দশ টাকা দামের বিরিয়ানির প্যাকেট যিনি সাপ্লাই দিচ্ছেষ তার নাম তানভীর। সবার কাছে যিনি ‘তানভীর ভাই’ নামেই পরিচিত।

আসলে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে নয়, পুরানো ঢাকার ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে এবং দরিদ্র শিশুদের মুখে একটু বিরিয়ানি স্বাদ পৌঁছে দেওয়ার জন্যই তাঁর এই উদ্যোগ।

এই বিরিয়ানির প্রধান ক্রেতা হচ্ছেন আশপাশের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকরা। তবে এই বিরিয়ানির এক প্লেটের দাম আসলে ৩৫ টাকা। কিন্তু তানভীর ভাই দিচ্ছেন মাত্র ১০ টাকায়।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তিনি কী ভাবে এই বিরিয়ানি ১০ টাকায় দিচ্ছেন? পোলাও এর চাল তা হলে কত নিম্নমানের? মুরগির মাংসটাও কি আসল? নাকি লটা ধরে রোগে আক্রান্ত হয়ে পোলট্রিতে মরা মুরগির মাংস দিচ্ছেন তিনি? এ বিরিয়ানি কি আদৌ স্বাস্থ্যসম্মত?

উত্তর দিয়েছেন স্বয়ং তানভীর ভাইই। তিনি বলেছেন, পুরানো ঢাকার কাপ্তান বাজার ঘুরে ঘুরে তিনি কমদামে পোলাওয়ের পুরনো চাল কেনেন। কেনেন মুরগির ‘ছাটকা’ মানে,‌ রোস্টের অংশ নেওয়ার পর যা বাকি থাকে, সেই অংশটা সংগ্রহ করেন তিনি। এই ভাবেই বিরিয়ানির মূল দুটো উপাদান তিনি সংগ্রহ করেন।

তানভীর ভাইয়ের এই বিরিয়ানি নিয়ে ফেসবুকে একজন লিখেছেন, কারও যদি ১০ টাকা দেওয়ার সামর্থ না থাকে, তা হলেও তানভীর তাঁর হাতে বিরিয়ানির প্লেট তুলে দেন।

কোনও শিশুর হাত থেকে যদি বিরিয়ানির প্লেট পড়ে যায়, তা হলেও তার হাতে নতুন প্লেটে বিরিয়ানি তুলে দেন তানভীর।

ওয়ারি এলাকার কর্মজীবী এক তরুণ বলেছেন, ‘কয়েক বছর ধরে এখানে বিরিয়ানি বিক্রি হতে দেখছি। বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিরিয়ানি পাওয়া যায়। সব সময়ই ভিড় থাকে।’

তিনি আরও বলেছেন, আমার মনে হয়, এই বিরিয়ানি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে কোনও রকম বিরূপ মন্তব্য বা সমালোচনা করার আগে এখানে এসে একবার বিরিয়ানি খেয়ে যাওয়া উচিত।

আপনার মতামত এর জন্য
[everest_form id=”3372″]
সিদ্ধার্থ সিংহ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top