এ যে আমার

ড. ময়ূরী মিত্র

ইংরাজী ভাষায় নিজের নাম লিখুন ।

 9 total views

একবছর আগে একটি বিয়েবাড়িতে নিজের মাকে এমন নিঃস্ব সাজতে দেখে চমকিত হয়েছিলাম | মনে হয়েছিল — সর্বসংস্কার মুক্ত এই দেবী কি আমার মা ? সে রাতে মাকে নিয়ে আমার নতুন অনুভবকথা লিখেছিলাম | নিজের লেখা মনে মনে পড়ার পর শব্দ গান হয়ে বাজছিল আমার কানে | আজ যখন একটি শিক্ষিত দেশে হাজার মানুষের ব্যাধিতে কমপক্ষে পাঁচটি চ্যানেলে জবাফুলে যজ্ঞ কিংবা জ্যান্ত মানুষের করলেখা পড়া চলে , লক্ষ শবদেহ মাড়িয়ে কুম্ভমেলার অনুমতি দেয় দুনিয়ার দেশপ্রেমিক সরকার তখন সেরাতের লেখাটি দিলাম সবার মাঝে । —–

জিও মা ! আজ বিয়েবাড়িতে তোমার সাজ দেখে আমি স্তম্ভিত | ডানহাতে একটিও চুড়ি নেই | পুরো ফাঁকা হাত | সে হাতে আমার দেয়া একটি ঝকঝকে রিস্টওয়াচ | নিয়ম করে শঙ্খ পলা কোনদিনই চড়াতে দেখিনি মাকে | ঘোমটা টানতেও দেখিনি | শুনেছি , আমার ইংরেজিশিক্ষিত ঠাকুরদামশাইয়ের বৌমার বউ বউ আচরণ নাপসনদ ছিল | ঠাকুরদা অশোকের যুক্তি ছিল — ঘোমটায় মুখ ঢাকা পড়লে বউ আকাশ দেখবে কখন ? বাতাসই বা নেবে কখন ? এ যুক্তি আজো আমাদের মা মেয়েকে চমৎকৃত করে রেখেছে | কিন্তু তাবলে মায়ের এমন ধু ধু ফাঁকা হাতও তো দেখিনি কখনো |
প্রথম খানিক অস্বস্তি লাগছিল | আড়ে দেখছিলাম মাকে | পরে সোজা তাকিয়ে মোহ জাগল — –বাহ রে ! মায়ের ফোলা ধবল হাতে শুধু ঘড়ি বেশ লাগছে তো | কপালে আছে কি নেই গোছের ছোট টিপ আর গায়ে ঢাকাই শাড়ি | no গয়না | —- সর্বরকম সংস্কারমুক্তি আমার মাকে আজ বড় সুন্দর করেছিল | — -এমনই বেহিসেবী সিদ্ধান্ত নিতে থাকো গো মা | হঠাৎ হঠাৎ বদলে যেও | জানো গো মা –রোজ একটি করে মুক্তো টুপটাপ আর টুপটাপ |

টাপুর টুপুর বৃষ্টি ঝরে আমার চোখে আজ | তোমায় দেখে নতুন ঝড়ে আমি
উড়ব মা | —-মাআআ

ছবি এঁকেছেন অতনু ঘোষ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *