কবিতা সমগ্র – ১

শহুরে প্রেম 

 শ্রী রাজীব দত্ত 

শহুরে প্রেম শ্রী রাজীব দত্ত

 

সুন্দরী তিলোত্তমা
উত্তর থেকে দক্ষিণ।
তোমার অপরূপ সৌন্দর্য
বেস্ততা ট্রাম লাইন, বড় বড় হোডিং ।
পুরনো ঐতিহ্য উত্তর দিক
নতুনের ছোঁয়ায় দক্ষিণ।
টানা রিক্সা, হকারদের হইচই
ব্যস্ত থেকে ব্যস্ততম প্রতিটা ক্ষন, প্রতিটা দিন।
বই পাড়া তে বইয়ের গন্ধ
কফি হাউসের আড্ডা।
দক্ষিণেতে বড় বড় শপিং মল
ঝকমক আলোতে সুসজ্জিত সন্ধ্যা।
ময়দানেতে শীতল বাতাস
মনুমেন্ট, ভিক্টোরিয়া।
কাবলি ছোলা, বাদাম ভাজা
নতুন প্রেমের ছন্দের মন প্রিয়া।
শহরটা জুরে কেবলই স্মৃতি আর আশা
তিলোত্তমা কলকাতা তুমি আমার ভালোবাসা।

অভিনব সূত্র  -  রঘুনাথ চট্টোপাধ্যায়

অভিনব সূত্র  –  রঘুনাথ চট্টোপাধ্যায়

চারদিকে জটিল চোখে তাকিয়ে আছে
জটিলা কুটিলার জটিল সংসার
অতএব একমুঠো জল মানে , মুঠো মুঠো জটিল অঙ্ক
গাণিতিক নিয়মে এক্স ওয়াই ধরে জল ভেঙে
প্রকৃত সূর্যোদয়ে‌ পৌঁছনোর কোনো পথ নেই
বরং ভেতরে গঙ্গা গীতা স্পর্শ করে
দক্ষিণ হস্তের পাঁচটি আঙ্গুলকে
চোখ বুজে পঞ্চপাণ্ডব রূপে ভেবে নিতে পারো
তারপর বুকের ওমে উষ্ণ করো মুঠি
বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে নিতে সেই মুষ্ঠিবদ্ধ হাত –
কৌরবনাশী ছন্দে অনায়াসে ছুঁতে পারে
ধর্মযুদ্ধের জয় পতাকা ……

এই অভিনব সূত্র‌ ধরেই প্রতিদিন দৃঢ় হই
মুঠো মুঠো অঙ্ক ভেঙে
যাপনের পাতায় লিখি উত্তরণের কবিতা ।

দশটি অন্তমিল

দশটি অন্তমিল

কলম-শম্পা সাহা

১) মুখোশ পরতে ভয় কি?
মুখোশই তো পরে আছি, নয় কি?

২) মরুভূমি হবে নদী
তুই ছুঁয়ে দিস যদি।

৩) তোর আঁচলে আমার আকাশ শাড়ির ভাঁজে নদী
শুনতে পেতিস জলের আওয়াজ আমি হতিস যদি।

৪) একটা চুমু ঠোঁটেতে খাই আর একটা তোর চোখে
অন্য একটা কপালে খাই বলুক যা খুশি লোকে।

৫) ঘামের গন্ধে বড্ড বমি পায়
শ্রমজীবী তবু দল বেঁধে আজও “উই শ্যাল ওভার” গায়।

৬) বেকারত্বের রেললাইনে রক্ত মাখানো রুটি
গ্রানাইটে পড়ে বেওয়ারিশ লাশ গণতন্ত্রের ছুটি।

৭) ঠোঁটের কোণে সিগারেট আর চোখের কোণে হাসি
তোর ই দ্ব্যর্থ রূপকে আমি বড্ড ভালবাসি।

৮) নামী কিংবা অনামী
সব স্বপ্নেরা দামি।

৯) লাশ টেনে নিয়ে যায় হূঁকে বুক ঠুকে
গণতন্ত্র অগ্ৰসর সামনে একটু ঝুঁকে।

১০) অশ্লীলতা পোশাকে নয় অশ্লীলতা চোখে
কেউ কেউ তাই শিশু শরীরেও যৌনতাই দেখে।

 

 

কবির বাসর মহীতোষ গায়েন

কবির বাসর –  মহীতোষ গায়েন

 

কবির মৃত্যু হলেও কবিতার কোন মৃত্যু হয় না,
কবিতার অনন্ত উড়ান চলে যায় অবলীলায়…
কবি আসে,কবি যায়,কবির নশ্বর দেহ পঞ্চভূতে
বিলীন হয়,কবিতা অমরত্ব পায় সংসার চরাচরে।

কবিতা লিখতে লিখতে কখন যে কবি হয়ে ওঠা
কবি নিজেও জানে না,জানে সমূহ সমাজ,জানে
লতাপাতা,ফুল পাখি ও নদী আর জানে ব‍্যথাদীর্ণ
মানুষ,সময়-অসময়,কাল-অবেলার নারী পুরুষ।

কবি মরে,কবি পোড়ে,কবি ডোবে,কবিতা থেকে
যায় সংগ্রামে,আন্দোলনে,একদিন প্রতিদিন সৃষ্টি
হয় ইতিহাস,কবি হাসে,কবি কাঁদে,প্রেমে বাঁচে,ও
প্রেমে মরে,বাসরে অম্লান কবি ও কবিতার ফুল।

পাঁচালী গান –– সুমিত মোদক

পাঁচালী গান  – সুমিত মোদক

 

আমাদের গ্রামে আজও শোনা যায় পাঁচালী গান ;
আশেপাশের পাড়া থেকে মা বোনেরা আসে
গান শুনতে ;
পাঁচালী গান …
সেই ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছে ফি বছর
শীতলার পূজার দিন  ভর দুপুরে গান বসে ;
পাঁচালী গান : শীতলার গান …
কি মনে হল , বহু দিন পর শুনতে গেলাম  ;
সেই চেনা ছন্দে , চেনা ভঙ্গিতে অভিনয় করতে করতে গেয়ে চলেছে মঙ্গলকাব্য কথা ;
তাদের মতো করে ;
আমার দক্ষিণবঙ্গের মতো করে ;
আগে দেখতাম আশেপাশের গ্রামে পাঁচালী গানের দল থাকতো ;
এখন আর দেখতে পাই না ;
এখন সেই লাট অঞ্চল থেকে , সেই  সুন্দরবন এলাকা থেকে
পাঁচালী দল ভাড়া করে আনতে হয় ;
এলাকার তপসিলি মানুষ গুলো আজও ধরে রেখেছে তাদের নিজস্ব পরম্পরা , সংস্কৃতি ;
পাড়া ঝেটিয়ে সকলে এসে হাজির হয় পূজা প্রাঙ্গণে ,
পাঁচালী গান শুনতে ;
বছর বছর ধরে একই গান , একই সুর , একই আছে ;
কেবল বদলেছে সংসারের চালচ্চিত্র , সুখ-দুঃখ …
কেবল বদলায়নি গ্রাম্য সংস্কৃতি ;
সেই ছেলেবেলা থেকে দেখে আসছি
আজও ,
পাঁচালী গানে সকল নারী চরিত্র গুলো আভিনয় করে ছেলেরাই ;
পাঁচালী দলের কম বয়সী মেয়েলী ছেলেটার বেশি কদর ;
সে সাজে শীতলা ;
মেয়েলী কন্ঠে কথা বলে , গান করে ,
পাঁচালী গান …
গানের শেষ সেই ছেলেটার সঙ্গে কথা হচ্ছিল ;
অভিনয়ের কথা , জীবনের কথা ,
সমাজের কথা ;
ধীরে ধীরে মেয়ে হয়ে ওঠার কথা …
কথা যেন আর শেষ হয় না ;
সে যেন আরেক পাঁচালী , আরেক পরম্পরা ।।

চৈতি চাঁদে

চৈতি চাঁদে – সুকান্ত মজুমদার

দূরত্বই যেন অপ্রকাশিত তুমি,

তোমার সম্মুখীন আমি, কিছুক্ষণ
এক অনবদ্য দীগন্তের শূণ্যতা।
মুষ্টিবদ্ধ আবেগ উড়িয়েছি
দৃশ্যমান অনুরাগের আকাশে
যেখানে তোমার শীতল মুখ স্থিত,
এক টুকরো সাক্ষাত জীর্ণতা হয়ে
অপ্র‌য়োজনীয় মুহুর্তের দিবালোকে
বসন্তের পরাকাষ্ঠায় তাচ্ছিল্যের ধুলো –
তারা ঝরে ঝরে পড়ছে
তোমার প্রত্যাগমনের উদাস দুপুরে
কথিত প্রেমের পলাশ পুরে,
দেখি একমনে নিমগ্নে রিক্তের উদ্যানে
তোমার নুপুর পরা পায়ের কাঞ্চন
তোমার চুলে উথলী কৃষ্ণচূড়া
ওষ্ঠাগত আবেশভরা আম্র মকুল,
সবাই সেই তেমনি ভালো আছে –
তাদের সাথে আমিও জড় বিন্যাসে
চৈতি চাঁদের আলে পথিক হয়ে

তোমার দূরত্ব মাপি সারারাত,অভ্যাসে।

জাগিও না ২২/০২/২০২১ রণেশ রায়

জাগিও না  -রণেশ রায়

এই কি সেই ঘুম চেয়েছিল সে !

উঠবে না আর, সে আজ চির শয়নে

ঘুমিয়ে থাকে চিরতরে আনন্দ লোকে,

শস্য খেতে শিরীষ এর মুখে

শিশির সিক্ত বোবা হয়ে তাকিয়ে,

সূর্য কন্যা মুখ লুকিয়ে চোখ মোছে

পূর্ণিমার জ্যোৎস্নার আলো আঁধারে,

সখ তার হয়েছিল বিদায় নেবার

তাই বুঝি  আনন্দ লোকে

আজের এই অস্তাচলে

আনন্দ বিহার তার

ঘুমায় এবার চিরতরে।

আশা ছিল ভরসা ছিল

ছিল তার সখ

ছিল বাঁচার সাধ

ছিল তার প্রিয়জন সব,

তাও কাল বৈশাখীর ঝড়ে

আমের মুকুল ঝরে পড়ে

শীতের ঠান্ডায় রাত ভোরে

গাছের পাতা ঝরে,

সে ঘুমায় আনন্দ লোকে

আজের এই অস্তাচলে

আনন্দ বিহার তার

জাগবে না আর

গভীর ঘুম তার চিরতরে।

এ কুঞ্জ বনে সেদিন রাতে

গুটিগুটি পায়ে পেঁচা এক

এসেছিল নীরবকে সাক্ষী করে

চাঁদ ফেরার অমাবস্যার রাতে

গাছের পাতার দোলায় সে দুলেছিল

ফুলের গন্ধে বাতাসের মিষ্ট সুবাসে

কার হাতের হিমস্পর্শে

ঘুমিয়ে পড়ে সে চিরতরে

আনন্দ লোকে

আজের এই অস্তাচলে

আনন্দ বিহার তার

আর জাগবে না সে।

সেদিন সুকন্যা ডেকেছিল তাকে

গভীর অন্ধকারে বিজনে বিহনে

যাবার ইচ্ছা হয় নি তার,

সুকন্যা ফিরে গেছে,

সেদিন ডেকেছিল তাকে  বার বার

এই কি ইচ্ছা ছিল তার

কোনোদিন উঠবে না আর

ঘুমিয়ে পড়ে চিরতরে

আনন্দ লোকে

আজের এই অস্তাচলে

আনন্দ বিহার তার

জাগবে না আর

গভীর ঘুম তার চিরতরে।

ঝাউ গাছের নিচে

বিশ্রামে শুয়ে ছিল সে

উট এসেছিল সেখানে

বাড়িয়ে দিয়েছিল পিঠ তার

তাও ওঠে নি সে

শুয়ে ছিল সেখানে

ঘুমিয়ে পড়েছে চিরতরে

আনন্দ লোকে

আজের এই অস্তাচলে

আনন্দ বিহার তার ।

সেদিন গ্রীষ্মের দহনে

নগ্ন শরীরে উপুড় হয়ে শুয়ে ছিল মাঠে

তিনদিন অভুক্ত খায় নি কিছু

তৃষ্ণার্ত খোলা চোখ তার

তাকিয়েছিল আকাশ পানে

মেঘ অশ্রু হয়ে নেমেছিল

দিয়েছিল জল তৃষ্ণা মেটাতে

তৃষ্ণা মেটেনি তার

সে শুয়ে ছিল মাঠে ওঠেনি আর

ঘুমায় সে আজ চির তরে আনন্দ লোকে

শান্তিতে ঘুমাক জাগিও না তাকে

আনন্দ বিহার তার

আজের এই অস্তাচলে।

বৃষ্টির পরবর্তী বৃত্তান্ত রঘুনাথ চট্টোপাধ্যায়

বৃষ্টির পরবর্তী বৃত্তান্ত  – রঘুনাথ চট্টোপাধ্যায়

বৃষ্টি হলেই দৌড়ে যাই তোমার প্রেক্ষাপটে
ঢলে পড়া সূর্যের চোখে তখন ভাতঘুম
নয়ত বা সূর্যাস্ত খুনে সন্ধ্যার প্রস্তুতি
কিম্বা এলোচুলে ছড়িয়ে পড়ে মহামায়া কালি
বৃষ্টি হলেই দৌড়ে যাই তোমাকে ভেজাতে
তোমার কর্ণ চির জাগ্রত শিক্ষক…..

বৃষ্টি হলেই দৌড়ে যাই তোমাকে ভেজাতে
ভেজাতে এসে দেখি, ডুবে আছো পৈতৃক টাটে
নিত্তি ধরে বয়ে যাচ্ছো বিকি কিনির পাতায়
কাঙ্খিত রোদে ভর্তি করছো কাঙ্খিত কলম
তোমাকে ভেজাতে এসে আমিই ভিজে যাই
তোমার যাপনের কীর্তনে…..

নির্মাণের ক্লাসে দ্ব্যর্থক তুমি সার্থক অলঙ্কার
জাত শিল্পী তুমি জাত রাঁধুনি
তোমার যে হাত যন্ত্র থেকে যন্ত্রাংশ চেনে
সেই হাতে কলমও কথা বলে অফুরন্ত রোদ্দুর
ভেতরে ভেতরে কাত হয়ে থাকলেও কেয়াবাত
ভাঙা-গড়ার নৈপুণ্যতায় তুমিও একটা নদী…..

প্রতিনিয়ত আমিও ভাঙতে ভাঙতে ছুটি
তথাপি জলের ভাঙা অলংকারগুলোকে
ঠিক তোমার মতো করে গালিয়ে পিটিয়ে ছাঁচে ফেলে
অসাধারণ কোনো নবজন্ম দিতে পারিনা
জল ভাঙতে ভাঙতে বিনা সিজারেই
বাচ্ছা দেয় আমার পোয়াতি কলম …..

একমাত্র অনাবৃষ্টির দিনগুলোতে
হাড়ে হাড়ে টের পাই বেহাল চাতকদশা
হালের পানি খুঁজতে খুঁজতে ঢুকে পড়ি
আল্লা মেঘ দে , পানি দে আখড়ায়
বৃষ্টি হলেই দৌড়ে যাই তোমার প্রেক্ষাপটে
নাইট্রিকের হলুদ ইতিহাসে নিখাদ হবো বলে ……।

আবার দেখা হবে চ‍্যাটার্জী অমল

 

আবার দেখা হবে  -চ‍্যাটার্জী অমল

হ্যাঁ, বন্ধুূ দেখা নিশ্চয়ই হবে,
সকালে ভিজে হাওয়ার তীক্ষ্ণ শীসের সাথে
চড়াই উৎরাই ভেঙে ধীরগতিতে এগিয়ে যাওয়া অজানা
কোনো পথের বাঁকে বা মাথার উপর জ্বলন্ত সূর্য রেখে
আকাশ ও দিগন্তের মাঝামাঝি কোনো এক জায়গায়,
যেখানে থাকবে উচ্ছ্বাস ঝাপানো সবুজ ক্ষেত বা মস্ত
বড় ময়দান । সূর্য ডোবার শেষ সাক্ষী হতে তুমিও এসো
বন্ধু, দেখা হবে।

ক্রীতদাস প্রেমের অবশিষ্ট আর কিছু হলুদ স্মৃতির
বোঝা কাঁধে আমি থাকবো সেখানে বুনো দীর্ঘশ্বাস
ফেলে।যে বিশ্বাস আমি কপাল ঠুকে খেয়েছিলাম,
বদহজমের বন্ধুত্তে তার মাটি হয়েছে অনুর্বর । সময়
তার পদচিহ্ন এঁকে গেছে শরীরের প্রতিটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গে।
শরনার্থীর মতো ভিড় করে আছে আমি কখনো দেখতে
চাইনি সেইসব স্বপ্নের টুকরো টুকরো কোলাজ। তাদের
মাঝে থেকো বন্ধু, নিবিড়ভাবে খুঁজলে পাবে নানান
অজানা কথার পটভূমি।

হ্যাঁ, সেদিন থাকবেনা বাহারি আয়োজনে স্মরণের
পিছুটান। সেদিন নতুন পাতায় ভালোবাসা বা বারুদের
নতুন অধ্যায়ে হবে হয়তো আর একটি গল্পের অধিবাস।
পৃথিবী যখন গোল তোমার সাথে আমার আবার দেখা
হবেই হবে বন্ধু পৃথিবীর যেকোনো ময়দানে ।

রোজনামচা মো: হাবিবুর রহমান খাবারটা পোড়া পোড়া, হাঁস না মুরগী মরা বুঝা যায় না, হলের জীবন শুরু পরাণটা দুরুদুরু ভাতে মজা পায় না। একটি রুটি ভাজা, রানটা তাজাতাজা, ছালাত তো দেখা যায় না, বোতল দেখছি কিছু তব সামনে পিছু, চেহারা চেনা যায় না। বিদেশের মাটিতে বাসায় বা গাড়িতে ব্যস্ত হাউসফুল ফেসবুকের পৃষ্ঠায় ইচ্ছা অনিচ্ছায় পোষ্ট করি ভুল-নির্ভুল। ফেসবুকের উছিলায় আজকের এ দুনিয়ায় যুক্ত থাকি যত পারি ভার্সুয়াল কানেকশন দূর হয় টেনশন ভালবাসি সন্দেহ ছাড়ি। আছেন ভাই বা ভাবীজান সামনে এগিয়ে যান দূরীভূত হোক অবিশ্বাস যে যেখানেই থাকি দিই না মনেরে ফাঁকি রাখি পরস্পরে বিশ্বাস। রচনাকাল: ২ মার্চ ২০২১ স্থান : আপনালয়, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা।

রোজনামচা – মো: হাবিবুর রহমান

 

খাবারটা পোড়া পোড়া,

হাঁস না মুরগী মরা

বুঝা যায় না,

হলের জীবন শুরু

পরাণটা দুরুদুরু

ভাতে মজা পায় না।

 

একটি রুটি ভাজা,

রানটা তাজাতাজা,

ছালাত তো দেখা যায় না,

বোতল দেখছি কিছু

তব সামনে পিছু,

চেহারা চেনা যায় না।

 

বিদেশের মাটিতে

বাসায় বা গাড়িতে

ব্যস্ত হাউসফুল

ফেসবুকের পৃষ্ঠায়

ইচ্ছা অনিচ্ছায়

পোষ্ট করি ভুল-নির্ভুল।

 

ফেসবুকের উছিলায়

আজকের এ দুনিয়ায়

যুক্ত থাকি যত পারি

ভার্সুয়াল কানেকশন

দূর হয় টেনশন

ভালবাসি সন্দেহ ছাড়ি।

 

আছেন ভাই বা ভাবীজান

সামনে এগিয়ে যান

দূরীভূত হোক অবিশ্বাস

যে যেখানেই থাকি

দিই না মনেরে ফাঁকি

রাখি পরস্পরে বিশ্বাস।

 

রচনাকাল: ২ মার্চ ২০২১

স্থান : আপনালয়, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা।

গোপনসঞ্চারী মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ

গোপনসঞ্চারী  – মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ

নগ্ন হাতের তালুতে
মিহি রোদের অনন্য হাসির রঙলেপা
সুখের উঠোন,
ছিলো একমাত্র অন্ধকার বন্যতা
চায়না রাণীর বিনম্র অপলক চোখে

কহর পড়া ভবিষ্যৎকাল নিয়ে
রচনা লিখেছি নিতাই পণ্ডিতের স্কুলে
নড়বড়ে বেঞ্চে বসে

কাঁদানেগ্যাস দিয়ে ঠেকাতে ঠেকাতে একদিন
শ্যাওড়াতলার পাবলিক বাসের মতো ভূতটা
গায়েবী বাণিজ্যের সুটকেস খুলেছে

স্টীমরোলারে রুটিরুজি,
চাপা পড়া কারখানার
বিদ্রোহী চাকার দায়বদ্ধ শরীর
অপারেশন টেবিলে কোটিটাকার ডাক্তারি
দেখে স্বপ্নবাজ চায়না রাণী

শ্বেতকবুতর কই,আমার শ্বেতকবুতর–
ধূসর বেলার সর্বশেষ মৃতফুলটা
নিয়ে যাও

কবিতা-খেলাঘর কলমে-নিবেদিতা চক্রবর্তী

কবিতা-খেলাঘর –  কলমে-নিবেদিতা চক্রবর্তী

 

সংসারের এই খেলাঘরে

মাটি পুতুলখেলায়

দুঃখে সুখে আনন্দেতে

ভাসি জীবন ভেলায়।

দায়িত্ব আর ভালোবাসায়

গড়ি যতন ভরে

সংসার সাজিয়ে তুলি

স্বার্থকে ত্যাগ করে।

সুখে যেন থাকে সবে

তারই প্রচেষ্টাতে

ব্যস্ত থাকি নিজের কথা

আসেনা ভাবনাতে।

ক্রমে ক্রমে বয়স বাড়ে

ক্লান্ত ও হই শ্রমে

দেবার সাথে সাথে কিছু

না পাবার খেদ জমে।

অভিমানে মাঝে মাঝে

অনেক কষ্ট পাই

ভাবি মনে সংসারে কি

আমার দামটি নাই?

যখন দেখি সুখে সবে

আছে হাসি মুখে

অপার তৃপ্তি পাই আমি

আমার সৃষ্টি সুখে।

কী দিলাম আর কী বা পেলাম

লাভ কী হিসেব কষে

জীবন সায়াহ্নে আজ

ভাবি তা-ই বসে।

সুখে থাকুক প্রিয় জনে

অন্তর তো সেটাই চায়

খেলা শেষে ফিরতে হবে

এবার আপন কুলায়।

মাথা উঁচু রাখো রতন বসাক

মাথা উঁচু রাখো – রতন বসাক
ভাবছো কেনো সবাই সমান
এই সমাজের বুকে,
বুঝতে পারবে আসলটা কি
একটু দেখো ঢুকে।
এমন কাজটা করার জন্য
ভাবো নিজে মন্দ,
তার কারণেই তোমার মনে
চলতে থাকে দ্বন্দ্ব।
নারী তুমি তোমার শ্রমটা
করো কারো জন্য,
মনে রেখো সেই অর্থতেই
হচ্ছে তারা ধন্য।
লজ্জা ঘৃণা অার করো না
মাথা উঁচু রাখো,
নিজের কাজে গর্ব করেই
নির্ভয়েতে থাকো।
মানুষ তুমি নারীর রূপেই
চিন্তা ফেলে হাসো,
নিজেকে তাই একটু বেশি
আগে ভালোবাসো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top