কল্প ববিজ্ঞানের গল্প – আষাঢ়ে কল্প গল্প – সুদীপ ঘোষাল

 [post-views]

 [printfriendly]

নাথ হঠাৎ গায়েব হয়ে গেলো ।ওকে আর কেউ দেখতে পাচ্ছে না । ঘুরছে ফিরছে কথা বলছে কিন্তু দেখা যাচ্ছে না ।
নাথের বাবা মা হাত পা ছড়িয়ে কাঁদতে বসেছে ।

——আমার ছেলের কি হলো গো, ওকে কি করে ফিরে পাব গো?
তাদের কান্না শুনে প্রতিবেশী রাও খুব মর্মাহত ।
নাথ এমনিতে ডাকাবুকো ধরনের ছেলে । অদৃশ্য হওয়ার সুযোগ সে পুরোপুরি কাজে লাগাতে চায় । তার বাবা মা ভয় পেলে কি হবে, সে কিন্তু মোটেও ভয় পায় নি । সে গ্রামের সুদখোর মহাজনকে জব্দ করতে চায় ।

গ্রামটির নাম চড়খী । পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে অজয় । কত রকমের গাছ পালা পাখি জীবজন্তুর সমাবেশ । দেখলে মন প্রাণ জুড়িয়ে যায় ।
এই রকম একটা গ্রামে অদৃশ্য নাথ অদৃশ্য হওয়াতে এলাকার মানুষের কৌতূহলের সীমা নাই ।নাথের বন্ধু রা সবাই খুব খুশি ।তারা অতশত বোঝে না । এবার কিছু শয়তান লোককে জব্দ করা যাবে এই আনন্দে তারা মশগুল ।সুদখোর মহাজন তখন বারান্দায় বসে টাকা গুনছে ।এমন সময় কার গলার আওয়াজে মহাজন ভয় পেয়ে চমকে উঠলো,আপনি কে কথা বলছেন?

—–+আমি তোর যম । এখনি তোকে তোর টাকা সমেত উড়িয়ে নিয়ে গিয়ে অজয়ের জলে ফেলবো ।
——আপনাকে দেখতে পাচ্ছি না ,আমার কি অপরাধ বলুন ।
——ভূত দেখা যায় নাকি?গরীবের রক্ত খেতে খেতে মগজটাও গেছে নাকি?
——না না বলুন, আপনি যা বলবেন তাই করবো ।

——তবে যা গরীব গ্রামবাসীদের টাকা, জমির দলিল ,সোনা সব ফেরত দিয়ে আয়। এর অন্যথা হলে ঘাড় মটকে মেরে অজয়ের বালিতে পুঁতে ফেলবো ।আমি তোর পিছনেই আছি ।

সবাই দেখছে সুদখোর কমল বাবু সকলের সাথে খুব ভালো ব্যবহার করছেন । দলিল, সোনা দানা সব ফেরত দিয়ে দিচ্ছেন ।কেন , সে খবর সবাই জানে না । জানে শুধু তার বন্ধু স্ব জন রা ।যখন খাওয়ার সময় হয় তখন বাড়িতে আসে । বাবা মার সাথে কথা বলে ।মায়ের মন কেঁদে ওঠে ।
—–+কখন তোকে দেখতে পাবো সোনা ।

—— ঈশ্বরে ভরসা রাখো মা । আমরা কারও কোনোদিন অমঙ্গল চায় নি ।আমাদেরও অমঙ্গল হবে না । মা আবার সব ঠিক হয়ে যাবে দেখো একদিন ।

কিছু সবজান্তা গোছের লোক চিরদিন আছে । তারা বলে অই ছেলেটি মরে গিয়ে ভূত হয়েছে । সবাই সাবধানে থাকবি । আর কাছাকাছি এলে আগুন নিয়ে চারদিকে ঘুরবি ।ভূত আগুন দেখলে ভয় পায় ।

এখন নাথের মন ভালো নেই । প্রায় ছয় মাস হয়ে গেলো মা কান্নাকাটি করছেন। সে ঠিক করলো অমলদাকে সব খুলে বলবে ।

অমলের বাড়ির কাছে এসে সে দেখলো অমলদার মেয়ে ঘরে একা আছে ।একটি লোক কোনো খারাপ উদ্দেশ্যে ঘরে ঢুকেছে । অদৃশ্য নাথ তার চুলের মুঠি ধরে ঘোরাতে লাগলো ।লোকটি ভূত ভূত বলে চিৎকার করতে লাগলো ।সবাই এসে দেখলো একটা লোক চরকীর মতো পাক খাচ্ছে । আর কাউকে দেখা যাচ্ছে না । সবাই কর জোড়ে নমস্কার জানালো অদৃশ্য শক্তি র উদ্দেশ্যে ।

এবার অমল দা এসে গেছেন । মেয়েকে জড়িয়ে ধরে বললেন, তোর মা থাকলে এই একাকীত্ব তোর থাকত না ।আজ ভগবান তোকে রক্ষা করেছেন ।

হঠাৎ অমল বাবু শুনলেন এক অদৃশ্য মানুষ কথা বলছে। সে বলছে, অমল দা আমি নাথ, আমি অদৃশ্য হয়ে গেছি ।
অমল বাবু বলছে । ওনারা কথা দিলেন ।
অমল দা নাথ কে বাড়ি গিয়ে ঘুমোতে বললেন ।

ঠিক পরের দিন বিকাল চার টের সময় অমলদার বাড়িত চলে এলেন পরিবেশ বিজ্ঞানী রা। নিজেদের সদিচ্ছায় সারা বাংলার কুসংস্কার দূর করার ব্রতে সাহসী পদক্ষেপে এগিয়ে চলেছেন ।

এবার অমল বাবু কে সঙ্গে নিয়ে ওনারা ঠিক ছ’টার সময় নাথের বাড়িতে হাজির হলেন ।একটা ঘরের মধ্যে ঢুকে নাথ কে জিজ্ঞাসা করলেন নাথ তুমি যেদিন প্রথম অদৃশ্য হও সেই ঘটনার পুরোপুরি বর্ণনা দাও।

নাথ বলতে শুরু করলো, আমি অজয়ের ধার দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে যাচ্ছিলাম । সামনে একটা কাঁচের টুকরো দিয়ে গড়া মালা দেখতে পেলাম ।কিছু না ভেবেই আমি মালাটা পড়ে নিলাম । তারপর প্রায় দু ঘন্টা পরে আমি বাড়ি ফিরি । খেতে চাইলে মা অবাক হয়ে বলেন, তোকে দেখা যাচ্ছে না কেন? মায়ের প্রশ্ন শুনে আমার সব কি ছু গুলিয়ে গেলো ।আর কিছু আমার মনে নেই ।

সবাই চুপ ।চিন্তা করে চলেছেন বিখ্যাত পরিবেশবিদরা ।প্রথমে মুখ খুললেন সবার প্রিয় গোয়েন্দা সৈকত।তিনি বললেন, নাথ আমার হাত টা ধরো । আমি তোমাকে দেখতে পাচ্ছি না কিন্তু তুমি পারছো। নাথ বললো ,ঠিক আছে । আমি আপনার হাত ধর লাম । নাথের গলার কাছে হাত নিয়ে গিয়ে ধীরে ধীরে মালাটা খুলে নিলেন ।এবার নাথ দৃষ্টিগোচর হয়েছে ।

সবাই একসাথে বলে উঠলো ,কই সৈকত দা কে দেখা যাচ্ছে না কেন? দি বললেন, আপনারা চুপ করে বসুন । সব প্রশ্নের উত্তর আমি দেব ।তারপর সৈকত দাকে বললেন,আপনি মালাটা কাঠের বক্সে রাখুন । একজন খুঁজে নিয়ে এসে তার মধ্যে রাখলো ।এবার দাদাকে দেখা যাচ্ছে ।
সবাই প্রশ্ন করছে ,এটা কি সম্ভব । একটা মানুষ কিভাবে অদৃশ্য হতে পারে । এটা নিশ্চিত ভৌতিক কান্ড ।

রাশ ভারি মহিলা । তিনি গম্ভীর হয়ে বললেন,না এটা কোনো ভৌতিক কান্ড নয় ।এটা বিজ্ঞানের বিষয় । কোনো এক কল্প বিজ্ঞানী বলেছেন , যখন মানুষের প্রতিসরাঙ্ক বায়ুর সমান হয়ে যায় তখন মানুষ অদৃশ্য হতে পারে ।

একজন বললো, কি করে প্রতিসরাঙ্ক কম বে ।

দিদি বললেন , এটা জটিল প্রক্রিয়া । এসব এখানে বোঝানো যাবে না । এর জন্য বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি প্রয়োজন ।
এই যে কাঠের বক্সে মালাটি আয়নার টুকরো দিয়ে তৈরী । এটি আলোক রশ্মি বিচ্ছুরণ করে এবং প্রতিসরাঙ্ক কমিয়ে দেয় ফলে বাতাসের মত মানুষ অদৃশ্য হয়ে যায় ।এটা ভৌতিক ব্যাপার নয় । যান সকলে বাড়ি গিয়ে খেয়ে নিন ।রাত এগারোটা বাজে । আমরা এই কাঁচের মালাটি কোলকাতা যাদুঘরে জমা দিয়ে দেবো ।
তারপরে সবাই খুশি মনে দাদাকে নমস্কার জানিয়ে বাড়ি চলে গেলো ।

তারপর কেটে গেছে অনেক দিন।

আমি গ্রামের ছেলে । আমাদের গ্রামের নাম বড় পুরুলিয়া । বাবার চাকুরী সূত্রে হাওড়া জেলার লিলুয়ায় তিরিশ বছর কেটেছে । এখন গ্রামের একটা হাই স্কুলে শিক্ষকতা করি । সকালে একদিন পায়চারী করছি মাঠে । কত রকমের গাছ, পাখির ডাক ভোরবেলাকে মনোরম করে তুলেছে ।হঠাৎ একটা পনের ষোলো বছরের ছেলে বাঁচাও বাঁচাও বলে চেঁচাতে চেঁচাতে আমার কাছে এসে চেতনা হারিয়ে ফেললো । আমি সামনের পুকুর থেকে গামছা ভিজিয়ে এনে ছেলেটির চোখে মুখে জল ছিটিয়ে দিলাম । কিছুক্ষণের মধ্যেই ছেলেটির চেতনা ফিরে এলো । আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম——কি রে কি হয়েছে । ভূত দেখার মতো ভয় পেয়ে গে লি কেন?

—– কাকু ভূতের থেকেও ভয়ংকর প্রাণী ।
——– বলিস কি,কেমন দেখতে?
——-অজগর সাপের মতো ।
আমি ছেলেটিকে অভয় দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিলাম ।

পরের দিন রাতে দুজন লোক বোধহয় মল ত্যাগ করতে বনের ভিতর গিয়েছিল তাদের অবস্থাও একই রকম । খবর নিতে গিয়ে দেখি মহা গন্ডগোল । সবাই লোক দুটিকে বকাবকি করছে বনে কুকর্ম করার জন্য। আমি লোক দুটিকে বললাম—-দেখছো না সাইনবোর্ডে লেখা আছে, মাঠে ঘাটে পায়খানা, মৃত্যুর. পরোয়ানা । যাও আর কখনও কুকর্ম ।আমাদের অনেকটা সাহস বাড়লো ।তারা আগামী কাল আসবেন ।

গ্রামে উত্তেজনা চরম । একটা রহস্য ছায়া সবাই কে চুপ করিয়ে রেখেছে। কি আছে এই সর্দার পাড়ার জঙ্গলে ।

সকালবেলা সবাই কালীতলায় হাজির । ঠিক হলো ওনাদের আনার জন্য গাড়ী যাবে কাটোয়ায় । ওনারা থাকবেন আমার বাড়িতে । খুবই আনন্দ হচ্ছে । বুক ঢিপঢিপ চাঁদের পাহাড় । কখন আসবে সেই অপেক্ষার মুহূর্ত ।

ঠিক দুপুর একটা নাগাদ ওনারা চলে এলেন । খাওয়া দাওয়া করে একটু বিশ্রাম নিলেন সৈকতদা কে সমস্ত কথা খুলে বর্ণনা করা হলো ।দাদা বললেন —– আমরা সবাই বিকাল চারটের সময় সর্দার পাড়ার জঙ্গলে যাবো । হলেন ।
ঠিক চার টের সময় লাঠি হাতে সাহসী গ্রামবাসী ও আমরা তিনজন রওনা হলাম জঙ্গলে র দিকে ।

বললেন, কেউ চিৎকার চেঁচামেচি করবেন না ।আপনারা সবাই দাঁড়ান ।সুদীপ বাবু আসুন ।
আমি ভয়ে ভয়ে ওনাদের পিছনে ।জঙ্গলের ভিতর ঢুকে জয়ন্ত দা বললেন, দেখুন দেখুন কি সুন্দর প্রাণী । হৈমন্তী দি জাল আনতে বললেন । ভাদু জেলে সঙ্গে সঙ্গে জাল ফেলতে লাগলো । একটার পর একটা জালে জর্জরিত হয়ে প্রাণী টি কা হিল হয়ে পরলো । একটা ঘুম পাড়ানি গুলিতে ঘুম পাড়িয়ে দিলেন প্রাণী টিকে ।পনের কুড়িজন টানতে টানতে কালীতলায় । সবাই অবাক । এবার পরিবেশ বিজ্ঞানী হৈমন্তী দি সবাই কে চুপ করে বসতে বললেন ।তিনি বললেন, ওড়িশার সুন্দর গড় জেলার বোনাই ফরেস্টে এই প্রাণী দের বাস । এরা গিরগিটি প্রজাতির । ওজন সত্তর কেজি থেকে দুই কুইন্টাল হতে পারে ।ছোটো হরিণ এদের প্রিয় খাদ্য । দেহ অজগর সাপের মত। সামনে পিছনে পা আছে ।এরা নিজেদের রং পাল্টা তে পারে ।বড় বন্যা হলে এরা ভেসে অনেক দূরে চলে যায়। ক্ষিদের সময় খাবার না পেলে এরা নর খাদক হয়ে যায়। আমরা প্রাণী টিকে বন দপ্তরে পাঠিয়ে দেব । আপনারা এখন বাড়ি চলে যান।

জয়ন্ত দা বল লেন ,এর ঘুম ভাঙতে এখন বারো ঘন্টা লাগবে । চলুন একটু ফাঁকা মাঠে ঘুরে আসি ।

স্টেশনে নেমে জুঁইতা গ্রামে আমার মামার বাড়ি ।গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে বক্রেশ্বর নদী ।গাছে গাছে সাজানো গ্রাম ।

আমি মামার বাড়িতে এলে একমাস থাকি । আসার দুই দিনের মধ্যেই জানতে পারলাম বুড়ো বটগাছতলায় একটি লোক একমুখ দাড়ি নিয়ে নানা রকমের বিস্ময়কর কাজ করে দেখাচ্ছে। হাত থেকে আগুন বের করে দেখাচ্ছে। প্রচুর লোক তাকে দেখতে আসছে ।
আমি একটা লোককে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কি আশায় ওখানে যাচ্ছেন।
____ আরে দাদা, উনি মহাপুরুষ , উনি যা বলেন তাই হয় ।

——কি রকম, একটু ভেঙ্গে বলুন ।

——–একটো ঘটি আছে । ঘটিটো থেকে জল ছিটিং দিছে আর তারপর যা বঁলছে তাঁই হচে ।

বীরভূম জেলার ভাষা এইরকমই । শুনতে বেশ ভালো লাগে ।

আমি পিছনে পিছনে কথা বলতে বলতে মহাপুরুষের কাছে গেলাম । দেখলাম অনেক লোক লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন ।

একজন এগিয়ে গিয়ে বললেন, আমার ভবিষ্যৎ একটু বঁলে দেন কেনে ।
মহাপুরুষ তার সঙ্গীকে বললেন, এর সঙ্গে কথা বলে ওর অসুবিধা আমাকে লিখে পাঠা ।

মহাপুরুষের প্রায় দশজন সঙ্গী । গ্রামের আদিবাসী পাড়ার কয়েকজনকে বশ মানিয়ে নিয়েছে ।বেশ ভালো রকম আয় হচ্ছে তার ।

একটি তরুন এগিয়ে এসে বললো, এই ফোর জি র যুগে চিটিং বাজি ।বেটা দেবো তোমার ব্যবসা গুটিয়ে ।

মহাপুরুষ রেগে বলে উঠলেন ,তোর ফোর জি তে ঝুল জমবে । আমার অভিশাপ বারো ঘন্টার মধ্যে তোর বিপদ হবে ।

তরুণ টি বলে উঠলো, শোনো নি ফাইভ জি চালু হয়েছে অনেক দেশে । তোমার চিটিং বাজি চলবে না ।

পাঁচ ঘন্টার মধ্যে শোনা গেলো তরুণ টি মোটর সাইকেলের ধাক্কায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ।

মন টা খুবই খারাপ হয়ে গেলো । সরল মানুষ গুলিকে এরা ঠকিয়ে যাচ্ছে দিনের পর দিন । ক্লান্ত হয়ে বিছানায় ঘুমিয়ে পড়লাম ।

তখনও ঘুম থেকে উঠিনি ।সাত সকালে উঠেই ঢোলের আওয়াজ । গ্রামের দিকে খুব ভালো খবর ঢোল বাজিয়ে প্রচার করা হয় ।

শুঁনুন শুঁনুন মন দিয়ে শুনুন আগামী কাল বুড়ো বটতলায় শিব উঠবে ।আঁপনারা সবাই যাবেন , সবার সাঁ মনে এই ঘটনা হবে,মহাপুরুষ বলেছেন ।

আমি চমকে উঠলাম । তার সব চালাকি আমি বুঝতে পেরেছি । কিন্তু সবার সামনে শিব উঠবে কেমন করে?

বুঝতে পারছি না । মনে পড়লো র কথা । ফাইভ জি যুগের বুদ্ধিমান তরুণ তরুণী । কে আনতে পারলে আর ভয় নেই । ফোন নাম্বার কাছেই ছিলো । আগামী কাল সকালে আসবেন দুজনে ।

বেশ আরামে ঘুম হলো আজকে ।আনন্দ হচ্ছে আজকেই ভন্ড , ঠগটির শেষ দিন ।

ঠিক বারোটার মধ্যে ওনারা চলে এলেন । খাওয়ার পরে একটু বিশ্রাম নিলেন। ঠিক পাঁচটার সময় মহাপুরুষের ভানুমতীর খেল শুরু হবে ।

বুড়ো বটতলায় প্রচুর ভীড় ।লোকে লোকারণ্য । মেলা বসার পরিবেশ । কিন্তু তিনি জানেন না ফাইভ জি রা এসে গেছেন তার অজান্তে ।

শুরু হলো ভানুমতীর খেল । হ্যাঁ সত্য কথা শিব উঠছেন মাটি ফুঁড়ে ।সবাই জয়ধ্বনী দিচ্ছেন ।টাকার পরিমাণ প্রচুর ।কুবেরের ধন ।
তারা বন্দুক ধারী দুজন পুলিশ কে বললেন কিছুটা জায়গা ফাঁকা করার জন্য। পুলিশ দেখে সবাই সাবধান হয়ে গেলোবললেন আপনাদের বিশ্বাস কে আমরা সম্মান করি । কিন্তু একজন ফ্রড চালাকি করে মানুষের অসম্মান করবে এটা কি আপনারা চাইছেন ।

সকলে সমস্বরে বললেন, না না আমরা সত্যি ঘটনা জানতে চাই । আপনারা বলুন ।বললেন, বেশ কয়েকমাস ধরে এই লোকটি ঠকিয়ে যাচ্ছে ।
ভন্ডের দালালগুলো একে হেল্প করতো ।

একজন বললো, কি করে মাটি ফুঁড়ে জিনিস টা বেরিয়ে এলো ।আমাদের বলুন তারপর আমরা দেখে নেবো ।
জয়ন্ত দা বললেন, না না আইন আপনারা কখনও নিজের হাতে তুলে নেবেন না ।এরজন্য পুলিশ আছেন বলতে শুরু করলেন, এটা একটা হাল্কা প্লাস্টিকের তৈরী শিবলিঙ্গ ।

এবার মাটি দেখুন ঝুরঝরে করা হয়েছে ।
মাটির তলায় দেখুন দশ কেজির বেশি অঙ্কুরিত ছোলা । সবাই মার মার চিৎকার. করছে ।

দিদি বলছেন, আপনারা মন দিয়ে শুনুন । ছোলাগুলি প্রথমে ভিজিয়ে রাখা হয়েছে । তারপর কিছু দিনের মধ্যে ছোলার অঙ্কুরোদ্গম হয় ।একসঙ্গে এত গুলো ছোলা অঙ্কুর বের হওয়ার সময় মাটির তলায় উর্ধ্ব চাপের সৃষ্টি করে ।ফলে হাল্কা প্লাস্টিকের তৈরী শিবলিঙ্গ ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসে ।
এরপর সবাই বুঝতে পারে জলের মত ব্যাপারটি ।পুলিশের নির্দেশ মেনে সবাই চলে যায় । প্রতারক লোকটিকে সদল
বলে পুলিশ ধরে নিয়ে যায় ।

গ্রামের লোক মহানন্দে জয়ধ্বনি দেয় , ফাইভ জি জিন্দাবাদ ।

কত বাগানে , পুকুর পাড়ে, জঙ্গলে ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসে ।পড়াশুনায় সে খুবই ভালো । কিন্তু সবকিছু বিশ্লেষণ করে জানার ইচ্ছে তার ছোটো থেকেই । রাউন্দী গ্রামের সবাই তাকে ক্ষুদে বৈজ্ঞানিক নামেই ডাকে ।

রাউন্দী পাশেই শ্রীরামপুর গ্রামে সৈকত বেড়াতে এসেই সবুজ গাছের তলায় কাঁদরের ধারে বসে পড়লো । ছোটো নদীকে গ্রামবাসী কাঁদর বলে থাকেন ।

হঠাৎ সৈকত দেখলো একটা বড়ো ডানায় ভর করে হেঁটে চলেছে অদ্ভুত প্রাণী টি । মানুষের মতো পা আর মাথা বড়ো গামলার মতো মোটা ।প্রাণীটি কে দেখে সৈকত ভয় পেয়ে গেলো । ও পালাতে গেলো । কিন্তু তার আগেই প্রাণী টি মানুষের রূপ গ্রহণ করলো ।তারপর সৈকত কে বললো, আমার সাথে বেড়াতে যাবে ।

সৈকতের ভয় কেটে গেলো । সে বললো, হ্যাঁ যাবো ।
তারপর সৈকত কে নিয়ে উড়ে চলে গেলো কলকাতার দিকে ।

সৈকতের মা সোমা ছেলেকে খুঁজে পেলেন না কোথাও । থানায় গিয়ে বললেন । থানা থেকে মোবাইল নাম্বার নিয়ে ফোন করলেন ।

থানার অফিসার বললেন, আমরা গতকাল দুজন মানুষকে উড়ে যেতে দেখেছি । তাই আমাদের ওপর ভরসা না করে কিশোর মনোবিজ্ঞানের সহ সম্পাদ কে খবর দিন । একমাত্র তারাই আপনার ছেলের সন্ধান দিতে পারবেন ।ফোনে সব শুনলেনন । তারপর জানালেন তারা রাউন্দী গ্রামে আসছেন ।

বারো ঘচলে এলেন । তারা সৈকতের মাকে বললেন, ভয় পাবেন না । আমরা আছি আপনার পাশে ।

মা বললেন, তাহলে ভূতই একমাত্র উড়তে পারে ললেন, তাহলে ভূত তো দেখা যায় না । তারা অশরীরী । এসব নয় । ভূত বলে কিছু হয় না ।

এবার জলসকালে উঠে গেলেন কাঁদরের ধারে । তানিম গাছের তলায় ।

সৈকত সায়েন্স সিটি ঘুরে ঠিক নিম গাছের কাছেই প্রাণী টির সঙ্গে নেমে পড়লো । এখন আর প্রাণী টি কে দেখা যাচ্ছে না ।

লোকজন দেখে ও গা ঢাকা দিয়েছে । সৈকত কে হঠাৎ নামতে দেখে দা বললেন, তুমি হঠাৎ কোথা থেকে ধূমকেতু র মত এলে । বললেন, তোমার নাম কি ?

____আমার নাম সৈকত ।

____তাহলে তুমিই গতকাল উড়ে উড়ে যাচ্ছিলে ।

_____না না আমি নয় , আমাকে নিয়ে অই কাকু সায়েন্স সিটি ঘুরিয়ে আন লেন ।

_____আবার কখন আসবেন তোমার কাকু ।

__কানে কানে সৈকত, কাকু আসার পাশ ওয়াবললেন, বেশ এখন চলো আমরা তোমার মায়ের কাছে যাই ।

সোমা ছেলেকে ফিরে পেয়ে মহাখুশি । সোমার দাদু গ্রামের সবাই কে মিষ্টি খাওয়ালেন । সৈকতের ঠাকুমা দিদি কে নিয়ে নিজের বাড়িতে রাখলেন ।

বেশ কয়েকদিন হয়ে গেলো সৈকত ও হৈএই গ্রামে আছেন । হঠাৎ দিদি বললেন, নাপিত পাড়ায় একজনকে ডোমনা চিতি সাপে কামড়েছে । আমি অই পাড়ায় এতক্ষণ ছিলাম ।

সৈকত সঙ্গে সঙ্গে অই পাড়ায় ছুটে গেলেন । তারপর সৈকতের কাছে শোনা পাশ ওয়ার্ডটি বললেন । এক সেকেন্ডে র মধ্যেই অদ্ভুত প্রাণী টি মানুষের রূপে এসে সবুজ গাছের শিকড় ঘষে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই রোগীর জ্ঞান ফিরিয়ে আন লেন ।

তার পর তার চোখ গেলো সৈকত ও জয় র দিকে ।

জয়ন্ত দা বললেন, আপনি কোন গ্রহের প্রাণী ।

_____এক অচেনা গ্রহ টাঙ্গোটুরি থেকে আমি এসেছি ।

_____পৃথিবীর সব ভাষা আপনার করায়ত্ত

____হ্যাঁ, ভাষা নিয়ে গবেষণা করতেই আমার এখানে আসা । যে কোনো প্রাণী র রূপ গ্রহণ করতে পারি । মানুষের থেকে একশ গুণ বুদ্ধিমান আমরা ।

____আপনার খাওয়া শোয়া কোথায় হয়?

____আমরা বছরে একবার খাই, ছয়মাসে
একদিন ঘুমাই । সারা বিশ্ব আমাদের ঘর বাড়ি ।

এই কথা গুলি বলে উড়তে উড়তে প্রাণী টি সবাই কে নমস্কার করে বিদায় নিলো । বললেন, ওরা সারা বিশ্ব ঘুরে বেড়ায় । এক জায়গায় বেশিদিন ওরা থাকে না ।

সৈকত জিজ্ঞাসা করলো, কি করে ওরা বাংলা বলছে? দা বললেন, ওদের মগজ টেকনোলজি খুব উন্নত । যে কোনো ভাষা ওরা কয়েক মিনিটের মধ্যেই শিখে ফেলে ।

ওদের দেশ ভাগ নেই । কোনো জাতের ভেদাভেদ নেই । ওরা এক জাতি এক জীবন ।

বন্ধু বললেন, ওদের কাছে মানুষের শেখা উচিত একতার বাণী ।

সুদীপ ঘোষাল
সুদীপ ঘোষাল

নন্দনপাড়া

খাজুরডিহি

পূর্ব বর্ধমান ৭১৩১৫০

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top