কালো ভ্রমর – অমিতাভ মুখোপাধ্যায়

– 

[post-views]

আজ থেকে প্রায় চল্লিশ বছর আগে সুদীপার সঙ্গে দেখা হয়েছিল অমলের. দুজনেই তখন কলেজে পড়ে. সুদীপা গরীব অথচ মেধাবী.দেখতে সুন্দরী কিন্ত রং টা কালো বলে বন্ধুরা তাকে কালো ভ্রমর বলতো.  অমল মধ্যবিত্ত. পড়াশোনায় মধ্যম মানের. কিন্তু সে ভালো বাঁশি বাজাতো. কলেজের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার ডাক পড়তো.
সুদীপা আর অমলের রোজ দেখা হতো দর্শনের ক্লাসে. ঘটনাচক্রে এক সময় পাশাপাশি বসার এক তাগিদ অনুভব করে দুজনেই. এর পর হঠাৎ একদিন শুরু হয় খাতাবদল. বই বদল. টুকরো টুকরো চিঠিতে মন দেয়া নেয়ার অনেক গল্পও লেখা হয়.
দেখতে দেখতে কেটে যায় তিনটি বছর. মাঝে একবার ছন্দ পতনও ঘটে.
সেদিনের সুদীপা এখন অনেক পরিণত.
অমলকে আজ আর তার প্রয়োজন নেই.
সুদীপা এখন কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে এম. এ. পড়ে.
অমলের সে সুযোগ হয় নি. অমল আজকাল প্রাইভেট টিউশান করে. আর অন্য সময়ে ছেঁড়া তারে নতুন করে সুর বাঁধার চেষ্টা করে—-কিন্তু পারে না.
এক হেমন্তের বিকেলে ট্রেন থেকে সদ্য নামা সুদীপার সঙ্গে কথা বলার জন্য সে দাঁড়িয়ে থাকে.
সুদীপা আড় চোখে অমলকে দেখেও পাশ কাটিয়ে যায়. দূর থেকে অমল লক্ষ্য করে তাঁদের একদা সহপাঠী ধনী পরিবারের সন্তান কিশোর হাসি মুখে  দাঁড়িয়ে. পারিবারিক সুবাদে  একটি ইট ভাঁটার মালিক হয়েছে সে. সুদীপা আর কিশোর একসময় গল্প করতে করতে চোখের আড়ালে চলে যায়.
আহত অমল বুঝতে পারে এ জীবনে  অতীত বলে কিছু নেই. সবটাই বর্তমান.
এ সেই তিন বছর পাশে বসা,মনের কথা বলা  কালো ভ্রমর সুদীপা নয়.
অন্য কেউ…… l

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top