কুকুর-প্রেমী – সিদ্ধার্থ সিংহ

 

ছোটবেলা থেকেই কুকুর ভালবাসতেন। বড়িতে ১৩টি কুকুর। চেয়েছিলেন রাস্তার কুকুরদের জন্যও কিছু করবেন। কিন্তু এ জন্য তো টাকার দরকার?‌ পাবেন কোথায়?‌ স্বামী কিছুতেই টাকা দিতে রাজি হচ্ছিলেন না। তাই নিজের গয়না বিক্রি করে এবং ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়েছেন তিনি। শুধুমাত্র রাস্তার কুকুরদের খাওয়াবেন বলে। তিনি প্রত্যেক দিন  কল্যাণীর রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে প্রায় ৪০০ কুকুরকে মাংস–ভাত খাওয়ান।  তিনি কল্যাণী শহরের— নীলাঞ্জনা বিশ্বাস।

বাড়ির ১৩টি কুকুরের মধ্যে ১২টিকেই রাস্তা থেকে তুলে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু বাকিরা?‌ তাদের জন্য কিছু করতে মন চাইত ৪৫ বছরের এই গৃহবধূর।

তিনি ঠিক করেন, কল্যাণীর সমস্ত পথ-কুকুরকে খাওয়াবেন। কিন্তু বাদ সাধেন তাঁর স্বামী। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, তাঁর পক্ষে এই খরচ চালানো সম্ভব নয়। তাই তিনি নিজের ২ লক্ষ টাকার গয়না বিক্রি করে দেন। ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নেন ৩ লক্ষ টাকা। শুরু করেন রাস্তার সারমেয়দের দু’বেলা খাওয়ানোর কাজ।

প্রতিদিন স্কুটার নিয়ে বেরিয়ে পড়েন তিনি। কল্যাণীর রাস্তায় ঘরে ঘরে কুকুরদের ভোজন করান। মুরগির মাংস আর ভাত। বাকি জীবনটা কুকুর দেখলে প্রথমে রাস্তায় প্লাস্টিকের পাত্র পাতেন। তাতে খাবার সাজিয়ে দেন। একটি বড় বাটিতে জলও দেন।

কুকুরদের খাওয়া শেষ হলে প্লাস্টিকের বাসনগুলো তুলে নেন। রাস্তাও পরিষ্কার করে দেন। প্রত‍্যেক দিন সেই সব বাসন নিজের হাতে ধুয়ে পরিষ্কার করেন তিনি।

প্রায় ৪০০ কুকুরের খাবার তো কম নয়। সে এক রীতিমতো কর্মযজ্ঞ। এ জন্য বাড়িতে আলাদা একটি ফ্রিজও রয়েছে তাঁর। রান্নার জন্য জ্বালানিও মজুত করা থাকে সব সময়।

বেশ কিছু দিন হল নীলাঞ্জনার হার্টের অসুখ ধরা পড়েছে। হাই সুগার। তবু তিনি এতটুকুও দমেননি। ঝড়বৃষ্টি, শীত, গ্রীষ্ম যাই হোক না কেন, একদিনের জন্যও কুকুরদের খাওয়ানো বন্ধ করেননি তিনি।

খাওয়ানোর পাশাপাশি কুকুরদের চিকিৎসাও করান। ভ্যাকসিনও দেওয়ান। এ সবে তাঁকে সাহায্য করেন তাঁর সন্তানেরা।

কালীপুজোর রাতে কিংবা দোলের দিন শুধু ছোটরাই নয়, অনেক বড়রাও রাস্তার কুকুরদের ওপরে রীতিমতো অত্যাচার করেন। সে সব রোখার জন্য নিয়মিত প্রচারও চালান তিনি।

তিনি চান, কল্যাণী প্রশাসন এবং পুরসভাও এগিয়ে আসুক, এগিয়ে আসুন আশপাশের লোকজনও, যাতে রাস্তার কুকুররা একটু নিরাপদে রাত কাটাতে পারে।

তাঁর একটাই কথা, সারমেয়দের ভাল না বাসতে পারেন, দয়া করে ওদের উপরে কোনও অত্যাচার করবেন না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top