খুঁটি – অভিষেক সাহা

 [post-views]

” মালতী ঘড়িতে ক’টা বাজে দেখেছিস? আটটা দশ। আর তোর এখন আসার সময় হল। জানিস তো সকালবেলা আমার দম ফেলার সময় থাকে না। দাদাবাবুর অফিস, রুমি কলেজ বের হবে, ওদের সবকিছু একা হাতে করি কী করে বল তো ! ” মালতীকে ঘরে ঢুকতে দেখে বৌদি গড়গড় করে কথাগুলো বলল।

” কালকে রাতে শুতে একটু দেরি হয়ে গেছিল বৌদি। ভোরবেলা একবার বাথরুমে উঠেছিলাম। তারপর চোখ এমন লেগে গেল , উঠতে দেরি হয়ে গেল। তুমি চিন্তা কোরো না। আমি সব কাজ এক্ষুণি করে দিচ্ছি।” মালতী কোমরে আঁচল গুঁজে কাজে হাত দিল।
” তা রাতে শুতে দেরি হল কেন? টিভি দেখছিলি নাকি বরের সাথে প্রেম করছিলি!” বৌদি জিজ্ঞাসা করল।

” কী যে বল বৌদি। টিভিটা দু’দিন হল খারাপ।আর প্রেম! তাও বরের সাথে, সে পাঠ তো প্রায় উঠেই গেছে।” কাজ করতে করতেই মালতী উত্তর দিল।
” তাহলে দেরি হল কেন ?” বৌদি অবাক হল।

” ওই একই সমস্যা। আমার বরের গলায় মদ পড়লেই ওর আর মাথার ঠিক থাকে না। বাইরের লোককে কিচ্ছুটি বলবে না। যত হম্বিতম্বি আমার উপর। দেখো না, কাল রাতে এমন মেরেছে কপালে আলু হয়ে গেছে আর পিঠেও ওর নখের দাগ পড়েছে।” কাজের ফাঁকেই মালতী কপাল আর পিঠের কাপড় সরিয়ে আঁচড়ের দাগ দেখাল।

” তুই কিছু বলিস না ?” বৌদি বলল।
” কী বলব বল তো! কাজকাম তো তেমন নেই। আগে রিক্সা টানতো , লকডাউনের পর ভ্যান ভাড়া করে সবজি বেচে। ওর তো মনে খুব দুঃখ।” মালতী উত্তর দিল।

” ওকে ছেড়ে দিস না কেনও তুই ?” বৌদি জানতে চাইল।
বাসন মাজা থামিয়ে মালতী বলল ” মানুষটাকে বড় ভালোবাসি গো বৌদি। আর আমাকে খুঁটি করেই তো ও বেঁচে আছে।”

অভিষেক সাহা

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top