গরীবের সুখ ডাল আর চাতনীতে

 14 total views


সাজিদ খুব ভালো ছেলে। সে খুব নম্র,ভদ্র,এবং কৌতুহলী একটি ছেলে।সবাই তাকে ভালোবাসে।সবার ভালোবাসা পেয়ে ধন্য সে।গ্রামের সবার মুখে একটি কথা” । ছেলে হয় না ”
সবাই তার প্রসংসায় পঞ্চমুখ।

সাজিদ অন্যান্ন দশ পাঁচটা ছেলের মতো খুব বেশি আড্ডা দিতে সে পছন্দ করে না।তার চলােরার জগৎ হলো এলাকার মুরব্বিদের সাথে।যেখানেই সে দেখে একজন বয়ষ্ক লোক বসা। সেখানেই তার আসন হয়।তাদের কাছে সে জানতে চায় গ্রামের পুরোনো কথাগুলো।জানতে চায় তাদের জীবনের বিভিন্ন কথা।তাই হয়তো সবাই তাকে পছন্দ করে।

সাজিদের বন্ধুরা এসব মুটেই পছন্দ করে না। তারা সব সময় আড্ডায় লেগে থাকে।তারা সাজিদকে খুব তিরষ্কার করে।তারা বলে,কোথায় তুই আমাদের সাথে আড্ডা দিবি,খেলবি, ঘুরাবি।তা না তুই বসে যাস ঐ বুইড়াদের কথা শুনতে।বুইড়াদের কথা মধ্যে কি মজা পাছ।সে বলে, তাদের মুখে পুরোনো কথা শুনলে মনে হয় আমার, যদি আমি সে সময় থাকতাম।তাহলে খুব ভুরে যখন তারা জমিতে হাল চাষের জন্য গরু,মহিশ নিয়ে যাইতেন।তখন আমিও ঘুম থেকে উঠে, তাদের সাথে হাওরে যেতাম।সবার মতো আমিও মাথায় গামছা বেধে হাল বাইতাম। বৃষ্টি এলে মাথায় ছাতা দিতাম।যখন নাস্তা নিয়ে আসা হতো তখন আমি বলতাম, বহুত বুখ লাগছে।আসো নাস্তা খেয়ে নেই।
সবাই মিলে নাস্তা করতাম!কি যে মজা হতো!

সকালে মাঠে লাল মরিচের চাতনি আর ডাল দিয়ে খাওয়া কি যে মজা! সেটা যাদের খাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে শুধু তারাই বুঝবে।

আমার একদিন খাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল।সেই ছোট বেলায়। যখন আমি ৪র্থ শ্রেণীতে পরতাম।আমি সেই ছোট বেলা থেকে খুব ভুরে উঠে পড়তে বসতাম।

আমার বাবা একজন কৃষক।তিনি আমাকে কোন কাজের কথা বলতেন না। বাবা হিসেবে যদি বলি তাহলে আমি একজন ভালো বাবা পেয়েছি।আমাকে কাজের কথা বলতেন না বলে, একথা বলছি না।আমার প্রতিদিন ঢিউটি ছিল,সকাল ৮টা বাজলে হাওরে বাবাকে নাস্তা দিয়ে আসা। তারপর গুসল করে টিউশনে,তারপর স্কুলে যাওয়া।

একদিন সকালে আমি পড়তে বসেছি।মা এসে বললেন, আজ তুমার বাবাকে বিছরায় পানি হিছায় সাধ দিয়ে আসো।আমি তুমাদের জন্য নাস্তা পাঠাইতেছি।

তখন আমি চলে গেলাম পানি হিছতে।গিয়ে পানি হিচতে থাকলাম আর বাবা হাল বাইতেছিলেন।পানি হিচতে হিচতে আমার অনেক বুখ লেগেছিল।

কিছুক্ষণ পর বাড়ী থেকে নাস্তা গেল। বাপ ছেলে নাস্তা করতে বসে গেলাম।

বাবা দুটি প্লেটে ভাত দিলেন। আর সাথে লাল মরিচের চাতনী আর ডাল।একদিকে পেটের ক্ষুদা আর এদিকে চাতনী আর ডাল দেখেতো!কি আর করবো ক্ষেতে বসলাম। একটা লোকমা খেয়ে কি যে মজা লাগছিল!এরকম আজ পর্যন্ত কোন খাবারের স্বাদ পাইনি।সেদিন মনে হয়েছিল অমৃত খাবার খাচ্ছিলাম।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *