গায়ক শরৎচন্দ্র – সৌম্য ঘোষ

[post-views]

কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাহিত্য ও শিল্পের বিভিন্ন শাখায় স্বচ্ছন্দে বিচরণ করেছেন । সাহিত্যচর্চা শিল্পচর্চা ও সঙ্গীত চর্চায় ।
শরৎচন্দ্রের জীবনী পাঠ করে জানা যায় তিনি ছিলেন সুগায়ক । সাহিত্যপ্রতিভার পাশাপাশি তিনি গান, বাঁশি, তবলা বাজানো এবং অভিনয়ে নিয়মিত অনুশীলন করতেন ।
              রেঙ্গুন থাকাকালীন একবার রেঙ্গুন ক্লাব আয়োজিত নবীনবরণ উৎসবে তিনি উদ্বোধনী সংগীত গেয়েছিলেন । গানের লাইনগুলো ছিল এইরকম —-
“এসো কবিবর এসো হে, ধন্য কর ব্রহ্মদেশ হে।
স্বদেশী তব দর্শন অভিলাষী—- লহে পুণ্য প্রতিভারাণী
এসো কাব্য আকাশ শশী হে ……”
                এই গানটি তাঁর স্বরচিত কিনা জানিনা। গানটি শুনে সমবেত শ্রোতামন্ডলী মুগ্ধ হয়েছিলেন।
রামকৃষ্ণ সেবা সমিতির আয়োজনে শরৎচন্দ্র প্রায়ই শ্রীরামকৃষ্ণদেবের গান গাইতেন । একবার শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জন্মতিথিতে  কবি নবীনচন্দ্র সেনের পুত্রের ব্রহ্মসংগীত শোনার পর শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নির্দ্বিধায় আসন ছেড়ে উঠে গিয়ে অর্গানের সামনে বসে উদাত্ত কণ্ঠে গিয়েছিলেন —–
 ” আমার রিক্ত শূন্য জীবনে বাধা বাকী বিন্দু নাই
  এ দাস বাঁচিবার মতো আর কিছু নাহি চায়।”
এই গান শুনে কবিবর নবীনচন্দ্র সেন অভিভূত হয়ে তাঁকে “রেঙ্গুনরত্ন” উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন ।।
সৌম্য ঘোষ
সৌম্য ঘোষ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top