ছাগল চরান এখানকার রাষ্ট্রপতি! প্রধানমন্ত্রী চালান মুদির দোকান! – সিদ্ধার্থ সিংহ

[post-views]
ছাগল চরান

রাজস্থানের বুন্দি জেলার সদর দফতর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরের একটি প্রত্যন্ত গ্রামের নাম রামনগর। সেখানে কেউ রাষ্ট্রপতির খোঁজ করতে গেলে রাষ্ট্রপতির বাড়ির কেউ‌ দূর থেকেই চিৎকার করে বলে উঠতে পারেন, ‘রাষ্ট্রপতি তো এখন মাঠে ছাগল চরাতে গেছে গো, বিকেলে ফিরবে।’

প্রধানমন্ত্রীর খোঁজ করতে গেলেও তাঁর বাড়ির লোকেরা হয়তো অবলীলায় বলতে পারেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে এখন পাবে না। ও তো চৌরাস্তার মোড়ে ওর বাবার মুদির দোকানে।’ যে গ্রামে এ রকম কথা শোনা যায়, সেখানে বসবাস করেন কঞ্জর সম্প্রদায়ের লোকজন। জনসংখ্যা সর্ব সাকুল্যে মাত্র ৫০০। সেখানেই আপাতত বাস করেন ওই রাষ্ট্রপতি, রাজ্যপাল এবং প্রধানমন্ত্রী। ভাল করে খোঁজ করলে কালেক্টর, ম্যাজিস্ট্রেট, আইজি, ডিজি, হাবিলদারেরও হদিস পাওয়া যাবে।

আসলে এগুলো বিভিন্ন পদের এক-একটি নাম হলেও এই পদগুলির নামই হল ওই অঞ্চলের বিভিন্ন লোকের নাম। কিন্তু এত নাম থাকতে হঠাৎ এই ধরনের নাম রাখার কারণ কী? উত্তরটা দিলেন স্থানীয় এক স্কুলের শিক্ষক। তিনি জানালেন, ওই গ্রামের অধিকাংশ মানুষই লেখাপড়া জানেন না। ফলে তেমন কোনও চাকরি বাকরিও পান না।

হাতে কিছু নগদ টাকা পাওয়ার জন‌্য তাঁরা প্রায়ই নানা রকম অসামাজিক কাজকর্মে জড়িয়ে পড়েন। সেই সূত্রে তাঁদের কাউকে কাউকে থানা থেকে তুলেও নিয়ে যায়। সেখান থেকে চালান করে আদালতে। ছোট্ট গ্রামের বাইরে যে এত ঝাঁ চকচকে একটা জগৎ আছে, তা দেখেই রীতিমতো মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে ফিরে আসেন তাঁরা। আর বাড়ি ফিরেই পরিবারের ছানাপোনাদের নামকরণ করে ফেলেন ওইখানে শোনা সেই সব গালভরা, অভিনব, চমকপ্রদ নামে।

যেমন সদ্য পঞ্চাশে পা দিয়েছেন কালেক্টর। অথচ তিনি জীবনে কোনও দিন স্কুলেই যাননি। তা হলে তাঁর এমন নাম কেন? সেটাও জানালেন ওই গ্রামেরই একজন। বললেন, তাঁর জন্মের সময় গ্রামে এসেছিলেন এক জেলাশাসক। তাঁর ব্যক্তিত্ব সবাইকে এতটাই মুগ্ধ করে দিয়েছিল যে, ওই সদ্যোজাতর নামকরণই করা হয় কালেক্টর। আর এক বাসিন্দার নাম কংগ্রেস। তিনি অবশ্য সরাসরি রাজনীতি করেন। তাঁর পরিবারের ছেলেমেয়েদের নাম— সোনিয়া, রাহুল, প্রিয়াঙ্কা থেকে শুরু করে তাবড় তাবড় সব কংগ্রেস নেতাদের নামে। না, কেউ বাদ নেই। ওই গ্রামের আর এক ব্যক্তির নাম হাইকোর্ট।

তিনি প্রতিবন্ধী। তাঁর দাপটে গ্রামের এ মাথা থেকে ও মাথা, সবাই তাঁকে চেনেন। তাঁর জন্মের সময় তাঁর ঠাকুরদাকে পুলিশ ধরে নিয়ে গিয়েছিল। হাইকোর্ট থেকে জামিনে ছাড়া পেয়ে গ্রামে ফিরে আসার সময় হবু নাতির জন্য একটা খাসা নাম নিয়ে এসেছিলেন তিনি। আর সেটি হল— হাইকোর্ট। এখন অবশ্য ওই গ্রামে স্কুলটুল হয়েছে। গ্রামের ছেলেমেয়েরা সেই স্কুলে নামও লেখাচ্ছে। স্কুলের নামডাকার খাতাটি দেখলেই চোখে পড়বে এই রকম বিচিত্র বিচিত্র সব নাম।

সেখানে পড়ুয়াদের তালিকায় যেমন রয়েছে অ্যান্ড্রয়েড, চিপ, সিম কার্ড, ‘মিস কল’, জিওনি, তেমনই রয়েছে নমকিন, ফোটোবাই, জলেবি, মিঠাই, ফালতু, ঢপবাজ, রিপোর্টার। এই ভাবে ওই গ্রামের ছেলেমেয়েদের যে হারে এই রকম নাম রাখার বহর বাড়ছে, তাতে সেই দিন আর বেশি দূরে‌ নেই, যে দিন স্কুলের নামডাকার খাতায় অনায়াসে দেখা যাবে— ল্যাপটপ, ক্রিমিনাল, বিরিয়ানি, স্মার্টবয়, পেনড্রাইভ, ল-ইয়ার…
story and article

আপনার মতামতের জন্য

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top