জানা-অজানা – গন্তব্য – টাকি – শ্রী রাজীব দত্ত

প্রচলিত কথায় মাছে-ভাতে বাঙালি’ পাশাপাশি, বাঙালি একটু ভ্রমন পিপাসু , আর আমরা ব্যস্ততার মধ্যে খুঁজে নিন একদিনের ট্যুর এর যেকোনো একটি গন্তব্য । আর তাই আজ আমরা গল্পকথায় টাকি সম্পর্কে জানা অজানা কিছু গল্প জানব।

অতীতে রাজা প্রতাপাদিত্য এর বংশধর কৃষ্ণ দাস রায়চৌধুরী টাকিতে বসতি স্থাপন করে, টাকিস্থিত জালালপুর গ্রামে নন্দদুলাল মন্দিরের জন্য বেশ নামডাক ছিল সেই সময়, একদা রাজা রামমোহন রায় ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ও ক্রিস্টান মিশনারি আলেকজান্ডার ডাফের এর সাহায্যে জমিদার কালিনাথ 1932 সালে প্রথম ইংরেজি স্কুল স্থাপন করেন টাকিতে l

যা টাকিতে শিক্ষা ও সংস্কৃতি কে ব্যাপক পরিমাণে উন্নতি সাধন করে, ইংরেজ শাসনের ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানি লবণ ব্যবসার জন্য একটি ব্যবসায়িক কেন্দ্র গড়ে তোলেন টাকি পার্শ্ববর্তী এলাকায় যা আজ বসিরহাট নামে পরিচিত এই রকম নানান ইতিহাসের জর্জরিত এই টাকি l বর্তমানে আজকের পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতের পূর্বের শেষ অংশে অবস্থিত টাকি, কলকাতা থেকে ঘণ্টা দুয়েকের রাস্তা হচ্ছে।

সড়কপথে এবং ট্রেন যাত্রার মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন টাকি। সড়কপথে ধর্মতলা থেকে বাস আছে এছাড়া নিজস্ব প্রাইভেট গাড়িতে যেতে পারেন, বারাসাত এবং রাজারহাট পথ দিয়ে বেড়াচাঁপা হয়ে যেতে হবে টাকি। এবং ট্রেন পথে হাসনাবাদ লোকাল ধরে যেতে হবে টাকি। দুই বঙ্গের মাঝখান থেকে বয়ে গেছে ইচ্ছামতী নদী। যা সাক্ষী রয়ে গেছে যুগ যুগ ধরে নানান ইতিহাসের নানান সভ্যতার। এই পারে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং ওপারে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা গ্রাম।

এপার থেকে ওপারে সুন্দর মনোরম দৃশ্য আপনাকে অবশ্যই আকর্ষণীয় করে তুলবে। টাকি রাজবাড়ী ঘাটে আপনি পেয়ে যাবেন নৌকো বিহারের আনন্দ উপভোগ করার এক সুবর্ণ সুযোগ , ইছামতীর উপর দিয়ে আপনি দেখে আসতে পারবেন পাখিরালয়, গোলা পাতার জঙ্গল, মাছরাঙ্গা দ্বীপ প্রভৃতি দর্শনীয় স্থানগুলি মাঝারি, ভটভটি নৌকাতে আনন্দময় লাগবে এই সময় গুলি।

এছাড়াও টোটো বা ভ্যান ভাড়া করে দেখে আসতে পারেন বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান তার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য মিনি সুন্দরবন, জোড়া শিবমন্দির, কর্নেল সাহেবের বাড়ি, টাকি ইকো পার্ক, টাকি রাজবাড়ী, দূর্গা মন্ডপ, ইত্যাদি স্থানগুলি, বর্তমানে আরো একটি স্থান এই সূচিপত্রে যোগ দিয়েছে সেটি হল বিসর্জন সিনেমা ব্যবহৃত সেই কুড়ে ঘরটি। নদীর পাড়ে বসে মনের সব আবেগ, চিন্তা, ভাবনা শীতল বাতাসে আপনার মনকে শান্তিতে পরিবর্তনের রূপায়ন করবে। চাইলে রাত্রিযাপনের জন্য প্রয়োজন নানান গেস্টহাউস তার মধ্যে বিশেষ করে উল্লেখযোগ্য টাকি গেস্ট হাউস।

যদিও বেশিরভাগ পর্যটকই একদিন এই টাকি ভ্রমণ করে ফিরে আসেন। আর মধ্যাহ্নভোজের জন্য রয়েছে নানান হোটেল রিসোর্ট, রেস্টুরেন্ট। শীতকালে বেশিরভাগ সময় উপচে পড়ে ভিড়ে পিকনিক পর্যটকদের জন্য। শীতকালে উপরি পাওনা হিসেবে পাওয়া যায় গ্রাম বাংলার বিশুদ্ধ ঝোলা গুড়, পাটালি, খেজুরের রস। একদিনের ছুটি কাটাতে বেশ মনোরম পরিবেশে গন্তব্য হতেই পারে টাকি । স্বল্প খরচায় এবং স্বল্প সময়ে টাকি ভ্রমণ এক অদ্বিতীয়।

জানা-অজানা প্রথম - পর্ব গন্তব্য - টাকি শ্রী রাজীব দত্ত

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top