জীবন্ত – অভিষেক সাহা

[post-views]

 

 

” আচ্ছা বলত মোবাইল কেন আবিস্কার হয়েছে ?” কফি কাপে চুমুক দিয়ে গোলগোল চোখ করে জিজ্ঞেস করল অনীক।

” এ আবার কেমন প্রশ্ন! মোবাইল কে আবিষ্কার করেছেন এটা প্রশ্ন হতে পারে ।” শ্রাবন্তী সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করে উঠল।
” তোর এখনও সেই আগডুম বাগডুম প্রশ্ন করার স্বভাবটা গেল না। একইরকম রয়ে গেলি।” শ্রাবন্তীকে সমর্থন করে বলল ডিউক।
” ওকে ফাইন, আমরা পারব না , তুইই বলে দে মোবাইল কেন আবিস্কার হয়েছে ?” মধ্যপন্থা অবলম্বন করে বলল মধুশ্রী।

আজ দীর্ঘ বাইশ বছর পর ওরা চারজন এক টেবিলে । যাদবপুর কফি হাউজে। ওরা একসাথে বিএসসি পড়ত। কলেজ পড়ার সময় প্রায় রোজই কলেজ শেষে এখানে এসে আড্ডা জমাত। কখনও কখনও কলেজ ছুটি থাকলেও এসে হাজির হত। থিওরি, প্র্যাকটিক্যাল সব কিছু নিয়ে আলোচনা করত। দেশ, কাল, রাজনীতি, অর্থনীতি ফাঁকফোকর দিয়ে ঢুকে পড়ত। মতান্তর হত, কিন্তু কখনও মনান্তর হয়নি ।

দিন সাতেক আগে চাঁদনিতে হঠাৎ মধুশ্রীর সাথে দেখা হয় ডিউকের । মধুশ্রীর কাছে শ্রাবন্তীর নম্বর ছিল আর ডিউকের এফবিতে ছিল অনীক। ফলে চারজনের এক টেবিলে আসতে সাতদিনের বেশি সময় লাগল না ।
একই শহর , একই আকাশ, একই পথঘাট ছিল, তবু অজানা কারণে একসাথে হওয়া হয়নি। আজ হল।

” দূর, এটা বলতে পারলি না, আরে আমাদের একসাথে করার জন্য। নে এবার তোরা সবাই মিলে আমায় ফিস কবিরাজি খাওয়া।” বলেই হো হো করে হেসে উঠলো অনীক।
কুড়ি বছরে পৃথক হওয়া বন্ধুরা চল্লিশ বছর পার করা বয়সে একসাথে হয়ে আবার যেন কুড়িতেই ফিরে গেছে।

ব্যক্তিগত জীবনে সবারই বয়ে গেছে অনেক বসন্ত, শীত, ঝোড়ো হাওয়া। তবে এই মুহূর্তে আর সে সবের ছাপ নেই ।
” ঠিক আছে অনীক , ফিস কবিরাজি আমি তোকে খাওয়াবো, আগে তুই বলত আমাদের হৃদয়ে ক’টা প্রকোষ্ঠ আছে ?” মধুশ্রী জানতে চাইল।
” চারটি।” বিজয়ীর হাসি হেসে অনীক বলল।
” ভুল। পাঁচটি প্রকোষ্ঠ আছে।” মধুশ্রী উত্তর দিল।

” কী করে !” অবাক হয়ে শ্রাবন্তী আর ডিউক দু’জনেই জানতে চাইল ।
কাগজের কাপে দেওয়া কফিতে শেষ চুমুক দিয়ে মধুশ্রী বলল ” আর কারও না থাক, আমাদের চারজনের হৃদয়ে পাঁচটা প্রকোষ্ঠ আছে। একটা অবশ্যই চোরা কুঠুরি। ডাক্তারবাবুরা খুঁজে পাবেন না। যেটার মধ্যে আমাদের বন্ধুত্ব এত বছর রোদ- ঝড়- জল সহ্য করে এখনও একইরকম জীবন্ত আছে।”

 

আপনার মতামতের জন্য
[everest_form id=”3372″]

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top