জীবন থেকে নেওয়া – জুনায়েদ খান প্রান্ত

 [post-views]

মোঃ রায়হান কাজী অথবা জুনায়েদ খান প্রান্ত খান সাহেবের একমাত্র ছেলে। তো রায়হান কাজী যখন ধানমন্ডিতে থাকতেন। তখন রায়হানের বাবা-মা ও যেই বাসায় থাকতো সে বাসার সামনে এসে দাঁড়িয়ে থাকতো।

মেসের মধ্যে নিয়ম ছিলো প্রতিমাসে তিনদিন করে বাজার করতে হয়। তো একদিন রায়হান বাজার করতে যাওয়ার সময় তাদের দেখে তাকিয়ে থাকে৷ কারণ রায়হান জানতোনা ওনারা কারা৷ পরে যখন বাজার করে বাসার সামনে আসে। তখন তাদেরকে দুজনকে একটু স্কুটি করে যেতে দেখেন।

তারপর একদিন দুপুরবেলা যখন রায়হান ভার্সিটি থেকে বাসায় ফিরেন। তখন ইউসুফ আর মানিস রায়হানকে নিয়ে চেয়ারের বসে দস্তের কথা বলছিলেন। রায়হান একথা শুনে হকচকিয়ে ওঠেন।অবশ্য রায়হানের তেমন কোনো টাকা-পয়সা নিয়েও সমস্যা ছিলোনা৷ কী কারণে দস্তকের বলা হয়ে ছিলো তখনও রায়হান এ বিষয় অজ্ঞত রয়ে গয়েছিলো। এসবের মাঝে রায়হানের নামে কেবা কারা মিথ্যা রটিয়ে দেয়৷
ফলে রায়হান বাসা পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নেয়।যার কারণে একমাস আগেই রায়হান বাসা ছেড়ে দেয়৷

তো রায়হান বাড়িতে আসে এসে আল-ইসলামকে দিয়ে একটা বাসা ঠিক করায়। যেদিন রায়হান বাড়ি থেকে রওনা দেয় সেদিনও রায়হান জানতোনা কোথায় তার জন্য বাসা ঠিক করেছে?

তারপর রায়হান প্রথমে আল-ইসলামের কাছে আসে। আসলে তিনি জানান রায়হান কে তোর জন্য গুলবাগ বাসা ঠিক করেছি। এই কথা বলার আল-ইসলাম সরোয়ার নামে একজনের সাথে কথা বলিয়ে দেন। তারপর রায়হান একটা রিকশা নিয়ে গুলবাগ গেলে সেখান থেকে এসে সরোয়ার নিয়ে যায়। যাওয়ার পথে দুজন হোটেলে খাওয়া-দাওয়ার করে বাসার দিকে যায়।

নতুন বাসায় ওঠার কিছু দিনপর হঠাৎ করে সরোয়ার রায়হানকে বিয়ের কথা বলে। বলার পর রায়হান সরোয়ারকে জিজ্ঞেস করে কিসের বিয়া। এসব কথা বলার পর সরোয়ার রায়হানকে তেমন কিছুই আর বলেনি।

তার একমাস পর ময়মনসিংহ থেকে দুইটা ছেলে আসে ঐ মেসে। আসার পর সরোয়ার প্রায়সই ঐ দুইটা ছেলেকে নিয়ে বাসর ছাদে যেত আর কিসব নিয়ে জানি কথ বলতো? তারপর জহিরুল ও সালাউদ্দিন নামের দুইটি ছেলে দুইজন মেয়ের সাথে কথা বলা শুরু করে।খুব সম্ভাবত নাম্বার দুইটি যোগানদাতা সরোয়ার৷

কিছু দিন পর সাহেদ নামের একটি ছেলে সাদিয়া নামের একটি মেয়ের সাথে হাতিরঝিল ধরা খাওয়ার কথা শুনা যায়। ঐ সাহেদকে কোনো গুলবাগের একটি মেয়ের নাম্বার দেয় সরোয়ার।

এর কিছুদিন পর গুলবাগ রেললাইন এর কাছে রায়হান যখন কম্পিউটার ক্লাস করতে যাচ্ছিল৷ ঠিক তখন একটি মেয়ে রেললাইন এর পাশে কিছু ছোট ছেলেমেয়ে নিয়ে দাঁড়িয়ে মোবাইল হাতে করে রায়হানের ছবি তুলছিলো।তো রায়হান এসব দিকে না তাকিয়ে কম্পিউটার ক্লাস করতে চলে যায়।

তার ফাঁকে একদিন বিকালে একজন মহিলা বাসায় এসে হাও মাও করে কাঁদা শুরু করে আল্লাহ খোদা বলে। বলতে থাকে “একটু নামাজ পড়লেই হবে। আমার টাকা-পয়সার অভাব নাই।” কেন কান্না করছিলো কীই-ব উদ্দেশ্য ছিলো তখনও জানা ছিলোনা?

তার কিছু দিন পর রায়হান মসজিদে নামাজ পড়তে গেলে তার চার হজার টাকার মূল্যর জুতা চুরি করে কে যেন নিয়ে যায়। পড়ে শুনতে পাওয়া যায় ঐ জুতা জোড়া পরে কোনো একছেলে। কোনো এক বাসায় যায়। এখন কী কারণে গিয়েছিলো তা ছিলো অস্পষ্ট? তো রায়হান যখন নামাজ পড়ার দেখে জুতা নেই আশেপাশে তখন খুঁজাখুঁজি শুরু করে। না পাওয়ার কারণে নামাজ শেষ করে ১৬০০/ টাকা মূল্যের এক জোড়া জুতা কিনে তাপড়ে নিয়ে আসে। কেবা কারা তাও মিথ্যা কথা রটিয়ে দেয় কমদামি জুতা বলে।তারপর প্যান্ট কিনলে তাও কমদামি বলে উঠিয়ে দেয়।

এসব কথা বলে রায়হানকে মেরে ফেলার জন্য একদল শত্রু তার পিছনে লেগেপড়ে। এর কারণ ছিলো খান সাহেবের জায়গা-জমিন বাড়ি-গাড়ি নিয়ে জোট।তো রায়হান এ বিষয়ে তখনও কিছুই জানতো না৷ যার ফলে কী ঘটতেছিলো ভালো মতো বুঝে ওঠতে পারেনি?

রায়হান আবার ছোটবেলা থেকে লেখালেখি করে। তাই রেললাইনের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটিকে নিয়ে একটা কবিতা লেখে ফেলে।
তার নাম দেওয়া হয় কে তুমি অপরিচিতা । লেখা পর্যন্ততো ঠিকি ছিলো।তার দুইতিন দিন পর হঠাৎ করেই করোনার আবির্ভাব হয়। যার কারণে সকলেই গাবরিয়ে যায়। ফলে রায়হান তার মামার সঙ্গে করে গ্রামের বাড়িতে চলে আসে।

আসার কিছুদিন পর কে তুমি অপরিচিতা কবিতা নিয়ে লোকজনরা বলাবলি করতে শুনা যায়। ততদিনে কবিতাটি সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছিলো। এর মধ্যে কিছু লোক রায়হান যে গ্রামে বড় হয়।ঐ গ্রামের লোকজনকে টাকা দেয় রায়হানকে মেরে ফেলার জন্য। এসব নিয়ে এলাকায় লকডাওনের ভিতরে গেঞ্জাম লাগে।

তার তিনমাস পর করোনার প্রাদুর্ভাব একটু কমলে বাস চলাচল শুরু হলে রায়হান ঢাকা আসে।আসার পর আগের বাসায় ওঠে। তার পরের দিন লোকজন বলাবলি শুরু করে কোনো এক মেয়ের এক তারিখে বিয়ে হয়ে গেছে। তো রায়হান কিছু না বুঝে চুপ করে থাকে। বিপত্তি ঘরে দুই তারিখে। এর কারণ আল-ইসলাম ঐদিন মালিবাগ যাওয়া জন্য রায়হানকে বলেন। তো ও যখন রিকশা করে মালিবাগ যাচ্ছিলো তখন লোকজন কোনো একমেয়ের কথা বলছিলো। ঐমেয়ে নাকি বিয়ের জন্য হোসাইফ টাওয়ারের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। তো রায়হান যখন রিকশা করে মালিবাগ নামলো ঠিক তখন একটি মেয়ে তার পিছনে এসে দাঁড়ায়। মেয়েটি কে ছিলো রায়হান জানতো না?

তারপর ঐখান থেকে আল-ইসলাম রায়হানকে নিয়ে এজিবি কলোনির দিকে যায়। আসার পরে শুনতে পাওয়া যায় ঐ মেয়েটির নাকি তার কোনো এক ক্লাসমেটের সাথে বিয়ে হয়ে গেছে।
তো তখন পর্যন্ত তো ভালোই ছিলো৷ কিন্তু বাঁধ সাধলো যখন লোকজন ঐছেলেটি রায়হানকে বলছিলো। অথচ রায়হান কোনো বিয়েই করেননি। ঐদিন তো গেলো তারপরের দিন আবার বললো ঐছেলের সাথে বিয়ে হয়নি কবি সাহেবর সাথে বিয়ে দিছে মেয়েটিকে। কবি সাহেব ও কিন্তু রায়হানি ছিলো। তো রায়হান অবাক হয়ে শুনছিলো বিষয়টি। পরে বাসা থেকে বাহির হতে না হতেই লোকজন বলাবলি শুরু করে তার শাশুড়ী নাকি পত্রিকায় তার কাবিনের কাগজ ওঠিয়ে দিছেন। তার সঙ্গে নাকি দুইটি প্লাট লিখে দিছেন।

খুব স্বাভাবিক এধরণের খবর শুনলে সবাই চমকিয়ে ওঠবে।রায়হান ও এর ব্যতিক্রম নয়।
তো ছয়-সাত তারিখের দিকে একজন মহিলা তার মেয়েকে নিয়ে এসে চারতলায় বসে থাকেন আর নানান ধরনের মন্তব্য করতে থাকেব।পরে চার-পাঁচ ঘন্টা থাকার পড়ে পাঁচতলায় ওঠে মেয়েটিকে কবি সাহেব বলে ডাক দেওয়ার জন্য ডাক দিতে বলে তার ভাই।মেয়েটি ডাক না দেওয়ার কারণে মহিলাটি রায়হানের নামে আর শাহেদের নামে মিথ্যা কথা বলে চলে যায়।

পরের দিন মিথ্যা কথা ছড়ায় মহিলাটি যে ওনি নাকি কবি সাহেবকে তার বাসায় যাওয়ার পর মেরেছেন। এসব লোকজন জানাজানি হওয়ার রায়হানকে সবাই ফোন করে জিজ্ঞেস করে।করলে রায়হান বলে দেয় যে এধরণের তেমন কিছুই ঘটেনি তার সঙ্গে। তাছাড়া ঐবাসাটি রায়হানদের নিজেদের বাসা ছিলো।

এরপর থেকে মহিলাটি বিনা কারণে কবি সাহেবর নামে মিথ্যা কথা বলা শুরু করে।
এর কারণ ছিলো তার বাবা আওলাদ হোসেন খান সাহেব নাকী তাদের টাকা-পয়সা দেননা।
পরে রায়হানের কাছ থেকে মহিলাটি পাঁচ লাখ টাকা চায়। কিসের চাওয়া হয়েছিলো তা রায়হান জানতোনা। কবি সাহেবকে মারার জন্য ঐমহিলা শুটার পর্যন্ত ভাড়া করে। তারপর রায়হান কাজী কিছু নিউজ করে বাড়িতে চলে যায়।

পরে শুনতে পায় ঐখানে তাদের বাড়ি আর প্লাট নিয়ে মহিলারা তাকে মারার চেষ্টা করেছিলো। এরসাথে এলাকার কিছু লোকজনের যোগসূত্র ছিলো।

জুনায়েদ খান প্রান্ত
জুনায়েদ খান প্রান্ত

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top