সত্য বলি ( পর্ব -২ )

ড. ময়ূরী মিত্র

ইংরাজী ভাষায় নিজের নাম লিখুন ।

 7 total views

M A তে পড়ছি | ছেলেবন্ধুদের সাথে অল্পবিস্তর বিড়ি সিগারেট ফুঁকছি আর liberalism এর তালিম নিচ্ছি | কার কাছে ভগা জানে | তবে আমাদের সময়ে গুরুজনদের লুকিয়ে ঐ একটুআধটু তামাকের ল্যাজ টানাই ছিল আধুনিক হবার emergency পাঠ বা ধরুন elit culture এর উৎসমুখ |
তো এই সময় আমার স্বামী অতনু ঘোষ মশায়ের সাথে আমার প্রেম করা শুরু | সে এক অনাসৃষ্টি প্রেম | রাস্তা মাঠ ঘাটে যখন তখন অতনুকে ডেকে এনে বুঝিয়ে যাচ্ছি বিয়ে ব্যাপারটা কত ফালতু এবং একটা রংচঙা বন্ধু বন্ধু ভাব কত বাঞ্ছনীয় | আমার সেই পেকে কুমড়ো হবার গোধূলি দশায় এই সব কথা বলে কী যে বেতাল ছ্ন্দ পেতাম !

ঠিক এইসময় অতনুর চোখের অসুখ ধরা পড়লো | ভাড়াবাড়িতে তখন একেবারে একা থাকতেন অতনু |একটি কাজের লোক ও নেই | ঠাকুরদার অশোক হুকুম দিলেন — অতনুর বাড়ি চলে যাও এবং রাতদিন ওর সাথে থেকে চোখের ড্রপগুলো দাও | না সারা পর্যন্ত এ বাড়ি মুখো হবে না | গলায় গুড় দেয়া ন্যাকামো ঢেলে বললাম –ওকে বিয়ে করবো ঠিক করিনি | ঠাকুরদার জবাব — তাতে কি ?তোমার বন্ধু তো |

একসাথে রাত কাটাবার পক্ষে এই যুক্তিই যথেষ্ট তোমার কাছে ? —আমার প্রশ্ন | অশোক ঠকঠক করে ঘাড় নাড়ছেন | বললেন –যুক্তি নয় হে – অনুভব |

বেশ মনে করতে পারি ঠাকুমা গালাগাল দিচ্ছেন কাণ্ডজ্ঞানহীন ঠাকুরদাকে | একসময় থাকতে না পেরে বেপরোয়া বৃদ্ধা বলেই বসলেন –একসাথে থাকতে গেলে বিয়ে হতেই হবে ?
ঠাকুরদার জেদে সেদিন আমাদের বাড়িতে রাত্রিবাস করলেন অতনু | মাঝরাত্তিরে বার বার উঠে এসে দেখে গেলেন অশোক —ঘুমকাতুরে ঈষৎ বেপথু নাতনির হাতটি অতনুর অসুস্থ চোখের পাতাতেই আছে কিনা |
হা হা হা |আমার পঁচাত্তর বছর বয়সী ঠাকুরদার রাঙা চোখের ঝলকানিতে সেই আমার পরপুরুষের সাথে প্রথম নিশি পোহানো | পারস্পরিক শরীরের আঁচ পাওয়া |

[এই অংশটিকে কেবল আমার ঠাকুরদার মূল্যবোধের একটি মূল্যায়ন হিসেবেই ধরলে খুশি হবো | ]

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *