থুতু – রায়হান আজিজ

[post-views]

.

সুমতি ব্রাহ্মণপুর জেলেপাড়ার নতুন বৌ। বয়স কতই বা হবে, বিশ। ওর স্বামী নরেন এবার ৩৫ এ পা দেবে। মাসছয়েক হল বৌ হয়ে এসেছে সুমতি। অল্প কদিনেই স্বামীর মার খেয়ে চেহারায় দাগ পড়ে গেছে, আর সঙ্গে খিস্তি খেউর তো জোটেই।

“মা! তোর অতদূর যাবার দরকার নেই। চাকরি না করলে তো আর মরে যাচ্ছিস না!”, শ্যামাকে বললেন ওর মা কবিতা।

মিস শ্যামা সেন এবার এস আই হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে অজপাড়াগাঁয়ের জলডুবি থানায়। মায়ের নিষেধ অগ্রাহ্য করেই অফিসার হিসেবে জয়েন করেছে সে।

ভরদুপুরে তীব্র রোদের মধ্যে লুঙ্গিটাকে আঁটসাঁট করে নেংটি মেরে খালি গায়ে জাল কাঁধে উঠানে ফিরেই হাঁক ছাড়ল নরেন, “কই গেলিরে বৌ? ভাত দে জলদি!”

ভয়ে ভয়ে সুমতি বলল, ” ভাত রানতে তো দেরি অবি।”

নরেন— তবে এতহন কি করিছিস রে হারামি?

সুমতি— ও ঘরের দিদির লগে কতা কয়েছিলাম এট্টু!

নরেন— “কি কলি মুকপুরি! অতবড় সাহস তর?” বলেই
সুমতির খোঁপাটা খুলে ওর দীঘল চুলের মুঠি
ধরে ওকে মাটিতে ফেলে বেদম পিটিয়ে
রাগে গজ গজ করতে করতে বেরিয়ে গেল।

মাটিতে পড়ে প্রচণ্ড ব্যাথায় কাঁদতে লাগল সুমতি।

রাতে নরেন ঘুমিয়ে পড়লে সুমতি ফোন করল ওর আদরের ছোটভাই গোপালকে।

—– ভাইরে…………………….
—– দিদি! জানোয়ারটা বুঝি তোরে আবার মারিছে?
—– তুই জলদি যা পারস কর!
—– কাল সহালেই তোরে নিয়া যাবানি, রেডি থাহিস
কলাম!
—– হাচা কতিছিস ভাই?

গোপালের মনে পড়ল, “বিন্দু দাদা না আমাগের থানার নম্বর দিছিল! এক নতুন আপা নাকি আয়েছে!”

—– হ্যালো মেডাম! দুলোভাই নরেন কুত্তোটা দিদিরে
খালি মারে। কিছু কত্তি চাই শয়তানডারে।
—– কাল সকাল সাতটায় থানায় চলে এস।

স্থান জলডুবি থানা

—– হ্যালো! ওসি ব্রাহ্মণপুর!
—– স্পিকিং
— শ্যামা সেন, জলডুবি থানা।কাল ফোর্স নিয়ে রেডি
থাকবেন, জরুরি অপারেশনে যেতে হবে। আমি
সময়মত জানাব, ওকে?

ডাকাডাকি শুনে ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠল নরেন। ততক্ষণে পুলিশ ওকে ঘিরে ফেলেছে।

সুমতির কণ্ঠে উত্তেজনা! ” কিরে নরেইন্যা, পিটাইবিনা আমারে? জানোয়ারের বাচ্চা!”

কিছু বলার আগেই একদলা থুতু এসে পড়ে নরেনের চেহারায়।

আপনার মতামতের জন্য
[everest_form id=”3372″]
story and article

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top