দমকল – সিদ্ধার্থ সিংহ

 2 total views

[post-views]

আজ থেকে প্রায় ২০০ বছর আগে‌ কলকাতায় কোনও টেলিফোন ছিল না। ছিল না কোনও মোটরগাড়িও। ফলে কলকাতা শহরের কোথাও আগুন লাগলে, দমকল বিভাগে খবর যেতে যেতে এবং ঘোড়ায় টানা জলের গাড়ি আসতে আসতে ৯৫ শতাংশই পুড়ে ছাই হয়ে যেত। সে জন্য ব্রিটিশ সরকার একটি নতুন পন্থা নিলেন।
শহরের মোড়ে মোড়ে প্রায় হাঁটুর সমান ‌উঁচু লাল রঙের একটা করে লোহার বাক্স বসিয়ে দিল। এই লোহার বাক্সটার ভিতর কাচ দিয়ে ঘেরা থাকত একটা দম দেওয়া মেশিন। মেশিনের তার মাটির তলার পাইপের ভেতর দিয়ে সরাসরি যুক্ত করা থাকত দমকল অফিসের সঙ্গে।
নির্দেশ জারি করা হয়েছিল‌, কোথাও আগুন লাগলে, সব থেকে কাছের এই‌ রকম বাক্সের ভেতরের কাচ ভেঙে তার মধ্যে থাকা হাতলটি ৩-৪ বার ঘুরিয়ে দম দিতে হবে। আর দম দেওয়া মাত্রই সেই সংকেত পৌঁছে যাবে দমকল দফতরে। ফলে দমকল বিভাগ খুব সহজেই জায়গাটি চিহ্নিত করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পৌঁছে যাবে ঘটনাস্থলে।
এই ব্যবস্থা দীর্ঘ প্রায় ১০০ বছর লাগু ছিল কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী শহরগুলোতে। ধীরে ধীরে যখন টেলিফোন আর মোটরগাড়ির ব্যবহার বাড়তে লাগল, তখন দমকল বিভাগে খবর দেওয়ার একমাত্র চটজলদি উপায় হয়ে উঠল টেলিফোন। আর তার সঙ্গে সঙ্গে এই হাতল ঘুরিয়ে দম দিয়ে দমকলকে খবর দেওয়ার কৌশলটাও একটু একটু করে কালের গর্ভে হারিয়ে গেল।
কিন্তু যেহেতু হাতল ঘুরিয়ে দম দিয়ে অগ্নিনির্বাপক বিভাগে খবর দেওয়া হতো, মানে দম দিয়ে কল করা হতো, তাই ওই বিভাগকে বলা হতো দমকল। পরে কালের নিয়মে কলকাতা শহর থেকে দম দেওয়ার সমস্ত বাক্স প্রায় উধাও হয়ে গেলেও, আজও তখনকার সেই ‘দমকল’ নামটাই কিন্তু লোকের মুখে মুখে রয়ে গেছে।
সিদ্ধার্থ সিংহ
0 - 0

Thank You For Your Vote!

Sorry You have Already Voted!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top