দোকান চালাতে প্রতিদিন ১৮০০ কিলোমিটার পাড়ি – সিদ্ধার্থ সিংহ

[post-views]

অস্ট্রেলিয়ার ‌টালিয়া এলিস থাকেন নিউ সাউথ ওয়েলসের একটি খামারে। সেখান থেকে কুইন্সল্যান্ডের দূরত্ব, সব চেয়ে সংক্ষিপ্ত পথটা বেছে নিলেও ১ হাজার ৮০০ কিলোমিটার। মানে মাইলের হিসেবে সোজা বাংলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ মাইল।
সেই কুইন্সল্যান্ডের বার্ডসভিল এলাকায় তাঁদের একটি মদের দোকান আছে। জায়গাটি মূল শহর থেকে অনেক ভেতরে। একেবারে নিরিবিলি জায়গায়। সেই দোকানে যাওয়ার জন্য তাঁকে প্রতিদিন‌ এতটা পথ পাড়ি দিতে হয় এবং এই কাজটাই দীর্ঘদিন ধরে করে আসছেন এলিসের পরিবার।
এতটা পথ সড়কপথে পাড়ি দিয়ে দোকান চালানো এক কথায় অসম্ভব। কারণ, সেটা করতে গেলে যত জোরেই গাড়ি চালানো হোক না কেন, সড়কেই কেটে যাবে কম করেও ‌তিন–তিনটে দিন। পেরোতে হবে প্রত্যন্ত এলাকার দুর্গম রাস্তাঘাটও।
সেই সব রাস্তাঘাটের পুরোটা আবার পিচঢালাও নয়। বার্ডসভিলটা আসলে কুইন্সল্যান্ডের পশ্চিমাঞ্চলীয় সিম্পসন ডেজার্টে অবস্থিত। সে রাস্তাটা আরও ভয়ঙ্কর। ফলে সড়কপথে গেলে ধুলোবালির অত্যাচার সইতেই হবে। আর তার থেকেও বড় কথা, যে গাড়িটি নিয়ে যাওয়া হবে সেই গাড়িটিরও বারোটা বাজতে বেশি দিন লাগবে না।
তাই ওঁরা কোনও গাড়ি ব্যবহার করেন না। তাঁর সুবিধা হল, তিনি নিজেই একজন অত্যন্ত দক্ষ পাইলট। ফলে অনায়াসেই ছোট আকৃতির উড়োজাহাজ চালাতে পারেন।
তিনি বলেছেন, ‘আমাদের নিজস্ব একটা উড়োজাহাজ আছে। তাই আমরা খুব সহজেই খামারবাড়ি থেকে কুইন্সল্যান্ডের ওই মদের দোকানে যাতায়াত করতে পারি। বিমানে সময় লাগে সাড়ে চার ঘণ্টা থেকে পৌনে পাঁচ ঘণ্টা। এটা আমাদের জন্য বেশ সুবিধাজনক। আমরা যদি সকাল-সকাল রওনা হতে পারি, তা হলে লাঞ্চের আগেই ওখানে পৌঁছে যেতে পারি। তবে হ্যাঁ, উড়োজাহাজ ছাড়া এই কাজটা করা কখনওই সম্ভব হতো না। উড়োজাহাজে যাতায়াত করতে করতে এখন পুরো ব্যাপারটাই খুব স্বাভাবিক হয়ে গেছে। আমাদের মনে হয়, আমরা বোধহয় ডানাওয়ালা কোনও গাড়িতে চড়ে যাতায়াত করছি।’
কিন্তু হঠাৎ করে খামোকা এত দূরে একটা মদের দোকান কিনতে গেলেন কেন এলিসের পরিবার?
এ প্রসঙ্গে এলিস বলেছেন, ‘আমি আর আমার স্বামী প্রায়ই উড়োজাহাজে করে যাতায়াত করতাম। মাঝে মধ্যেই বার্ডসভিলের ওপর দিয়ে যেতাম। আর যখনই ওখান দিয়ে যেতাম, মনে মনে ভাবতাম, আহা, জায়গাটা এত সুন্দর, এত মনোরম, আমরা‌ যদি এখানে একটা সরাইখানা খুলতে পারতাম, খুব ভাল হোত। তা হলে সেই ছুতোয় অন্তত রোজ একবার করে এখানে আসা যেত। যেই ভাবা, সেই কাজ। ব্যস, কিনে ফেললাম। আর সত্যি কথা বলতে কি, যেহেতু বিমান রয়েছে, ফলে আমাদের যাতায়াতের কোনও সমস্যাই হয় না। আর তা ছাড়া, এই মদের দোকানে অত্যন্ত দক্ষ একদল কর্মী আছেন। কোনও কারণে যদি আমরা কখনও ওখানে‌ যেতে না পারি, তা হলে ওঁরাই খুব সুন্দর ভাবে সামলে নেন। কেউ টেরই পান না, আমরা আছি, না নেই।
আমাদের সন্তানটিও হয়েছে আমাদের মতোই। নিউ সাউথ ওয়েলস আর বার্ডসভিল— এই দুই জায়গাতেই বিচরণ করতে ও খুব পছন্দ করে। ফলে ১৮০০ কিলোমিটারের দূরত্বটা আমাদের কাছে এখন আর কোনও দূরত্বই নয়।’
সিদ্ধার্থ সিংহ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top