নিজের বুকের দুধ বিক্রি করে মাত্র ৭ মাসেই কোটিপতি – সিদ্ধার্থ সিংহ

– 

[post-views]

রাফেলা ল্যাম্পরুউ নামের ২৪ বছর বয়সি সাইপ্রাসের এক মহিলা নিজের বুকের দুধ বিক্রি করে মাত্র ৭ মাসেই কোটিপতি হয়েছেন।
আসলে ৭ মাস আগে এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন তিনি। জন্ম দেওয়ার পর আর সব মায়ের মতো তিনিও বাচ্চাটিকে নিয়মিত দুধ খাওয়াতেন। কিন্তু তিনি লক্ষ্য করে দেখেন যে, বাচ্চাটিকে খাওয়ানোর পরেও অনেক দুধ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই নিজের বুকের অতিরিক্ত দুধ তিনি অন্য কাজে ব্যবহার করার কথা ভাবতে শুরু করেন।
সেই অনুযায়ী, যে সব মায়েরা নিজের বাচ্চাদের দুধ খাওয়াতে অসমর্থ, তিনি তাঁদের হয়ে সেই সব বাচ্চাদের নিজের দুধ খাওয়াতে শুরু করেন।
কিন্তু লোকের মুখে মুখে যখন এই খবর ছড়িয়ে পড়ল, তখন আরও অনেকেই তাঁদের বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর জন্য তাঁর কাছে নিয়ে আসতে লাগলেন।
কিন্তু অতিরিক্ত হলেও, এত অতিরিক্ত হত না যে তিনি সবাইকে বিলোতে পারবেন। তাই অনেককেই তিনি ফিরিয়ে দিতে লাগলেন। আর‌ যাঁদের ফিরিয়ে দিতে লাগলেন, তাঁরা তখন নিরাশ হয়ে সেই দুধের বিনিময়ে টাকা দিতে চাইলেন। টাকার গন্ধ পেয়ে রাফেলাও সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে গেলেন এবং যাঁরা টাকা দিতে লাগলেন তিনি তখন তাঁদেরই কেবল দুধ দিতে লাগলেন।
প্রথম দিকে স্থানীয় কিছু মায়েদেরই বিক্রি করতেন, কিন্তু ধীরে ধীরে ক্রেতার সংখ্যা বাড়ায় তিনি ঠিক করলেন, এ বার থেকে‌ নিজের ইচ্ছামত তিনি দাম চড়াবেন। সেই দাম দিতে যাঁরা রাজি হবেন, একমাত্র তাঁদেরই দুধ বিক্রি করবেন।
অবশেষে রাফেলা লিটার হিসেবে বিক্রি করা শুরু করলেন তাঁর বুকের দুধ। শুধু শিশুরাই নয়, তাঁর বুকের দুধ খেয়ে বেশ খুশি হতে লাগলেন প্রচুর পূর্ণবয়স্ক ক্রেতাও। ফলে দিনকে দিন আরও বাড়তে লাগল তাঁর দুধের চাহিদা।
প্রতিদিন আসতে লাগল নিত্য নতুন অর্ডার। এক সময়ে অনলাইনেও নিজের বুকের দুধ বিক্রি করা শুরু করলেন রাফেলা। লিটার পিছু তাঁর বুকের দুধের দাম ধার্য করলেন ১ ইউরো।
তাঁর দুধের দাম আরও বেড়ে গেল, যখন বডি বিল্ডাররা নিয়মিত ভাবে পান করতে শুরু করলেন তাঁর দুধ। কারণ, হাই প্রোটিন বা পুষ্টিকর খাদ্যগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ খাবার হল দুধ। আর পশ্চিম দেশগুলোতে যারা শরীর চর্চা করেন, তাঁদের খাদ্য তালিকার মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা জায়গা দখল করে আছে এই দুধ।
তা ছাড়াও তাঁরা বিশ্বাস করেন, অন্যান্য প্রাণীদের থেকে নারীদের বুকের দুধে অতিরিক্ত এমন কিছু বিশেষ পুষ্টি উপাদান আছে, যা আর অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। আর সেই বিশ্বাসের জন্যই বডিবিল্ডারদের কাছে তাঁর দুধের চাহিদা তুঙ্গে পৌঁছে যায়। পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে আকাশছোঁয়া দামও।
পাশাপাশি রাফেলাও তাঁর দুধের গুণগত মান বজায় রাখার জন‌্য, মানে ক্রেতাদের সুরক্ষিত পুষ্টিকর দুধ দেবার জন্য নিজেও নিয়মিত শরীরের চেকআপ করাতে শুরু করলেন।
পাশাপাশি ছেড়ে দিলেন তাঁর অত্যন্ত প্রিয় দুটি জিনিস— ধূমপান আর মদ্যপান। আর ক্রেতাদের কথা ভেবে তিনি এই কৃচ্ছসাধন করেছেন বলেই, মাত্র সাত মাসেই নিজের বুকের দুধ বিক্রি করে তিনি আজ হয়ে উঠেছেন একেবারে কোটিপতি।
সিদ্ধার্থ সিংহ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top