নিরাপদ ভালোবাসা – প্রদীপ দে

আবেগ প্রেরণা’কে ধরে ফেলে। প্রেরণা হতবুদ্ধি আজ। যা ভাবার বাইরে ছিল তাই ঘটে গেল। নিয়তি কাকে বলে?

প্রেরণার মা আজ সকালেই ছাদে কাপড় মিলতে গিয়ে ছাদ প্যারাপাড বিহীন থাকায় আচমকা নীচে পড়ে যায় এবং সঙ্গে সঙ্গে মারা যায়।

একমাত্র কন্যা হওয়ায় ওই মুখাগ্নি করে এবং শোকাতুর হয়ে পড়ে। দৌড়ে চিতার সামনে থেকে সরে যেতে গিয়ে শাড়ির আঁচল আটিকে যায়। বিপদ হতে পারতো। আবেগ তৈরী ছিল, প্রেরণাকে ধরে সান্তনা দেয়।

কপাল একেই বলে! একা প্রেরণা যখন একেবারেই একা শুধু আবেগ ওকে আগলে রেখেছিল ঠিক তখনই মাস খানেকও হয়নি,বছর খানেক আগের দেওয়া ব্যাঙ্ক সার্ভিস পরীক্ষার ফলে ও উর্ত্তীর্ণ হওয়ার খবর আসে এবং আরো মাস দুয়েকের মধ্যেই ওর চাকরি পাওয়া হয়ে যায়।

প্রেরণা’র মন নেচে ওঠে। পুরানো স্মৃতি সে ভুলে যেতে চায়। চায় নতুন করে জীবন গড়তে যেখানে সে একাই সকল সিদ্ধান্ত নেবে। আবেগের দায়িত্ব থেকে সে নিজেকে বের করে নিতে চায়। অতীতকে
অস্বীকার করে নতুনভাবে বাঁচতে চায়।

প্রেরণা আবেগ ‘কে সব জানায়। ওকে মুক্তি দিতে চায়। ওর মনে হয় আমি ওর বোঝা হয়ে পড়েছিলাম।

আজ সে চলে যাচ্ছে নতুন জায়গায় নতুন চাকরির পোষ্টিং নিয়ে।
আবেগের মন খারাপ। তবুও হেসে মেনে নেয় তার এই যাওয়া।

হাওড়া স্টেশন থেকে ট্রেন ধরবে প্রেরণা। আবেগ সঙ্গে যায়। মেদিনীপুর লোকাল। ভীড়ে ভীড়। প্রেরণা ট্রেনে উঠতে গিয়ে আচমকাই হাত ফস্কে পড়ে যায় – আবেগ ছুটে এসে প্রেরনাকে ধরে ফেলে। ট্রেন ততোক্ষনে গড়িয়ে চলেছে। প্রেরণা হতবুদ্ধি হয়ে যায়, মায়ের দুর্ঘটনার কথা মনে পড়ে যায়। ভয়ে চোখ বুঁজে ফেলে। আবেগ ততোক্ষনে তাকে নিজের বুকে জড়িয়ে ধরে ফেলেছে।

ট্রেন এবার নিজের গতি বাড়িয়ে প্ল্যাটফর্ম ছাড়ে। চতুর্দিকের প্রচন্ড কোলাহল নিমেষে স্তব্দ হয়ে যায়।
বাহ্যিক সমস্ত ইচ্ছা অনিচ্ছা হারিয়ে ফেলে প্রেরণা। আবেগকে ভালোবেসে জাপটে ধরে রাখে।

প্রেরণা নিজেকে নিরাপদ ভাবে…….
চোখের জলে আবেগের বুক ভিজে যায়……
আজ ভালোবাসা তার নিরাপদ আশ্রয় খোঁজে…….

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top