নিয়তির শেষ খেলা – কবি কাজল মাস্টার

 3 total views

[post-views]

আনন্দ আর অশ্রু ২০ বছরের সংসার তাদের।সুখেই কেটে যায় তাদের দিন।কিন্তু নিয়তি বড়ই নিঠুর।নিয়তির একটু হোচটে আজ তাদের জীবন বিপন্ন। হঠাৎ আনন্দ অসুখে পড়ল।আয় রোজগার সব বন্ধ। কিন্তু সংসারের খরচ কম না।একছেলে আর একমেয়ে। পড়াশুনা,খাওয়া খরচ মেটাতে অনেক টাকা ঋণ হয়ে যায়।পরে লাভে টাকা ধার নেয়।আস্তে আস্তে অনেক ঋণ হয়ে যায়।কোন পথ না পেয়ে অশ্রু দূর প্রবাসে পা বাড়ায়।ছেলে মেয়ে নিয়ে অনেক কস্টে কাটতে থাকে আনন্দের জীবন।ভালো কাজ ও পায় অশ্রু।  থাকা খাওয়া ভালো।বেতন একটু কম।
তবে নিরাপদ।আনন্দ বলে সমস্যা নেই।সব যখন ভালো বেতন একটু কম তাতে কি।দুজনে মিলে সিদ্ধান্ত নিল আগে ঋণের বোঝা কমাতে হবে।যেই কথা সেই কাজ। অশ্রু যা দেয় তা দিয়ে আনন্দ ঋণ দেয় আর নিজে যা কামায় তা সংসারে খরচ করে।মোটামুটি ভালো ভাবে বছর কাটে।ঋণের বোঝা ও অনেক কমে যায়।ভাবতে থাকে এভাবে দিতে থাকলে তারা ঋণ থেকে মুক্তি পাবে।এখানে বলা দরকার অশ্রু টাকা দিলে ও আনন্দকে অনেক কথা শুনায়।তারপর ও আনন্দ কোন কিছু বলে না।মুখ বুঝে সব সয়ে যায়।কারন তাকে তো আগে ঋণ থেকে মুক্ত হতে হবে।আগে ধার শোধ কিসের এত মান অপমান।
আস্তে আস্তে অশ্রুর বেতন বাড়তে থাকে।ওর মন মানষিকতার পরিবর্তন হতে থাকে।আনন্দ বুঝতে পারে অশ্রু এখন পিছ পা হতে চায়।বুঝে ও না বুঝার ভান করে।ভাবে অশ্রু যদি সুখ খুঁজে পায় তাতে তাঁর সমস্যা নেই।
অশ্রু আজকাল আনন্দের তেমন খোজ নেয় না।ও এখন সব সময় কাজের অজুহাত দেখিয়ে কেটে পড়ে। মাঝে মাঝে কথা বললে ওর মাকে তুলে বকা খেতে হয়।অপমান করে। মুখে যা আসে তাই বলে তারপর ও আনন্দ ভাবে ও সংসারের জন্য এতটা করে  মনকে সব ভুলিয়ে সামনে এগুতে থাকে।অশ্রু একদিন জানিয়ে দেয় ও আর কোন টাকা দিবে না।আনন্দ ভাবে নিয়তি যা করে তাই হবে।অশ্রু আজ কাল দিন  রাত ইমুতে,লাইকিতে,ফেইসবুকে পড়ে থাকে।
আনন্দ কে নিয়ে তার কোন খেয়াল নেই।আনন্দ ও ভাবে যাক ওগুলো করে অশ্রু যদি সুখি হতে পারে হোক। যে কথা সে কাজ।আনন্দ তাঁর জীবনকে ছেড়ে দিয়েছে নিয়তির হাতে।অশ্রু এখন ভিডিও ছাড়ে লাইকিতে।আনন্দের ওগুলো দেখে খুব কস্ট হয়।অশ্রুকে বোঝায়।অশ্রু আরো বেশি বেশি ছাড়ে যেন আনন্দের আঘাত লাগে।অনেকের সাথে কমেন্টে মজার মজার গল্প করে।আনন্দ সব দেখে আর নিরবে নিরবে কাঁদে।
কি তাঁর করা।সব নিয়তির খেলা।অনেক বলার পর ও যখন দেখে অশ্রুর মাঝে পরিবর্তন নেই। তখন নিজ থেকে দূরে সরে যায়। যেন অশ্রু সুখ পায়, শান্তিতে থাকে।অশ্রুর সাথে কথা বলা ছেড়ে দেয়।দেখতে চায় এগুলো করে, আনন্দ কে কাঁদিয়ে অশ্রু কতটা সুখি হতে পারে।রোগে,শোকে,অভাবে কাটতে থাকে আনন্দের দিন,মাস,বছর।এ জন্য তার মনে কোন দুঃখ নেই,কস্ট নেই।সে চায় অশ্রু সুখি হোক।অশ্রুকে সুখি দেখলে তার সুখ।নিজের ভাগ্যকে সে ছেড়ে দিয়েছে নিয়তির হাতে।আনন্দ  দেখতে চায় নিয়তির শেষ খেলা।
কবি কাজল মাস্টার
0 - 0

Thank You For Your Vote!

Sorry You have Already Voted!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top