নীল ছবি

 54 total views

#নীলছবি
#শম্পা_সাহা

নবারুণ দরদর করে ঘামছে। ঘরের পাখাটা যদিও বেশ জোরে চলছে তবু ও ঘামছে। থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে পরম আশ্লেষে ওর চোখ বুজে আসছে।

সামনে খোলা ল্যপটপ, আর অন্ধকার ঘরের চারকোণে ভাসছে হাল্কা নীল আলো আর নরনারীর কামার্ত শিৎকার মৃদু কিন্তু তিক্ষ্ণ।

নবারুণ নিজেকে কল্পনা করছে, “অ্যাট দ্য টপ অফ দ্য ওয়ার্ল্ড”! আঃ, এই তো সুখ! সুখ কি এর চেয়েও বেশি ভালো হয়? কি জানি? নবারুণ ক্লান্ত, পরিতৃপ্ত, এলিয়ে পড়ে বিছানায়! পরম শ্রান্তি, চোখ জুড়ে আসে। পর্দার নরনারীরা ক্লান্ত হয় না কখনো। ওরা কি করে পারে এতো? ঘুমোতে ঘুমোতে একবার ভাবে নবারুণ!

উচ্চমাধ্যমিকে ব্যাক ফিজিক্স আর ম্যাথসে।কেমিস্ট্রি টা কোনোরকমে উৎরে গেছে। কেন এরকম হলো? মা কাঁদছেন, বাবা অনেক্ষণ চিৎকার চেঁচামেচি করে ক্লান্ত হয়ে চুপ করে বসে ব্যালকনিতে সিগারেট টানছেন। অন্য দিন হলে এ সময় তাস খেলতে যান কিন্তু আজ ছেলে কি আর তার বের হবার মুখ রেখেছে?

কেন ফেল করলো নবারুণ? যে ছেলেটা মাধ্যমিকে পঁচানব্বই শতাংশ নম্বর পায় সে কি করে উচ্চমাধ্যমিকে ফেল করে? টেস্টে ও খারাপ করেছিল তবে ফাইনালে ফেল করবে কেউ আশা করেনি। সবাই ভেবেছিল ঠিক সামলে নেবে! অনেকেই তো টেস্টে খারাপ করে কিন্তু ফাইনালে ঠিক সব সামলে নেয়।

নবারুণ দরজা বন্ধ ঘরে বসে। যদিও সবাই তাকে প্রশ্ন করছে কেন কেন কেন? কিন্তু সে কখনোই এ প্রশ্নটা নিজেকেই করতে পারবে না। সে তো জানে। ইলেভেনে ওঠার পর যখন নিট এর প্রিপারেশন আর অনলাইন ক্লাস অ্যাটেন্ড করার জন্য তাকে ল্যাপটপ টা বাবা কিনে দিয়েছিলেন তার পর থেকে ওটা আসল কাজের চেয়ে অন্য কাজেই ব্যবহার হয়েছে অনেক বেশি!

বাকি বন্ধু দের সঙ্গে নবারুণও তলিয়ে গেছে এক গভীর নীল ঘূর্ণাবর্তে। যেখানে প্রবেশ করতে করতে নতুন করে জেনেছে নিজের শরীর কে, নারীপুরুষের গোপন সম্পর্ক কে। নিজের স্পর্শ নিজেকেই যে এত রোমাঞ্চ, এত ভাললাগা দিতে পারে সে বুঝেছে ধীরে ধীরে। আবিষ্কার করেছে এক নিষিদ্ধ অমৃতের জগৎ। যা আসলে তাকে টেনে নিয়ে গেছে ঘোর নেশার অন্ধকারে। যেখান থেকে বেরোনোর পথ নবারুণ খুঁজে পায়নি। ছটফট করেছে কিন্তু আবার আত্মসমর্পণ করেছে সেই নীল নেশার কাছেই।

যখন রাত জেগে নিজেকে নিঃশেষ করতে করতে ঘুম আসার বদলে অস্বস্থি এসেছে, যন্ত্রণা এসেছে, চোখের কোণে কালি পড়েছে বাবা মা ভেবেছেন ও বোধহয় রাত জেগে পড়ে! হবে না? সাইন্স বলে কথা।

আর এখন যখন সবই ধরা পড়ে গেছে, সব ফাঁকিই সবার কাছে পরিষ্কার তখনো নবারুণ ওই নেশার ঘোরে এই বর্তমান অবস্থা থেকে পালাতে চাইছে!

কিন্তু কই সেই অনুভূতি তো আসছে না? ক্রমাগত দ্রুত থেকে দ্রুততর হয় নবারুণ! কিন্তু সে নেশার কর্মক্ষমতা যে শেষ হয়ে গেছে! তাতে নবারুণের শরীর আর মন কোনোটাই যে আর সাড়া দিচ্ছে না!

এভাবে যে কত নবারুণ রোজ এই নীল ঘূর্ণাবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে, তাদের সঠিক দিশা দেখাবার দায় ঠিক কার?

©®

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *