পংপিং

ড.ময়ূরী মিত্র

ইংরাজী ভাষায় নিজের নাম লিখুন ।

 9 total views

স্কুলে আসছিলাম খানিক আগে | দেখি পথের প্রত্যেকটি ফ্যান্সি দোকানে এক ভদ্রলোক পাগলের মতো পিংপং বল খুঁজে বেড়াচ্ছেন | জিজ্ঞেস করতে শুনলাম মেয়ের স্কুলে হাতের কাজে লাগবে | অনেকদিন বাদে শুনলাম পিংপং বলের কথা | ফলে স্মৃতি একটু বেশি ঝলকালো আমার | চোখে দৃশ্য এল | দৃশ্য থেকে দৃশ্যান্তর |

ছেলেবেলায় এই পিংপং বলে চুমকি গাঁথা একদম নেশা হয়ে গিয়েছিল আমার | অখণ্ড মনোযোগে আলপিনে চুমকি ঢুকিয়ে ফটাশ করে পিংপং এর পেটে ফুটিয়ে দেবার নেশা | ও বাবা ! সে ছিল আমার ঘোড়ার মাঠের জুয়াড়িদের থেকেও জোরালো এক নেশা |

চুমকিগুলো এমনভাবে গাঁথতাম যাতে পিংপং এর সাদা একটুও না দেখা যায় বাইরে থেকে | থরে থরে সাজাতাম পুরো লাল অথবা পুরো বেগুনি পিংপঙ | একটুও ফাঁক না রেখে চুমকি গাঁথতে গিয়ে হাতে আলপিন ফুটত |

আঙুলের ডগায় বিন্দু রক্ত নিয়েই রক্তলাল করে ফেলতাম ট্যাবলা ট্যাবলা পিংপংগুলোকে | তারপর সেই লাল বেগনে পিংপংগুলোকে কখনো লাগাতাম চুলে কখনো মাদুলি স্টাইলে গলায় | পলকা সুতলিতে গলার কাছে থানইঁট হয়ে ঝুলত আমার সাধের পিংপং লকেট | কখনো বা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ছোট ছোট দুটো কানের পাশে লাগতাম দুটো ঢাউস পিংপং | এককানে লাল তো অন্য কানে নীল | naturally রাক্ষুসী লাগতো |

কেঁদে ছুঁড়ে ফেলে দিতাম | মা খুঁজেপেতে ঝুড়িতে লুকিয়ে রাখতেন | শয়তানি বুদ্ধি দিয়ে ঠিক খুঁজে বার করতাম ও হিংস্র হাসি দিয়ে ছুঁড়ে ফেলতাম আবর্জনায় | পরের দিন আবার নতুন আশায় নিমগ্ন হতাম |

নেশা খুলতো ডালপালা মেলে | ফের নতুন রঙের চুমকি কিনতাম | এবং আবার সেই দুল হার তৈরি করতে না পারা ও ঝপ করে সেটাকে ফেলে দেয়া | অথচ তৈরির সময় কী যত্ন যে করতাম বলগুলোর | গুরুত্ব নষ্ট করে ফেলতাম সেগুলো তৈরির পর | কেমন একটা ধারণা ছিল, যা দিয়ে আমি নিজেকেই সাজাতে পারব না তার আবার সুন্দর অসুন্দর কি ? সে তো ফালতু |

আসলে দেখতে শুনতে তো কোনোকালেই ভালো ছিলাম না | তাই মানাক না মানাক , যে কোনো চকচকে বস্তু দেখামাত্তর তা দিয়ে শরীর সাজাবার এবং সাজ দিয়ে পুরুষ মজাবার একটা বদ ঝোঁক তৈরি হয়ে গিয়েছিলো আমার | সেই ঝোঁক কবে থেকে বা আজো তা আমার মাঝে লুকিয়ে রয়ে গিয়েছে কিনা তা কি নিজেও জানি ছাই ! শুধু জানি গয়না করে গা মাথা সাজাতে না পেরেই ইচ্ছে করে করে হারাতে লাগলাম সুন্দর সুন্দর পিংপং |

চিরকালের অসুন্দর থেকে গেল ময়ূরাবতী | এক হায়াহীন কুচ্ছিত পাখি | আকাশে শুধু চক্কর কাটে | গৃহস্থ আত্মজন যারে দেখলে ডরায় | ও খুকি তুই যেন তোর পিংপং খোয়াস নারে ! রেখে দিস বড় যতনে | ঘরের সবথেকে উঁচু তাকটিতে !

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *