পদবি – রায়হান আজিজ

[post-views]
.

“মিতা! আমার প্রতি এত ঘৃণা তোমার!” বেশ অভিমানের সুরেই কথাটি বলল রেজা।

—-“এ কথা কেন হচ্ছে রেজা?”

—– বুঝতে পারছনা নাকি চাইছনা?

—– ও বুঝেছি! বাবুর কেন এত রাগ আমার ওপর!

—– বুঝতেই যখন পারছ তখন কাজটা করে ফেলেলই
পার!

—– শোন রেজা! কাজটি আমি কিছুতেই করবনা।

—– কারণ জানতে পারি মহারাণী?

—– নিশ্চয়ই! তুমি শুধু মনযোগ দিয়ে আমার কথাগুলো
শুনবে। কেমন?

—– ওকে বাবা!

—– প্রমিজ?

—– ডান।

—— দেখ রেজা! তুমি তো চাইছ আমি যেন আমার
পদবি বদলাই, তাইতো?

এবার প্র্যাকটিকালি কিছু বিষয় চিন্তা কর।

—- আমি যদি তোমার ইচ্ছা পূরন করি তবে আমার নিজস্ব পরিচয় বলে কি কিছু থাকবে? তুমিতো কখনওই নিজের পদবি বদলে আমার পদবি নেবেনা। তবে কি শুধু স্বামী বলেই আমার প্রতি জোর খাটাচ্ছ? এটিতো উচিত নয়।

—- আচ্ছা! আমার বাবা-মা তো অনেক আশা করে আমার নাম রেখেছেন। তাদের ভালবাসার দেয়া নাম তোমার সঙ্গে দুদিনের পরিচয়ে কি করে মুছে ফেলি? শুধু কি তুমি স্বামী বলেই? তোমাকে একথা মানতে হবে যে, এ বিষয়ে জোর খাটালে তুমিই ছোট হবে।

—- দেখ! পদবি বা নাম পাল্টাতে গেলে এফিডেভিটের ঝামেলা তো আছেই। সঙ্গে আছে এনআইডি কার্ড সংশোধনের ঝক্কি। এসব নিশ্চয়ই অস্বীকার করতে পারবেনা?

—- আচ্ছা, ধর যদি স্বামীদের নামের সঙ্গে স্ত্রীদের নাম বা পদবি যুক্ত করার বিধান থাকত তবে তোমার নাম হত রেজা মিতা। ভেবে দেখ তো হাস্যকর হতোনা নামটি? তবে মিতা রেজা নামটিই বা হাস্যকর বা অদ্ভুত নয় কেন?

—- তোমাকে বুঝতে হবে যে স্বামী-স্ত্রী’র সম্পর্ক হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে ঠুনকো সম্পর্ক। যে কোনও সময় তাদের ডিভোর্স হয়ে যেতে পারে। ডিভোর্সের পর কি স্বামীর নাম কিংবা পদবির কোনও গুরুত্ব থাকে? তুমিই বল? মহিলারা তো সেই তো বাবার দেয়া পদবিতেই প্রত্যাবর্তন করে। তোমাকে একটি বাস্তব উদাহরণ দিচ্ছি। তুমিতো নিশ্চয়ই কিংবদন্তি অভিনেত্রী রেশমা সাজেদের কথা জান। বিয়ের আগে তিনি ছিলেন রেশমা বেগম। সাজেদ সাহেবের সঙ্গে ডিভোর্সের পর থেকে তিনি আবার রেশমা বেগম হয়ে গেলেন।

তাই বলি কি রেজা, স্ত্রীদেরও নিজস্ব পরিচয় আছে। তাকে সম্মান করতে শেখ। কাউকে সম্মান করলে কেউ ছোট হয়ে যায়না।

— তুমিতো আমার চোখ খুলে দিলে মিতা! থ্যাঙ্ক ইউ সো মাচ!

আপনার মতামত এর জন্য
[everest_form id=”3372″]
রায়হান আজিজ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top