পিতৃপক্ষ – উদয়ন গোস্বামী

[post-views]
.

ঈশান কোনের পায়রাটার আচমকা পাখসাটে ভয় পেয়ে সে আমাকে একেবারে লতিয়েই ধরল এবার।আধখোলা স্কুলব্যাগটা ঘাসের উপর শয্যাশায়ী।আমার বুক পকেটের কলমটা বুঝি গেঁথেই গেল ওর বুকে।কলমের খোঁচা লাগছে এই বুকেও। টিকটিকির ল্যাজের মত ওর সবৃন্ত মাংসফুলদুটো আমার বৈশাখী পাঁজরে ঘনঘন আলোড়ন তুলে চলেছে।

এ সময় অনেক ঘুমন্ত সাগরকে দেখেছি হুট করে জেগে উঠতে।সাধারনত, সামান্য মর্দনেই এসময় ভিজে যায় ধরিত্রীর যোনি।অথচ দ্যাখো,সেসবে না গিয়ে, এই মুহুর্তে আমার নুন চাটা আঙ্গুলগুলো কেমন ওর অশান্ত চুলে ঝাউপাতা হয়ে গেছে।এমনটা তো ঘটার কথা ছিল না।মন্থনের সন্ধানে,এই আমিই কিনা ষোড়শী এই ছাত্রীটিকে ফুঁসলে এনেছিলাম নির্জন ছাতিমতলায়।

আর সে এসেছিল আমার কবিতায় নাইবে বলে।সত্যি, এমনটা হবার কথা ছিল না।একটা বাড়ন্ত ফিঙেপাখি, একটা ঘুমন্ত ঘাসফড়িংকে ধরতে গিয়েও ধরল না দেখলাম।তলপেট নয়, ঝড় উঠছে মনে।এই নিয়ে দ্বিতীয়বার,নিজের কাছে নিজেকেই অচেনা ঠেকছে কেমন যেন।একটা চাপা কান্না হয়ে কলমটা খুব জোরে চাপ দিচ্ছে এবার।অথচ,আলিঙ্গন্মুক্ত হতে চেয়েও পারছি না।

কেন কে জানে।এমনটা সত্যি ঘটার কথা ছিল না।মহানন্দার দিক থেকে ফেরত এল কয়েকটা সহাস্য মাছরাঙা। ঠোঁটে রামধনু।পালকে দুরবীন। কবিপক্ষ বোধহয় শুরুই হয়ে গেছে কাল থেকে।ঠিক এই সময়টাই বুঝতে পারি যে তৃষ্ণার্ত অধর সবসময় রক্তিম পাকা ওষ্ঠকেই খোঁজে না। চুম্বনের জন্য একটা কচি সবুজ মাথারও দরকার পরে কখনও সখনও।

.

আপনার মতামত এর জন্য
[everest_form id=”3372″]


Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top