পিরিয়ড ও ফুটেজ

শম্পা সাহা

ইংরাজী ভাষায় নিজের নাম লিখুন ।

 15 total views

#পিরিয়ডফুটেজ
#শম্পা_সাহা

আজকাল এক নতুন ট্রেন্ড পিরিয়ড নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা।তা নিয়ে কেউ সমর্থনে।কেউ আবার বিরক্ত।

এবার যারা রক্তমাখা ন‍্যাপকিনের ছবি দিচ্ছেন বা জামায় পিরিয়ডের রক্তের দাগ নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং কেউ হাসলে বা কৌতুহলী হলে চিৎকার করে গলা ফাটাচ্ছেন,এটা একটা সোস‍্যাল ট‍্যাবু ব্লা ব্লা।

হ‍্যাঁ, ছিল, দশ বছর আগে।এখন নয়।এখন ক্লাস এইটের পরিবেশ বিজ্ঞান বই এর দৌলতে ডিম্বাশয়, শুক্রাশয়,অ্যাডোলেসেন্স নিয়ে ছেলেমেয়ে নির্বিশেষে সবাই অনেকটাই জেনে যায়।

ক্লাস নাইনেই আছে ডিম্বাশয়, শুক্রাশয় তাদের কাজ ।এবং ক্লাস টেনে যৌন হরমোনে তো সব ,গৌন যৌন লক্ষণ,পিরিয়ড,গোঁফ দাড়ি সব আছে।মোটামুটি সুন্দর ভাবে।

আর যারা সাইন্স পড়ে তারা তো যৌনাঙ্গের ছবি এবং ডিটেইলসও জানতে পারে,নারী পুরুষ সকলের।এমনকি ক্লাসে বা প্রাইভেট পড়তে গিয়ে পিরিয়ড সাইকেলও ডেট তারিখ সহ মুখস্থ করে এবং গর্ভনিরোধক, কন্ডোম থেকে শুরু করে সব ছবি দিয়ে ডিটেইলস এ তাদের জানানো হয় সিলেবাসের স্বার্থেই, ছেলেমেয়েদের একসাথেই!

এমনকি যৌন রোগ সম্পর্কেও বিস্তারিত পদ্ধতি,লক্ষণ,প্রতিকার সবটাই দেওয়া।এবং সাইন্সের ছেলে মেয়েরা তাদের আর্টস বা কমার্সের বন্ধুদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করে না, মানতে পারলাম না।

তাহলে আর কি জানানোর আছে? কার আরো কি জানাতে হবে? যার জন্য ন‍্যাপকিন,রক্তমাখা ন‍্যাপকিনের ছবি দিতে হবে?

মন্দিরে ঢুকতে না দেবার বিরোধিতা করুন, আপনার পিরিয়ড হলে নিজে ন‍্যাপকিন কিনে আনুন তাতে আপত্তি নেই।কিন্তু তা বলে রক্তমাখা ন‍্যাপকিনের ছবি কেন দিতে হবে?

আপনি বলবেন,কালো প্লাস্টিকে কেন মুড়ে দেয়? এ তো স্বাভাবিক ঘটনা!ঠিক!তাহলে অন্তর্বাসের প‍্যাকেটটা কি ব‍্যাগে না ভরে হাতে করে ঝোলাতে ঝোলাতে আনেন?শাড়ি কিনে কি খুলে নিয়ে আসেন না প‍্যাকেটে মুড়ে?

কালো প্লাস্টিকে আপত্তি?সাদা প্লাস্টিক নিন,বা ওই ধরনের ব‍্যাগ বা থলে!তবে এতে আবার দয়া করে সমাজটমাজ তুলে অযথা ফুটেজ খাবেন না।

আর জামাকাপড়ে দাগ লাগা?সত‍্যিই তো!এ তো স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, লোকে এ নিয়ে ফিসফিস করবে কেন?আচ্ছা প্রাতঃক্রিয়া তো নারীপুরুষ নির্বিশেষে সবার জন্য অবশ‍্য কর্ম।তা কোনো ছেলের প‍্যান্ট হলুদ হলে কেউ হাসবে না তো? কেউ এ নিয়ে ফিসফিস করবে না তো?

আর পটি বা টয়লেট করার মত সবার জন্য সবচেয়ে স্বাভাবিক ক্রিয়াও আমরা সবার সামনে করি না,তার দাগ ও আমাদের অস্বস্তি তে ফেলে,নারী পুরুষ নির্বিশেষে!তাই পিরিয়ড নিয়ে এতো দেখানেপনা কিসে?নাকি বেশ ট্রেন্ডি ,পাবলিক খায়,হট টপিক তাই?

আর আমি এসব কেন বললাম?ট্রেন্ডি বলে,ফুটেজ খেতে? না আমার এক পাঠিকার অনুরোধে।আর ব‍্যক্তিগত ভাবে সব কিছু নিয়ে বাড়াবাড়ি না করে নিজের ছেলে বা মেয়েটাকে যথার্থ শিক্ষা দিলেই তো সেটা অনেক বেশি কার্যকরী হয়।হ‍্যাঁ, ফুটেজ খাওয়া যায় না বটে!

©®বি:দ্র-গাল খাবো জেনেও লিখলাম কারণ এ সব করে আমরা আসল সামাজিক সমস্যা গুলোকে এড়িয়ে যাচ্ছি না তো?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *