পুঁটি আর কড়াইশুঁটি

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn

ঠিক বারোয় পড়েছি তখন | ঐ বয়সেই একটা নয় বছরের মেয়ে জুটলো আমার | দুর্দান্ত | দুরন্ত | কিম্ভুত সাজপোশাক | কোনোদিন যদি ঘেরওয়ালা ফ্রকের সাথে একটি পকেটওয়ালা খোকাপ্যান্ট পড়লো তো আরেকদিন কেশহীন মুন্ডুতে বাঁধলো একটি চকরাবকরা রিবন | পাড়ার খুড়িপিসিদের বলতো —মা ছাড়াই মামা মাসীদের কাছে মানুষ হচ্ছে অভাগী |

মা কোথায় গেলো , আবার কোনোদিন ফিরবে কিনা,মা ছাড়া সে মেয়ে কতটা দুখ বয়ে বেড়ায় এসবে একছটাকও কৌতুহল না দেখিয়ে প্রথম দিনই ঠিক করে নিলাম এ মেয়ের মা হবো আমি | নাম দিলাম পুঁটি | সে হলো আমার পুঁটি মেয়ে |

পুঁটি মেয়েকে লালন করা কিন্তু সোজা হয়নি আমার পক্ষে | প্রথম কথা বারো বছরের মা আর নয় বছরের মেয়ে | আমি যদি তার ইজেরের ইলাস্টিক টেনেটুনে ঠিক করে দি তো সে তৎক্ষণাৎ আমার ঘটিহাতা ছোট্ট ব্লাউসটার টিপ বোতাম লাগিয়ে দেবে | আমি যদি তাকে কদবেল জারিয়ে খাওয়াই তো সে আমায় দলা পাকিয়ে গেলাবে সরস্বতীপুজোর চালমাখা | কাঁচা চাল ভেজা -, মুগডাল যত ফালতু জিনিষ গিলে মরো এবার |

দ্বিতীয় কথা হলো তার মা যে নেই এবং বাকিদের মা যে আছে , এই থাকা না থাকার গ্যাপটাই ধরতে পারছিল না সে | শোকতাপের বালাই তো নেইই –দিনরাত রাক্ষসী হাসি হেসেই চলেছে | আহা রে মা নেই —কোনোরকমে এরকম একটা অনুভুতি তৈরি করে যখনি তার মাথায় বিলি কাটতে গেছি ফিনফিনে চুল দুলিয়ে ছুট লাগিয়েছে পুঁটি মেয়ে |

দুদিনের মধ্যে আর এলোই না মোটে আমার কাছে | মায়ের আদরে তার এমনি অনীহা যেদিন আদর আদর বাই চাপতো আমার , বিনাবাক্যে সে আমায় মারতো এক চড় | ব্যাস এবার তার বারো বছরের মাও মারপিটে নেমে পড়লো |

পারছিলাম না | পারছিলাম না | কিছুতেই মা হওয়ার খেলায় জিততে আর পারছিলাম না | এরই মাঝে বড় মাঠে দুধেল গাই মরল | পুঁটি মেয়ের বায়না মরা গরুর চোখ কেমন খুলে থাকে তাই দেখবে | বলাবাহুল্য পুঁটিমেয়ের এইসব বিদিকিচ্ছিরি আবদারে পরের দিকে আর তেমন অবাক হতাম না | মাকে লুকিয়ে দুজনে মিলে গেলাম মরা গাই ঘাঁটতে | হাতপা ছড়িয়ে কাঁদছে গরুর পালক | হিহি করে হাসছে রাক্ষসী পুঁটি | মুখ চেপে ধরে আছি শয়তান মেয়েটার |

হঠাৎ হাত ছাড়িয়ে সে দৌড় দিলো অনেকটা দূরে একা ঘুরতে থাকা একটা বাছুরের দিকে | হাঁ করে দেখলো খানিক | তারপর টেপফ্রক তুলে গোল্লা পাকিয়ে বানালো এক ঘেরাটোপ | ছোট্ট মুণ্ডু ঢুকিয়ে হাউহাউ করে কাঁদতে লাগলো | কত করে বোঝাতে লাগলো সবাই , বাছুরটা মৃত গাভীর নয় | এর মা বেঁচে আছে | তবুও কাঁদল পুঁটি | চোখ খোলা মরা মায়ের পাশে যে কোনো এক বাচ্চার একা হয়ে থাকাটাই কাঁদালো তাকে | কাঁদতে কাঁদতে হেঁচকি উঠে গেলো তার | শিকনি বেরিয়ে গেলো ফতফত করে |সেদিন আমার পুঁটিমেয়ে মাঠের মাঝেই দুম করে চড়ে বসলো তার পুঁটিমায়ের কোলে | মাঠের মাঝেই দিকবিদিক ভুললো পুঁটিমা |

কড়াইশুটির ছাড়ার তলে
সবুজ মটর খেলে |
সে কত্ত |

ক্লিক করুন
ফেসবুক পেজ লিঙ্ক

https://www.facebook.com/storyandarticle/posts/174490701144906


লেখাটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top