পুঁতির মালা – অমিতাভ মুখোপাধ্যায়

[post-views]

 

সত্তরের দশকের শেষ.দেবানন্দপুরের কাঁচা পাকা রাস্তা দিয়ে হেঁটে চলেছে সুমনা ও বাসব.দুজনে আলাদা কলেজে পড়াশোনা করে. স্কুল জীবন থেকেই  ওদের আলাপ.মন দেয়া নেয়ার শুরু. বাসব শান্তিনিকেতনের  মেলা থেকে বাবার দেওয়া হাত খরচের   টাকা  বাঁচিয়ে সুমনার জন্যে একটি পুঁতির  মালা কিনে এনে ছিল. সুমনা সে মালা ছুঁয়েও দেখে নি.অভিমানী বাসব তখনই সেই মালাটি পাশের পুকুরে  ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল.এ রকম একটা অপমানকর অবস্থার মুখোমুখি হতে হবে বাসব স্বপ্নেও ভাবতে পারে নি.

কিছুক্ষণ দুজনের মধ্যে কোন কথা হয় নি.  বাসব ভালো গান গাইতো. তাই ফেরার সময় সুমনা বাসবকে একটি গান গাইতে বলেছিলো.হ্যাঁ, শেষ বারের মতো একটি গান গেয়েছিল বাসব.

ব্যান্ডেল স্টেশনে পৌঁছে  দুজনের পথ আলাদা হয়ে গিয়েছিলো. আর ওদের দেখা হয় নি ;তবুও বাসব সুমনার জন্য অপেক্ষা করেছিল.

শেষে, কমদামী পুঁতির  মালার মতোই খসে পড়ে ছিল বাসবের অবুঝ প্রেম.প্রথম প্রেম.

অনেক পরে জীবনের নানা ঘাত প্রতি ঘাতের  মধ্য দিয়ে আহত বাসব  বুঝতে পেরেছিল —–সুমনা হয়তো আরও দামী কোন উপহার প্রত্যাশা করেছিল. কিন্তু বিকল্প কোন উপায় সেই সময়ে বাসবের ছিল না.

তাই এক কথায় –
না -অর্থই ছিল তাদের সেদিনের অপরিপক্ব সম্পর্কের করুণ পরিণতির জন্য দায়ী.

 

আপনার মতামতের জন্য

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top