পুত্রসন্তানের জন্য ৪৫ বছর স্নান করেননি তিনি – সিদ্ধার্থ সিংহ

[post-views]
.

ভারতের বারাণসীর বাসিন্দা কৈলাস সিং। তিনি একটানা ৪৫ বছর ধরে স্নান করেননি। কারণ, আর কিছুই নয়, একটিমাত্র পুত্রসন্তানের আশায়। যে বছরে বিয়ে হয়েছিল তাঁর, ঠিক সেই বছরেই নাকি একটি পুত্র সন্তানের জন্য তিনি এক সাধুবাবার কাছে গিয়ে হত্যে দেন।

সেই সাধু তাঁকে বলেছিলেন, তোর পুত্রসন্তান হবে। তবে সেই পুত্রসন্তান পেতে হলে, যত দিন না তোর বউয়ের কোল আলো করে সে আসছে, তোকে তত দিন স্নান না করে থাকতে হবে।

সাধুর সেই নির্দেশ মেনেই তিনি স্নান করা বন্ধ করে দেন তার পর দিন থেকেই। না, এক-দু’বছর নয়, ১৯৭৪ সাল থেকে আজ অবধি তিনি একবারের জন্যও স্নান করেননি। এই রকম একটি কঠিন সাধনা মন-প্রাণ দিয়ে অক্ষরে অক্ষরে পালন করার পরেও, সেই সাধুর ভবিষ্যৎবাণী কিন্তু আজও ফলেনি।

যত বারই তাঁর বউ গর্ভবতী হয়েছেন, তত বারই তিনি ভেবেছেন, এই বুঝি ঘর আলো করে তাঁর পুত্রসন্তান এল! ফলে গেল সেই সাধুর ভবিষ্যৎবাণী! তিনি খুশিতে ডগমগ হয়ে উঠেছেন। আর এ ভাবেই একের পর এক, না ছেলে নয়, মেয়ে সন্তানই হয়েছে তাঁর।

তাও একটা-দুটো নয়, পর পর সাত-সাতটা। সাধুর কথা মতো একটানা ৪৫ বছর স্নান না করেও, একটাও পুত্রসন্তান পাননি এই ব্যক্তি। এ দিকে এ নিয়ে তাঁর স্ত্রী কলাবতী দেবী বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন, স্নান করার জন্য তিনি তাঁর স্বামীর হাতে পায়ে পর্যন্ত ধরেছেন।

কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। তাঁর মেয়েরা পর্যন্ত বলে বলে হাল ছেড়ে দিয়েছেন। পাড়ার ছেলেরা তাঁকে ধরেবেঁধে স্নান করাতে নিয়ে গেছেন, কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। তিনি তাঁদের হাত ছেড়ে সেখান থেকে পালিয়ে গিয়েছেন। এত দিন ধরে স্নান না করার ফলে তাঁর গায়ে শুধু চাপ চাপ ময়লাই জমাট বাঁধেনি, এত বিচ্ছিরি গন্ধ হয়েছে যে, তাঁর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় লোকজন নাকে রুমাল চেপে ধরেন।

কয়েক দিন আগে তাঁর বউ পর্যন্ত হুমকি দিয়েছেন, তিনি আর তাঁর সঙ্গে থাকবেন না। এ বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি কারও কথা শুনব না। একমাত্র পুত্রসন্তানই আমাকে স্নান করাতে পারবে। যদিও জানি, এ জন্মে এই আশাটি আর পূর্ণ হবে না। তবে এটাই তো শেষ কথা নয়, এর পরেও আরও অনেক জন্ম আছে। এই জন্মে না হোক,‌ এর পরের কোনও না কোনও এক জন্মে তো পুত্রসন্তানের বাবা হবই। তখন না হয় স্নান করব!

আপনার মতামতের জন্য

[everest_form id=”3372″]
সিদ্ধার্থ সিংহ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top