প্রিয় অরুণাংশু // তনিমা হাজরা

প্রিয় অরুণাংশু
তনিমা হাজরা
প্রিয়
অরুণাংশু,
কাল রাতে চিনির পাত্রে নুন ঢেলে ফেলেছিলাম,আজ সকালের চায়ে প্রথম চুমুক দিয়ে সেটা টের পেলাম।

এখন মনে করতে পারছি না কিছুতেই সেই মুহুর্তে কি চশমা চোখে ছিলাম?

এমন নুনের উপর চিনি বা চিনির ভেতর লবণ ঢেলে ফেলা অস্বাভাবিক কিছু ঘটনা নয়,
হয়ত অনেকেরই এমন হয়।

আমার জীবনে এই প্রথম।
সেটাও বড়কথা নয়,
কিন্তু এই যে চশমা পরেছিলাম কিনা তখন, মনে করতে না পারা
সেটাই ভাবাচ্ছে ভীষণ।।

এই যে হাতের সামান্য দূরে দাঁড়িয়ে থাকা অতীত কিছুতেই ছুঁয়ে ফেলতে পারছিনা শতচেষ্টাতেও আর,
দুম করে পর্দা ফেলে দিচ্ছে স্মৃতি সব,
এটাই এখন আমার প্রায়শঃই আক্রান্ত বাস্তব।।

যদি এমনি করে হঠাৎ একটা সকালে
কাঠকুয়াশায় ঢেকে যায়, অরুণাংশু, তোমার নাম,
আমার কি হবে তাহলে?

অরুণাংশু, মনে মনে, সারাদিন তোমার সাথেই তো যত আলাপ আর প্রলাপ বকে বেঁচে আছি,
একটা কবিতা লিখে তোমাকেই তো প্রথম শোনাই, একটা রান্না রেঁধে তোমাকেই তো প্রথম খাওয়াই,
একটা কান্নার বিন্দু এলে,
সরসিজ টলটল, তোমারি তো হাতে দিয়ে বলি, আমাকে আগলে রাখো প্লিজ,
একরাশ খুশির তুষার পেলে
তোমারি তো দিকে ছুঁড়ে দিয়ে খিলখিল করে হেসে উঠি, মনে মনে, মনে মনে সারাদিন সারাদিন, সারাদিন।।

জানি এই ধাপে ধাপে স্মৃতিক্ষয়, এই তালের অন্দরে যত তালগোল, এই নিঃশব্দে সময়বিপর্যয়,
আমার তো হাতে নয়।।

কিন্তু এসবের ভূমিকম্পে,
তোমাকে হারাতে বড্ড ভয়, অরুণাংশু,
তোমাকে যে হারাতে বড্ড ভয়,

তখন কবিতা লিখে, আনাজ ছড়ানো রান্নাঘরে সুস্বাদু পদ পাতে,
একবিন্দু অশ্রু কিংবা
একমুঠো তুষার হাতে কার কাছে ছেলেমানুষির আতিশয্যে
আমি যাবো কার কাছে, ঊনকোটি প্রাত্যহিকী নিয়ে দিনভর নিশ্চিন্তে দাঁড়াবো কার কাছে নির্ভয়ে।।

কাঠকুয়াশায় ভরা জনহীন মাঠে,
চিনি আর লবণের বিভেদ
না বোঝা বিহ্বল মেয়ে,
তাই,
বীজমন্ত্রে জপে সারাদিন মনযাপনের প্রিয়নাম,
আর সব কিছু যার ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যাচ্ছে চুপচাপ
ঘোর বিস্মৃতির ঝাঁপ
ফেলে পালিয়ে যাওয়া
ঝাপসা তল্লাটে।।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *