ফুল – প্রদীপ্ত দে চৌধুরী

– 

[post-views]

গোলাপ নাকি মানুষের অতি প্রিয়! সেটা শুনেই গোলাপের গুমর গেলো বেড়ে। সে কাঁটা বিছিয়ে দিল পুরো গাছে, সবুজ পাতাগুলোতেও ঝালর বানিয়ে দিল। নিজেকে বেশি মেলে ধরলে নাকি দাম পড়ে যায়, তাই সপ্তাহান্তে এক কি দুবার কোনোমতে বেরোয় কলি হয়ে। আর একবার বেরোলেই তার কি রোশনাই! মালিক তার আদর যত্নের কমতি করে না কখনো। করবেই না কেন- এক পিস দশ টাকা; তাতেও দরদাম কেউ করেনা! ভালোবাসার প্রশ্নে একটু আধাট্টু খরুচে হলেও কেউ রা দেয় না, জানেন তো?
সেলিম খান নামের যুবকটা যখন দোকানে এল, গোলাপ তার গরিমা বাড়িয়ে নড়েচড়ে বসলো। সেলিম খান এদিক ওদিক তাকিয়ে ফুল দেখতে লাগলো- গোলাপকে হাত দিতে গিয়েও কি ভেবে হাত দিলো না! গোলাপকে চমকে দিয়ে দূর কোনায় আঁটসাঁটে বসে থাকা কতক জবা ফুল নিয়ে নিল সে। অবাক হল গোলাপ, সে ঠাস কণ্ঠে বলে ওঠল, কি যুবক, তোমার রুচি দেখে তো ঘেন্না লাগছে! প্রেমিকাকে ফুল দিতে যাচ্ছো, অথচ বাছাই করলে কিনা হতচ্ছাড়া জবা কে? যার গন্ধ নেই, পাপড়ির ঠিক নেই- জন্মটাও ঝোপঝাড়ে!
সেলিম খান জবার দিকে তাকালো; গোলাপকে ছেড়ে সেলিম জবাকে নিয়েছে- এ যেন জবা দুটোর বিশ্বাসই হতে চাইছে না! গোলাপের দিকে তাকিয়ে হেসে বলল সেলিম, সুন্দর সবসময় উপযুক্ত- সেটা ভেবে নেওয়াটা তোমার বড় ভুল, গোলাপ! যতই সুন্দর হও, অভিজাত বংশ থেকে আসো, প্রেয়সীর কানের ওপর- কি জানো তো, এই হতচ্ছাড়া জবাদেরই মানায়!
সেলিম খান দুটাকা করে চারটে টাকায় জবা দুটোকে নিয়ে লাজুক হাসি দিয়ে পথ ধরল। পাশের দোকানের লোহার শ্রমিক বিল্টুটাও সেলিমের কথা শুনে জোর খুঁজে পেয়ে লোহার ঝালাই শুরু করল…..!
গল্পের নামঃ ফুল

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top