ফেসবুক,আধুনিকতা ও রবীন্দ্র ভাবনা

ফেসবুক ,আধুনিকতা ও রবীন্দ্রভাবনা

{ কলমে✍ -Amit Kumar Maity
Student of BSC Computer Science . Mednipur College(Autonomous) }

আচ্ছা রবি ঠাকুর যদি Facebook,Internet,Smartphoe, Whatsapp, Twitter,Instagram এর যুগে জন্মাতেন তাহলে কি তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হতে পারতেন !!!!

এই ইন্টারনেট এর যুগে দাড়িয়ে রবীন্দ্রভাবনা ,রবীন্দ্র সাহিত্য, রবীন্দ্র শিল্পকলা, রবীন্দ্র চর্চা সত্যিই কি প্রাসঙ্গিক !!!!!?

সবচেয়ে বড়ো কথা ১৮৬১সালে ইন্টারনেট হীন যুগে জন্মে তিনিই বা কতটা আধুনিক ছিলেন ????

আমি কোনো রবীন্দ্র গবেষক নই, কলা বিভাগের ছাত্রও নই ,বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র কাজেই রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে খুব গভীর জ্ঞানও নেই,তবে হ্যাঁ সাহিত্যনুরাগী হওয়ার সামান্য কিছু জেনেছি এই “দৈত্যাকার প্রতিভাধর ব্যাক্তি” সম্পর্কে।
সবসময় তো রবিঠাকুরের সাহিত্য বিশ্লেষণ হয় ,আজ রবিঠাকুরের বিশ্লেষণ টা হোক একটু অন্য আঙ্গিকে,একটু অন্যভাবে ।।

রবীন্দ্রনাথ মোটেই রবীন্দ্রনাথ হতে পারতেন না যদি তিনি এই social media এর যুগে জন্মাতেন।
কেননা রবীন্দ্রনাথ হতে গেলে –

১) ভীষন রকমভাবে একা থাকতে হয়,কথা বলতে হয় নিজের সাথে ,নিজেকে প্রতিনিয়ত চিন্তার মধ্যে নিমজ্জিত রাখতে হয় । তাই তিনি তাঁর যৌবনে নিজেকে পরিবার পরিজন থেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন।
২) হতে হয় আনমনা, বেহিসেবি, বেখেয়ালি প্রকৃতির।
3)হতে হয় ভীষণ রকম প্রকৃতি প্রেমিক,যার কাছে প্রকৃতির উপাদানই হলো লেখার রসদ, ভাবনার উদ্দীপক।
আর যদি তিনি এই ইন্টারনেট এর যুগে জন্মাতেন ,
তাহলে আর যাইহোক কখনই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হতে পারতেন না,সারাদিন হয়তো facebook, Instagram ,স্ক্রল করেই টাইম অতিবাহিত করতেন ,
হোক তর্কের খাতিরে যদিও ধরে নিই তিনি তিনি facebook ,insta তে account খুলতেনই না, তবুও তাকে whatsapp এর notification ,অন্যান্য apps বিজ্ঞপ্তি কিছুটা হলেও ডিসটার্ব করতো,তাঁর ভাবনার ব্যাঘাত ঘটাতো।
হয়তো প্রকৃতি প্রেমিক না হয়ে ইন্টারনেট প্রেমিক হয়ে উঠতেন।

বাঙালির কাছে বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে রবীন্দ্র ভাবনা ,রবীন্দ্র সাহিত্য রবীন্দ্র নাট্য প্রাসঙ্গিক না অপ্রাসঙ্গিক সেবিষয়ে আমিও সন্দিহান ;

যদি সত্যিই প্রাসঙ্গিক হতো-

তাহলে জনগণ কখনই টিভিতে অসামাজিক সিরিয়াল না দেখে রবীন্দ্র নাটক দেখতো,
youtube এ উলটা পাল্টা scandal ,roasting, sexual thumbnail দেখে কৌতুহলি ,আকৃষ্ট হয়ে ওই সব ভিডিও না দেখে রবীন্দ্র নৃত্য দেখতো।
Online magazine এ দীপিকা পাডুকোনের,প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার cover story না পড়ে রবিঠাকুরের ডাকঘর,পোস্টমাস্টার, ল্যাবরেটরি গল্প গুলো পড়তো ।

কেবল বৈশাখ মাস এলে বুবুন,বাবাই দের রবীন্দ্র কবিতা শেখানোর জন্য তোড়জোর পড়তোনা ,
আনন্দবাজার এর ফ্রন্টপেজ এর শিরোনামে দেখতে পেতাম “চোখেরবালি উপন্যাস পড়ার সময় স্বামীকে বিরক্ত করায় স্ত্রী কে পিটিয়ে খুন করলো স্বামী ”

সত্যি average বাঙালির সাথে রবীন্দ্রচিন্তন, রবীন্দ্রদর্শন ঠিক খাপ খায়না।।

রবীন্দ্রনাথঠাকুর সেই যুগে দাঁড়িয়ে ও যে বিচক্ষণ- দার্শনিক, আধুনিক, স্বাধীন মুক্ত চিন্তার অধিকারী ছিলেন তা বলার অপেক্ষা রাখেনা,
তিনি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন একশো বছর পরেও তাঁর লেখা কবিতা পাঠক মহলে ঠাঁই পাবে, তাই তো তিনি বলতে পেরেছিলেন-
” আজি হতে শতবর্ষ পরে ,
কে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানি কৌতূহল ভরে;
আজি হতে শতবর্ষ পরে ” ।।

সবশেষে বলবো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম non-European /প্রথম এশিয়া মহাদেশ থেকে নোবেল প্রাপক হলেও ,
নোবেল পুরস্কার রবীন্দ্রনাথের উৎকর্ষতা ,সম্মান বৃদ্ধি করতে পারেনি
বরং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নোবেল পুরস্কার এর সম্মান ,মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে সে কথা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

বতর্মান সামাজিক গণমাধ্যম ,অন্তর্জাল এর যুগে দাঁড়িয়ে “বাঙালির ঘরে ঘরে যেন রবি ঠাকুর জন্মায়” এই আশাবাদী হওয়া চরম বোকামী ছাড়া আর কিছুই না,
তাই এই আশাটুকু তো করতেই পারি “বাংলার ঘরে ঘরে যেন এমন একটা করে আইকন জন্মায়”।।।।।।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top