ফেসবুক লাভ স্টোরি – নাসিরা খাতুন

Nasira Khatun

এই জিনি মা ডাকছে নীচে চল।হ্যাঁ যাচ্ছি চল। কি ব্যাপার একা একা পাগলের মতো হাঁসছিস কেন ফোন ঘাঁটতে ঘাঁটতে? দিদি দেখ এই ছেলেটাকে কী মিষ্টি দেখতে।হ্যাঁ তো কি হয়েছে?কী আর হবে আমাকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট দিয়েছে। দেখ ফেসবুকে কাউকে বিশ্বাস করতে নেই।

তুই আবার এর প্রেমে পড়ে যাসনা বুঝলি।ছেলেটার হাঁসি দেখেই মনে হচ্ছে বদমাস।দিদি তুইও না কারোর সম্বন্ধে না জেনে এরকম বলতে নেই বুঝলি।বুঝতেই পেরেছি তোমার ওকে মনে ধরেছে।তা রিকুয়েস্ট অ্যাকসেপ্ট করেছিস নিশ্চই,না এখনও করিনি সবেতো প্রোফাইল চেক করলাম।প্রোফাইল এ খারাপ কিছু তো দেখলামনা তাই অ্যাকসেপ্ট করে নিচ্ছি।

যা খুশি করো কিন্তু প্রেম কোরোনা।ছেলেটার হাঁসিটা আমার মোটেই পছন্দ নয়,দেখলেই মুচকি বদমাস মনে হচ্ছে।ঠিক আছে খাবি আয়,মা ডাকছে।তুই যা,আমি আসছি আমাকে hi…লিখেছে।মা তোমার মেয়ে এখন ফোনে ব্যাস্ত।এই জিনি আগে এসে খেয়েনে ফোন ঘাঁটাতো পালাচ্ছেনা।

আসছি মা তোমরা খাওয়া শুরু করো।(মেসেজ রিপ্লাই)hlw…আমার মা ডাকছে খাওয়ার জন্য আমি একখুনি আসছি।Ok…।বলুন,আপনার নাম কী?জিশান।তোমার?জিনিয়া,সবাই জিনি বলেই ডাকে।Nice name…Thank you…welcome…।তারপর বলুন আপনার বাড়ি কোথায়?ডায়মন্ড হারবার কিন্তু আমি কোলকাতাতেই থাকি অফিস থেকে ঘর দিয়েছে।ও,,,।হ্যাঁ,তোমার বাড়ি কোথায়?গড়িয়া।তোমার বাড়িতে কে কে আছেন?বাবা,মা,দিদি আর আমি।আপনার বড়িতে কে কে আছেন?আপনারা কয় ভাই বোন?

আমি,মা,বাবা আর ছোটো ভাই আমার কোনো বোন বা দিদি নেই।ও ভালো।এই জিনি এখনও ফোন ঘাঁটছিস!কটআ বাজে আগএ ফোন রেখে ঘুমা(দিদি)।হ্যাঁ রাখছি তুই ঘুমা।Good night…দিদি বকছে।ok good night sweet dreams…ok bye…bye…বলবেনা ঠিক আছে।ok…Good morning দিদি,,,Good morning মা,,,।

কি ব্যাপার এত খুশি,,,এমনি মা(মুচকি হেঁসে)।হুম সবসমই এরকম হাঁসিখুশি থাকবি হাসলে তোকে খুব সুন্দর লাগে,,,নাহলে এখনও বাচ্ছাদের মতো কান্নাকাটি করিস একদম ভালো লাগেনা।ঠিক আছে আর কাঁদবোনা মা,,,তুমি এবার চা দাও,,,আবার পড়তে যেতে হবে।হুম আয়।আমার খাওয়া হয়ে গেছে,,,মা,দিদি আসছি সবাই,,,সাবধানে যা,,,।স্যার এখনও আসেনি একটু ফেসবুকটা দেখি কোনো ম্যাসেজ করেছে কি(মনেমনে)।Good morning…Good morning…টিফিন করেছো?হ্যাঁ,আপনি?

হ্যাঁ আমিও।আচ্ছা রাখছি,,,স্যার আসছেন আমি পড়তে এসেছি,,OK bye…আবার!bye বলতে বারন করেছিনা,,,bye বলবেনা মনে থাকবে,,,OK sorry…it’s OK…কি ব্যাপার জিনি কার সাথে চ্যাট করছিস?Bf?আর এ নারে যাস্ট fb friend,,,হ্যাঁ ফাস্ট ফাস্ট ফ্রেন্ড হবে তারপর বেস্ট ফ্রেন্ড থেকে বয় ফ্রেন্ড শেষে হাসবেন্ড কিন্তু লাস্ট স্টেজ এ পৌঁছাতে তোমা কে অনেক কষ্ট করতে হবে সোনা,,,তোর কথা যেন সত্যি হয়।ওকে পাওয়ার জন্য আমি সব রকম কষ্ট সহ্য করতে রাজি(দীর্ঘ নিশ্বাস নিয়ে)।মানে আমিতো যাস্ট ইয়ার্কি মারলাম জিনিয়া,,,ডাল মে কুছ কালা হ্যায়,,,।সুমি ,স্যার দেখছে লেখ,,,হুম।এই জিনিয়া এখন তো পড়া শেষ তোর bf এর ফটো দেখা,,,দেখ,,,কেমন?খুব সুন্দর,,,তা প্রপোশ করেছে?

ধ্যেত সবেতো দু-দিন কথা হচ্ছে।All the best তুই প্রেমে পড়েছিস,,,আমার খুব ভালো লাগছে,,,আচ্ছা আসিরে,,,সাবধানে যা।মা খুব খিদে পেয়েছে,,,খেতে দাও।ভাত টেবিল এ বারা আছে হাতমুখ ধুয়ে খেয়ে নে।এই দিদি তোকে জিজু কীভাবে প্রপ্রোশ করেছিলরে(খেতেখেতে)?ফুল দিয়ে কেন?না এমনি!আমাকে আর কেউ ফুল দিয়ে প্রপ্রোশ করলোনা,,,so sad…।

মা তোমার ছোটো মেয়ের কত দুখঃ কেউ প্রপ্রোশ করছেনা বলে(হাঁসতে হাঁসতে)।নাগো মা দিদি মিথ্যা কথা বলছে।আমার জীবন এ প্রপ্রোশ হবে সবার থেকে আলাদা দেখে নিবি।আমি উপরের ঘরে যাচ্ছি,,,হ্যাঁ জানিতো ফোন ঘাঁটবে বসে বসে,,,hlw…কি করছো?বাড়ি চলে এসেছি,,,আপনি?আমি অফিসে।ঠিক আছে আপনি কাজ করে নিন,,,পরে কথা হবে।(সন্ধ্যে বেলা)hlw madam…hi sir,,,বলুন।তুমি আমাকে আপনি বলবেনাতো কেমন পর পর মনে হয়।ঠিক আছে,,,সন্ধ্যের টিফিন হয়েছে তোমার?

হ্যাঁ, তোমার? আমি সবে অফিস থেকে এসে ফ্রেশ হলাম,,,এবার রান্না করবো।(মুচকি হেঁসে)একা একাই সংসার করছো?হ্যাঁ কি করবো বলো,,,আমি যে এখানে একাই থাকি।ঠিক আছে তুমি রান্না করে নাও,,,রাতে কথা হবে আমি পড়তে বসছি।মন দিয়ে পড়ো,,,হুম্।(রাতের বেলা)Hi…hlw…dinner করেছো?হ্যাঁ, তুমি?আমিও,,,।বলো,,,।তুমি কি পড়তে খুব ভালোবাসো,,,তোমার hobby কী?ঠিক তা নয় আমার তো গল্পের বই পড়তে ভালো লাগে,,,শরৎচন্দ্রের উপন্যাস।

আমার ইচ্ছা একজন good writer হব।খুব ভালো ।আর তোমার কি ইচ্ছা?আমি বিদেশে গিয়ে কাজ করবো,,,তারপর আস্তে আস্তে আমার সব স্বপ্ন পূরোন করবো।কী স্বপ্ন?এটা বলতে নেই তাহলে স্বপ্ন পূরোন হয়না।ও ঠিক আছে,,,good night,,।হুম্।এভাবেই মাস দুই চলতে থাকে জিনিয়া আর জিশান এর বন্ধুত্ব।এরপর একদিন রোজকার মতো জিনিয়া জিশান কে ম্যাসেজ করলো,,,,,hi….hlw…কি করছো?

এই বসে আছি তুমি?আমিও,তোমার বাড়িতে সবাই কেমন আছেন? ভালো,কিন্তু আজকে বাড়িতে কেউ নেই সবাই বিয়ে বাড়ি গেছে।তুমি যাওনি কেন?এমনি,কাল যাবো।ভালো।আমি বাড়িতে একা আছি তাই তুমি আমার সাথে একটু গল্প করো।কল করবে প্লিজ?ঠিক আছে,,,, বলো হঠাৎ কল করতে বললে কেন?একা একা ভালো লাগছেনা তাই।

তুমিও তো সবার সাথে যেতে পারতে,,,মনটা ফ্রি হতো।কালকে যাবতো।তুমি বলো,,,তুমি কাউকে ভালোবাসো?নাহ্,,,কাউকে যদি ভালোবাসতাম তোমার সাথে এত কথা বলতে পারতাম বলো,,,তোমার কাছে একটা জিনিস চাইবো দেবে? কী বলো দেওয়ার মতো হলে নিশ্চই দেবো।মানে!কী বলছো বুঝতে পারছিনা,,,I love you জিনি,,,সত্যি?তুমি আমাকে সত্যি সত্যি ভালোবাসো? তুমি বিদেশে গিয়ে আমাকে ভুলে যাবে নাতো?তোমাকে আমি কিছুতেই ভুলতে পারবোনা,,,তুমি আমার জন্য অনেক লাকি।ঠিক আছে I love you(মুচকি হেঁসে)।

আমার কিন্তু gf নয় বউ চায়।জিনি মুচকি হেঁসে ঠিকআছে যাও।এভাবেই জিনিয়া আর জিশান এর প্রেমআলাপ চলতে থাকে চার মাস মতো।এরপর হঠাৎ জিশানকে অনলাইন দেখতে পাওয়া যায়না,,,ওর ফোন ও বন্ধ রয়েছে।জিনি বেশ কয়েকদিন কান্নাকাটি করতে থাকে তারপর আস্তে আস্তে পড়ায় মোন দেয়।হঠাৎ দু-মাস পরে জিনর WhatsApp এ ম্যাসেজ আসে কেমন আছো?কে আপনি?আমি জিশান ।

এতদিন পরে মনে পড়লো?কোথায় ছিলে এতদিন?তোমাকে বলেছিলামনা আমি বিদেশে যাব চলে এসেছি ৩ বছরের জন্য ।আমাকে না বলেই চলে গেলে,,,একটুও কি মনে পড়েনি আমার কথা? তোমার সাথে এক দিন কথা না বলে থাকতে পারতামনা,,,আর তুমি এতদিন তোমার থেকে দূরে সরিয়ে রাখলে আমাকে,,, কি করে পারলে বলোতো??তাহলে তোমার তো আমাকে ভুলে যেতে ও সময় লাগবেনা,,,চোখের জল মুছতে মুছতে জিনি বললো।

আরে নাগো পাগলি আমি একটু ব্যাস্ত ছিলাম তাইতো তোমার সাথে যোগাযোগ করতে পারিনি।আর আমি তোমাকে কীভাবে ভুলি বলোতো??আমিযে তোমাকেই সব থেকে বেশি ভালোবাসি।মাস দুই এমন প্রেমআলাপ চলতে থাকে,,,,তারপর আবার হঠাৎ জিশান অনলাইন হওয়া বন্ধ করে দেয়।জিনিতো পাগলের মতো হয়ে যায়,,,পড়াশুনার ক্ষতি হয়ে যায় এক বছর।

আবার জিনিয়া স্বাভাবিক হয়ে ওঠে,,,,পড়াশুনা আর কেরিয়ারে মন দেয়।দীর্ঘ এক বছর পর জিনিয়া কি মনে করে জিশান এর ভাই কে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট দেয়। hi…কেমন আছো?ভালো তুমি? ভালো,,,আমি তোমার দিদির মতো তুমি আমাকে দিদি বলেই ডাকতে পারো।আমারও কোনো দিদি নেই আজ থেকে তুমি আমার দিদি ।

আস্তে আস্তে ভাই বোন এর সম্পর্ক মধুর হয়ে উঠলো।এরমধ্যে একদিন জিনিয়া জিশান এর ভাই এর কাছে আবদার করে বসলো,,,আচ্ছা ভাই আমি তোমার কাছে যদি কিছু চাই দেবে আমাকে??দিদি কি বলো ছোটো ভাই হিসাবে তেমন কিছু হলে আমি নিশ্চই দেবো।আমি তোমার দাদাকে খুব ভালোবাসি এক বছর হচ্ছে তোমার দাদা আমার সাথে কথা বন্ধ করে দিয়েছে,,,তোমার দাদার নাম্বারটা দিতে পারবে তোমার যদি কোনো আপত্তি না থাকে,,,,।ঠিকআছে ১২৩৪,,,,,Thank you ভাই ।

জিনিয়া নাম্বার পেয়ে খুব আনন্দিত হয়।জিশানকে হোয়্যাটস্আপ এ ম্যাসেজ দেয়,,,জিশান চিনতে না পেরে উল্টোপাল্টা বলে দেয়।জিনিয়া রেগে গিয়ে নিজের পরিচয় দেয়,,,hi,,,আমি জিনিয়া এবার চিনতে পেরেছো??নাকি ভুলে গেছো??ও তুমি আগে বলবেতো শুধু শুধু এটা সেটা বলে দিলাম।ঠিক আছে কোনো ব্যাপার না,,,তুমি কেমন আছো বলো? ভালো, তুমি? আমিও খুব ভালো আছি। তাতো থাকবেই,,,আমাকে তো ভুলেই গেছো??আরে না না তোমাকে ভুলিনি ফোন আপডেট দিয়েছিলাম তাই নাম্বার ডিলেট হয়ে গিয়েছিল,,,ও,ফেসবুক এ তো একটা মেসেজ করতে পারতে,,,।

আমিতো ফেসবুক বন্ধ করে দিয়েছি দু-বছর হচ্ছে,এখন একা আছি ভালো আছি। তুমি ভালো নেই ?,,,আমি কেন ভালো থাকবোনা,হ্যাঁ আমিও ভালো আছি।,,,ও ভালো।,,,হুম । জিনিয়া পরেরদিন জিশান কে হোয়্যাট্স অ্যাপে ম্যাসেজ করে,,, আমার বিয়ের জন্য বাড়ি থেকে দেখাশোনা করছে।,,,ও,তোমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে?,,,না,এক জায়গা থেকে দেখতে এসেছিল বাড়িতে সবার পছন্দ হয়েগেছে ওরা আমার মত জানতে চাইছে,আমি হ্যাঁ বললেই ওরা বিয়ের তারিখ ঠিক করে ফেলবে(সাথে জিনিয়া কান্নার ইমোজি দিয়ে দেয়)।

,,,কেন ছেলে তোমার পছন্দ নয়??,,,তুমি কি চাও আমি অন্য কাউকে বিয়ে করে নিই??,,,মানে!,,,আমি তোমাকে ভালোবাসি জিশু তোমাকে ছাড়া আমি অন্য কারোর কথা ভাবতেই পারছিনা(কান্নার ইমোজি),,,কিন্তু তুমিতো আমার সাথে ব্রেকআপ করে নিয়েছিলে,,,হ্যাঁ কিন্তু আমি তোমাকে কিছুতেই ভুলতে পারছিনা,তুমি যদি অন্য কাউকে ভালোবাসো বলো তাহলে আমি আমার বাবা-মায়ের পছন্দের ছেলেকেই বিয়ে করে নেবো(কান্নার ইমোজি),,,আমি সিঙ্গেল এখন আর আমার কারোর সাথে কোনো রিলেশন নেই সম্পূর্ন একা কিন্তু আমি বাড়ির বড়ো ছেলে আমার উপর অনেক দায়িত্ব আমার দুটো ভাই আছে তুমিতো সবই জানো ওদের ভবিষ্যত চিন্তাও আমাকেই করতে হবে,আমার এখন বিয়ে করা সম্ভব নয়।

,,,ওকে। এরপর দুজন কেউ কাউকে ম্যাসেজ করেনা।এরমধ্যে জিনিয়ার বিয়ে ঠিক হয়ে যায় । কিছুদিন পর জিনিয়া জিশান কে ম্যাসেজ করে,,,,hi…kmn a6o?,,ভালো, তুমি?,,, আমিও ভালো আছি,আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে 20/09/2020 এর মধ্যে তুমি যদি ফিরতে পারো তাহলে আমার বিয়েতে অবশ্যই আসবে কিন্তু ।,,,,চেষ্টা করবো,দোয়া করি তোমার বিবাহিত জীবন সুখের হোক।,,,Thanks…,,,Wlcm,,,হুম্। এরপর জিশান এর ছোটোভাই কে ম্যাসেজ করে আমি তোমার দিদি বলছি কেমন আছো তুমি?,,,

আমি ভালো আছি দিদি তুমি কেমন আছো,আর তোমার বাড়িতে সবাই কেমন আছেন??,,,আমরা সবাই ভালো আছি ভাই, আমার বিয়ে 20/09/2020 তোমাকে কিন্তু আসতেই হবে ।,,,,হ্যাঁ দিদি আসবো,একটা কথা জিজ্ঞাসা করবো কিছু মনে করবে নাতো?,,,না না বলো কি বলবে,,,আমার দাদার সাথে তোমার কি প্রবলেম ছিলো ঠিক হয়ে গেছেতো,তুমি আমার দাদার উপর রাগ করে নেই তো??,,,আরে পাগল রাগ করবো কেন,সবাই কি আর সবকিছু চাইলেই পায় ! তেমনই আমিও আমার ভালোবাসাকে পায়নি।

তোমার দাদা আমাকে বিয়ে করে নিতে বলেছে তাই আমিও বিয়েতে রাজি হয়ে গেলাম।,,,দিদি আমার দাদামনি কিন্তু খুব ভালো ।,,,হ্যাঁ, জানি তাইতো তোমার দাদাকে আমি এতো ভালোবেসেছিলাম,এখন এইসব কথা থাক ভাই আমার মা ডাকছে আমি অফ্ হলাম,,,ঠিক আছে দিদি তুমি নিজের খেয়াল রেখো,,,হুম্ তুমিও।জিনিয়ার বিয়ের দিন যত আগিয়ে আসছে জিনিয়া নিজেকে ততই যেন গুটিয়ে একা করে নিচ্ছে।কি হয়েছে মা তুই এখানে একা মোনখারাপ করে বসে আছিস কেন,কি হয়েছে বল আমাকে ।

জিনিয়া মা কে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলে চিৎকার করে,,,।আজ জিনিয়ার বিয়ে,সকাল বেলায় ঘুম থেকে উঠে জিনিয়া হইচই শুনতে পেয়ে বাইরে বেরিয়ে দেখে জিশান তার পুরো ফ্যামিলি নিয়ে জিনিয়াদের বাড়িতে চলে এসেছে জিনিয়া একটু আগিয়ে গিয়ে দেখে তাদের দুজনকে নিয়েই কথা হচ্ছে,জিনিয়া সবাই চুপ করো বলে চিৎকার করে ওঠে,

 

সবাই থমকে যায় এরপর জিনিয়া আসতে আসতে জিশান এর দিকে আগিয়ে গিয়ে জিশান কে একটা ঠাস্ করে মেরে বসে পড়ে মাটিতে কাঁদতে কাঁদতে বলে আমাকে তুমি ক্ষমা করে দাও আমি তোমার গায়ে হাত তুলতে চাইনি,,,তোমরা এখান থেকে চলে যাও,দয়া করো আমাদের,,,তোমার কাছে হাত জোড় করছি,আমি তোমাকে অনেকবার বলেছি আমার দেখাশোনা হচ্ছে,আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে তখনও কিছু বলোনি তাহলে এখন এইসব নাটকের মানে কি??

জিনিয়া তুমি একবার আমার কথাটা শোনো প্লিজ,,, চলে যাও তোমরা এখান থেকে আমি তোমার কোনো কথা শুনতে চায়না। আরে আমি তোমাকে কত্ত ম্যাসেজ করেছি কিন্তু তুমিতো আমার আর আমার ভাইয়ের নাম্বার ব্লক করে রেখেছো তাই কিছুই জানোনা আমি সবে কালকে বাড়ি ফিরেছি,আমি অনেক ভেবেছি জানো শেষে ভাবলাম বিয়ে যদি করতেই হয় শুধু তোমাকেই করবো, এতদিনে বুঝেগেছি তোমার মতো করে আর কেউ আমাকে ভালোবাসতে পারবেনা,,,আমাকে প্লিজ ক্ষমা করে দাও জিনিয়া প্লিজ,,, আমি তোমাকে সত্যি সত্যি অনেক ভালোবাসবো তোমাকে আমার জন্য আর কোনো কষ্ট সহ্য করতে হবেনা,,,সবার সামনেই হঠাৎ জিনিয়া জিশানকে জড়িয়ে ধরলো জিশান আলতো করে জিনিয়ার কপালে কিস করলো। পিছন দিয়ে কারোর হাততালির শব্দে সবাই চমকে উঠলো বর,বরযাত্রী সবাই যে কখন চলে এসেছে তা কেউ খেয়ালই করেনি।

বর জিশানকে বলে তুমি খুব লাকি জিনিয়া আমাকে অনেক আগেই তোমার কথা জানিয়েছিল কিন্তু তুমি তখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারোনি,আজকেই তোমাকে আসতে হলো আমার বিয়ে ভাঙতে। জিশান এর ঘারে হাত চাপড়ে বলে কি এত ভাবছো আমার সাথে আসো বলে হাত ধরে ঘরের দিকে টেনে নিয়ে যায়,কিছুক্ষন পর দুজনকে বাইরে বের হতে দেখে সবাই অবাক হয়ে যায় বরের ড্রেস জিশান এর গায়ে আর জিশান এর ড্রেস বরের গায়ে,,,বরের বাবা সাইড থেকে বলে ওঠে বউকে তৈরি করো শুভ কাজে দেড়ি কিসের তারাতারি কীসের,,,এরপর জিনিয়া আর জিশান এর বিবাহ হয়ে যায়,,, জিনিয়ার বাবা জিশান এর হাত ধরে বলে আমার মেয়েটা একটু বাচ্ছাদের মতো ওর কোনো কথাতেই রাগ কোরোনা যেন ওর খেয়াল রেখো বলেই কেঁদে ফেলে বাড়ির সবাই কাঁদছে আস্তে আস্তে সবাই জিনিয়াকে গাড়িতে তুলে দিল গাড়ি ছেড়ে দিল।

এরপর জিনিয়ার বাবা বর পক্ষের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেয়,বরের বাবা জিনিয়ার বাবার হাত ধরে বলে আপনি আর ক্ষমা চেয়ে আমাদের লজ্জ্বা দেবেননা আমরা সবটাই নিজে চোখে দেখলাম যা হয়েছে তাতে আপনার মেয়ের ভালোই হবে বরঞ্চ আমার ছেলের সাথে বিয়ে হলে দুজনের কেউই হয়তো সুখি হতোনা,,,আশির্বাদ করি ওরা দুজনে যেন সুখি হয়,এমন ঘটনা আমার জীবনে আমি প্রথমবার দেখলাম।

আমরা এবার আসি আপনারা ভালো থাকবেন,কথা শেষ করতে না দিয়ে জিনিয়ার বাবা হাত ধরে বলে আপনার এই ঋীন আমরা কখনো ভুলবোনা,আবার আসবেন কিন্তু আমাদের বাড়িতে। হ্যাঁ, আপনিও আমাদের বাড়িতে আসবেন আর আপনার মেয়ের উপরে কিন্তু রাগ করে থাকবেননা আসলাম তাহলে ।।

জিনিয়ার ভালোবাসা সত্যি ছিল তাইতো জিনিয়া আর জিশান আবার ও এক হয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পেরেছে।এই ভালোবাসা পাওয়ার জন্য জিনিয়াকে অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে।আসুন আমরা সবাই মিলে জিনিয়া আর জিশানের আগামী দিনগুলি যাতে সুখময় হয় আমরা সেই কামনা করি।

#বাস্তবে বহু ছেলে-মেয়ে ফেসবুক এ প্রেম ভালোবাসো করে সুইসাইড পর্যন্ত করছে।সবাইকে বলবো এইসব ফেসবুক রিলেশনশিপ ধোঁকা এগুলো থেকে যত দুরে থাকবে ততই তোমাদের ভালো

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top