ফেসবুক লাভ স্টোরি – নাসিরা খাতুন

 [post-views]

এই জিনি মা ডাকছে নীচে চল।হ্যাঁ যাচ্ছি চল। কি ব্যাপার একা একা পাগলের মতো হাঁসছিস কেন ফোন ঘাঁটতে ঘাঁটতে? দিদি দেখ এই ছেলেটাকে কী মিষ্টি দেখতে।হ্যাঁ তো কি হয়েছে?কী আর হবে আমাকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট দিয়েছে। দেখ ফেসবুকে কাউকে বিশ্বাস করতে নেই।তুই আবার এর প্রেমে পড়ে যাসনা বুঝলি।ছেলেটার হাঁসি দেখেই মনে হচ্ছে বদমাস।দিদি তুইও না কারোর সম্বন্ধে না জেনে এরকম বলতে নেই বুঝলি।বুঝতেই পেরেছি তোমার ওকে মনে ধরেছে।তা রিকুয়েস্ট অ্যাকসেপ্ট করেছিস নিশ্চই,না এখনও করিনি সবেতো প্রোফাইল চেক করলাম।প্রোফাইল এ খারাপ কিছু তো দেখলামনা তাই অ্যাকসেপ্ট করে নিচ্ছি।যা খুশি করো কিন্তু প্রেম কোরোনা।
ছেলেটার হাঁসিটা আমার মোটেই পছন্দ নয়,দেখলেই মুচকি বদমাস মনে হচ্ছে।ঠিক আছে খাবি আয়,মা ডাকছে।তুই যা,আমি আসছি আমাকে hi…লিখেছে।মা তোমার মেয়ে এখন ফোনে ব্যাস্ত।এই জিনি আগে এসে খেয়েনে ফোন ঘাঁটাতো পালাচ্ছেনা।আসছি মা তোমরা খাওয়া শুরু করো।(মেসেজ রিপ্লাই)hlw…আমার মা ডাকছে খাওয়ার জন্য আমি একখুনি আসছি।Ok…।বলুন,আপনার নাম কী?জিশান।তোমার?জিনিয়া,সবাই জিনি বলেই ডাকে।Nice name…Thank you…welcome…।তারপর বলুন আপনার বাড়ি কোথায়?ডায়মন্ড হারবার কিন্তু আমি কোলকাতাতেই থাকি অফিস থেকে ঘর দিয়েছে।ও,,,।হ্যাঁ,তোমার বাড়ি কোথায়?গড়িয়া।তোমার বাড়িতে কে কে আছেন?বাবা,মা,দিদি আর আমি।আপনার বড়িতে কে কে আছেন?আপনারা কয় ভাই বোন? আমি,মা,বাবা আর ছোটো ভাই আমার কোনো বোন বা দিদি নেই।ও ভালো।এই জিনি এখনও ফোন ঘাঁটছিস!কটআ বাজে আগএ ফোন রেখে ঘুমা(দিদি)।হ্যাঁ রাখছি তুই ঘুমা।Good night…দিদি বকছে।ok good night sweet dreams…ok bye…bye…বলবেনা ঠিক আছে।ok…Good morning দিদি,,,Good morning মা,,,।কি ব্যাপার এত খুশি,,,এমনি মা(মুচকি হেঁসে)।
হুম সবসমই এরকম হাসিখুশি থাকবি হাসলে তোকে খুব সুন্দর লাগে,,,নাহলে এখনও বাচ্ছাদের মতো কান্নাকাটি করিস একদম ভালো লাগেনা।ঠিক আছে আর কাঁদবোনা মা,,,তুমি এবার চা দাও,,,আবার পড়তে যেতে হবে।হুম আয়।আমার খাওয়া হয়ে গেছে,,,মা,দিদি আসছি সবাই,,,সাবধানে যা,,,।স্যার এখনও আসেনি একটু ফেসবুকটা দেখি কোনো ম্যাসেজ করেছে কি(মনেমনে)।Good morning…Good morning…টিফিন করেছো?হ্যাঁ,আপনি?হ্যাঁ আমিও।আচ্ছা রাখছি,,,স্যার আসছেন আমি পড়তে এসেছি,,OK bye…আবার!bye বলতে বারন করেছিনা,,,bye বলবেনা মনে থাকবে,,,OK sorry…it’s OK…কি ব্যাপার জিনি কার সাথে চ্যাট করছিস?Bf?আর এ নারে যাস্ট fb friend,,,হ্যাঁ ফাস্ট ফাস্ট ফ্রেন্ড হবে তারপর বেস্ট ফ্রেন্ড থেকে বয় ফ্রেন্ড শেষে হাসবেন্ড কিন্তু লাস্ট স্টেজ এ পৌঁছাতে তোমা কে অনেক কষ্ট করতে হবে সোনা,,,তোর কথা যেন সত্যি হয়।ওকে পাওয়ার জন্য আমি সব রকম কষ্ট সহ্য করতে রাজি(দীর্ঘ নিশ্বাস নিয়ে)।মানে আমিতো যাস্ট ইয়ার্কি মারলাম জিনিয়া,,,ডাল মে কুছ কালা হ্যায়,,,।
সুমি ,স্যার দেখছে লেখ,,,হুম।এই জিনিয়া এখন তো পড়া শেষ তোর bf এর ফটো দেখা,,,দেখ,,,কেমন?খুব সুন্দর,,,তা প্রপোশ করেছে?ধ্যেত সবেতো দু-দিন কথা হচ্ছে।All the best তুই প্রেমে পড়েছিস,,,আমার খুব ভালো লাগছে,,,আচ্ছা আসিরে,,,সাবধানে যা।মা খুব খিদে পেয়েছে,,,খেতে দাও।ভাত টেবিল এ বারা আছে হাতমুখ ধুয়ে খেয়ে নে।এই দিদি তোকে জিজু কীভাবে প্রপ্রোশ করেছিলরে(খেতেখেতে)?ফুল দিয়ে কেন?না এমনি!আমাকে আর কেউ ফুল দিয়ে প্রপ্রোশ করলোনা,,,so sad…।মা তোমার ছোটো মেয়ের কত দুখঃ কেউ প্রপ্রোশ করছেনা বলে(হাঁসতে হাঁসতে)।নাগো মা দিদি মিথ্যা কথা বলছে।আমার জীবন এ প্রপ্রোশ হবে সবার থেকে আলাদা দেখে নিবি।আমি উপরের ঘরে যাচ্ছি,,,হ্যাঁ জানিতো ফোন ঘাঁটবে বসে বসে,,,hlw…কি করছো?বাড়ি চলে এসেছি,,,আপনি?
আমি অফিসে।ঠিক আছে আপনি কাজ করে নিন,,,পরে কথা হবে।(সন্ধ্যে বেলা)hlw madam…hi sir,,,বলুন।তুমি আমাকে আপনি বলবেনাতো কেমন পর পর মনে হয়।ঠিক আছে,,,সন্ধ্যের টিফিন হয়েছে তোমার? হ্যাঁ, তোমার? আমি সবে অফিস থেকে এসে ফ্রেশ হলাম,,,এবার রান্না করবো।(মুচকি হেসে)একা একাই সংসার করছো?হ্যাঁ কি করবো বলো,,,আমি যে এখানে একাই থাকি।ঠিক আছে তুমি রান্না করে নাও,,,রাতে কথা হবে আমি পড়তে বসছি।মন দিয়ে পড়ো,,,হুম্।(রাতের বেলা)Hi…hlw…dinner করেছো?হ্যাঁ, তুমি?আমিও,,,।বলো,,,।তুমি কি পড়তে খুব ভালোবাসো,,,তোমার hobby কী?ঠিক তা নয় আমার তো গল্পের বই পড়তে ভালো লাগে,,,শরৎচন্দ্রের উপন্যাস।
আমার ইচ্ছা একজন good writer হব।খুব ভালো ।আর তোমার কি ইচ্ছা?আমি বিদেশে গিয়ে কাজ করবো,,,তারপর আস্তে আস্তে আমার সব স্বপ্ন পূরোন করবো।কী স্বপ্ন?এটা বলতে নেই তাহলে স্বপ্ন পূরোন হয়না।ও ঠিক আছে,,,good night,,।হুম্।এভাবেই মাস দুই চলতে থাকে জিনিয়া আর জিশান এর বন্ধুত্ব।এরপর একদিন রোজকার মতো জিনিয়া জিশান কে ম্যাসেজ করলো,,,,,hi….hlw…কি করছো?এই বসে আছি তুমি?আমিও,তোমার বাড়িতে সবাই কেমন আছেন?
ভালো,কিন্তু আজকে বাড়িতে কেউ নেই সবাই বিয়ে বাড়ি গেছে।তুমি যাওনি কেন?এমনি,কাল যাবো।ভালো।আমি বাড়িতে একা আছি তাই তুমি আমার সাথে একটু গল্প করো।কল করবে প্লিজ?ঠিক আছে,,,, বলো হঠাৎ কল করতে বললে কেন?একা একা ভালো লাগছেনা তাই।তুমিও তো সবার সাথে যেতে পারতে,,,মনটা ফ্রি হতো।কালকে যাবতো।তুমি বলো,,,তুমি কাউকে ভালোবাসো?নাহ্,,,কাউকে যদি ভালোবাসতাম তোমার সাথে এত কথা বলতে পারতাম বলো,,,তোমার কাছে একটা জিনিস চাইবো দেবে? কী বলো দেওয়ার মতো হলে নিশ্চই দেবো।মানে!কী বলছো বুঝতে পারছিনা,,,I love you জিনি,,,সত্যি?তুমি আমাকে সত্যি সত্যি ভালোবাসো?
তুমি বিদেশে গিয়ে আমাকে ভুলে যাবে নাতো?তোমাকে আমি কিছুতেই ভুলতে পারবোনা,,,তুমি আমার জন্য অনেক লাকি।ঠিক আছে I love you(মুচকি হেসে)।আমার কিন্তু gf নয় বউ চায়।জিনি মুচকি হেঁসে ঠিকআছে যাও।এভাবেই জিনিয়া আর জিশান এর প্রেমআলাপ চলতে থাকে চার মাস মতো।এরপর হঠাৎ জিশানকে অনলাইন দেখতে পাওয়া যায়না,,,ওর ফোন ও বন্ধ রয়েছে।জিনি বেশ কয়েকদিন কান্নাকাটি করতে থাকে তারপর আস্তে আস্তে পড়ায় মোন দেয়।হঠাৎ দু-মাস পরে জিনর WhatsApp এ ম্যাসেজ আসে কেমন আছো?কে আপনি?আমি জিশান ।এতদিন পরে মনে পড়লো?কোথায় ছিলে এতদিন?তোমাকে বলেছিলামনা আমি বিদেশে যাব চলে এসেছি ৩ বছরের জন্য ।আমাকে না বলেই চলে গেলে,,,একটুও কি মনে পড়েনি আমার কথা?
তোমার সাথে এক দিন কথা না বলে থাকতে পারতামনা,,,আর তুমি এতদিন তোমার থেকে দূরে সরিয়ে রাখলে আমাকে,,, কি করে পারলে বলোতো??তাহলে তোমার তো আমাকে ভুলে যেতে ও সময় লাগবেনা,,,চোখের জল মুছতে মুছতে জিনি বললো।আরে নাগো পাগলি আমি একটু ব্যাস্ত ছিলাম তাইতো তোমার সাথে যোগাযোগ করতে পারিনি।আর আমি তোমাকে কীভাবে ভুলি বলোতো??আমিযে তোমাকেই সব থেকে বেশি ভালোবাসি।মাস দুই এমন প্রেমআলাপ চলতে থাকে,,,,তারপর আবার হঠাৎ জিশান অনলাইন হওয়া বন্ধ করে দেয়।জিনিতো পাগলের মতো হয়ে যায়,,,পড়াশুনার ক্ষতি হয়ে যায় এক বছর। আবার জিনিয়া স্বাভাবিক হয়ে ওঠে,,,,পড়াশুনা আর কেরিয়ারে মন দেয়।দীর্ঘ এক বছর পর জিনিয়া কি মনে করে জিশান এর ভাই কে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট দেয়। hi…কেমন আছো?ভালো তুমি?
ভালো,,,আমি তোমার দিদির মতো তুমি আমাকে দিদি বলেই ডাকতে পারো।আমারও কোনো দিদি নেই আজ থেকে তুমি আমার দিদি ।আস্তে আস্তে ভাই বোন এর সম্পর্ক মধুর হয়ে উঠলো।এরমধ্যে একদিন জিনিয়া জিশান এর ভাই এর কাছে আবদার করে বসলো,,,আচ্ছা ভাই আমি তোমার কাছে যদি কিছু চাই দেবে আমাকে??দিদি কি বলো ছোটো ভাই হিসাবে তেমন কিছু হলে আমি নিশ্চই দেবো।আমি তোমার দাদাকে খুব ভালোবাসি এক বছর হচ্ছে তোমার দাদা আমার সাথে কথা বন্ধ করে দিয়েছে,,,তোমার দাদার নাম্বারটা দিতে পারবে তোমার যদি কোনো আপত্তি না থাকে,,,,।ঠিকআছে ১২৩৪,,,,,Thank you ভাই ।জিনিয়া নাম্বার পেয়ে খুব আনন্দিত হয়।জিশানকে হোয়্যাটস্আপ এ ম্যাসেজ দেয়,,,জিশান চিনতে না পেরে উল্টোপাল্টা বলে দেয়।জিনিয়া রেগে গিয়ে নিজের পরিচয় দেয়,,,hi,,,আমি জিনিয়া এবার চিনতে পেরেছো??নাকি ভুলে গেছো??ও তুমি আগে বলবেতো শুধু শুধু এটা সেটা বলে দিলাম।ঠিক আছে কোনো ব্যাপার না,,,তুমি কেমন আছো বলো? ভালো, তুমি? আমিও খুব ভালো আছি। তাতো থাকবেই,,,আমাকে তো ভুলেই গেছো??
আরে না না তোমাকে ভুলিনি তোমার নাম্বার ডিলেট হয়ে গিয়েছিল,,,কিন্তু এবার দেখ তোমাকে আর হারাতে দেবোনা আমার থেকে সারাজীবন আঁকরে রাখবো।জিনিয়া হেসে ফেলে তার সব রাগ জল হয়ে যায়।জিশান জিনিয়াকে বলে আচ্ছা বলোতো আমার নাম্বার কি তোমাকে আমার ভাই দিয়েছে?? হুম,,।জানতাম আমি।তোমার ভাই এর জন্য আবার আমরা এক হতে পারলাম।আজকে আমি খুব খুব খুশি ।এইভাবে একবছর পার হয়ে যায় দুজনের প্রেমআলাপ,,, জিশান ও বাড়ি ফিরে আসে আর নিজের বাবা-মা কে জিনিয়ার কথা জানায়।জিশানের বাড়ির সবাই জিনিয়াকে দেখতে আসে,,,,ঐ দিনেই শুভ দিন দেখে বিয়ের তারিখ ঠিক করে নেয়।অবশেসে দুজনের এতদিনের প্রেমে-ভালোবাসা সফল হয় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার মধ্য দিয়ে।।
দুজনের ভালোবাসো সত্যি ছিল আর মেয়েটাকে এরজন্য অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে।বাস্তবে বহু ছেলে-মেয়ে ফেসবুক এ প্রেম ভালোবাসো করে সুইসাইড পর্যন্ত করছে।সবাইকে বলবো এইসব ফেসবুক রিলেশনশিপ ধোঁকা এগুলো থেকে যত দুরে থাকবে ততই তোমাদের ভালো ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top