বহু মানুষের জীবন বাঁচিয়ে সোনার পদক পেল একটি ইঁদুর – সিদ্ধার্থ সিংহ

[post-views]

সামান্য একটা ছোট্ট  ইঁদুর। শেষ পর্যন্ত সে-ই বাঁচিয়েছে অজস্র মানুষের প্রাণ। আর তাই এ বার সেই ইঁদুরকেই বেশ ঘটা করে সম্মান জানানো হল সোনার পদক দিয়ে।
আফ্রিকান ইঁদুরটির নাম মাগওয়া। এই ইঁদুরটি এখনও পর্যন্ত ৩৯টি ল্যান্ডমাইন এবং ২৮টি বিস্ফোরক উদ্ধার করে দিয়েছে। যার ফলে কোনও  প্রাণহানি ঘটেনি।
১ লক্ষ ৪১ হাজার স্কোয়্যার কিলোমিটার এলাকা পরীক্ষা করে বিস্ফোরক উদ্ধারে সাহায্য করেছে এই ছোট্ট ইঁদুর মাগওয়া।
এলাকাটি এতটাই বড় যে ২০টি বড়‌ ফুটবল খেলার মাঠ সেখানে অনায়াসেই ঢুকে যেতে পারে। সেই এলাকায় মাইন ডিটেক্টরের থেকেও দ্রুত গতিতে কাজ করেছে এই মাগওয়া।
মাটির অনেকটা নীচে পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইন খুঁজে বের করার জন‌্য আফ্রিকান ইঁদুরকে ব্যবহার করে পৃথিবীর বেশ কয়েকটি দেশের সেনাবাহিনী। আর এই কাজে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছে এই আফ্রিকান ইঁদুরটি। তার তার এই অসামান্য কাজের জন্য কম্বোডিয়ায় সোনার পদক দিয়ে সম্মানিত করা হল মাগওয়াকে।
আসলে কম্বোডিয়ার একটি সংস্থা আফ্রিকান ইঁদুরদের বিশেষ ভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে ল্যান্ডমাইন খোঁজার কাজে ব্যবহার করে। দীর্ঘদিন ধরে এই কাজ সাহসের সঙ্গে করে আসছে মাগওয়া।‌
এই সংস্থার ৭০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও ইঁদুরকে সাহসিকতার জন্য এই পুরস্কারে সম্মানিত করা হল। যদিও কম্বোডিয়ার প্রশাসন ইঁদুর ছাড়াও অন্য অনেক ছোট ছোট আকারের প্রাণীদের দিয়েও ল্যান্ডমাইন খোঁজার কাজ করায়। তবে এর আগে মাগওয়ার মতো আর কোনও প্রাণী এত বিপুল পরিমাণে ল্যান্ডমাইন‌ এবং বিস্ফোরক খুঁজে বার করতে পারেনি।
বহু প্রাণঘাতী যুদ্ধের সাক্ষী কম্বোডিয়া। সেখানে এখনও বহু জায়গায় মাটির নীচে ল্যান্ডমাইন পুঁতে রাখা আছে। সেই সব ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে মাঝে মধ্যেই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। তাই মাগওয়ার মতো অনেক প্রাণীকেই ওখানে ল্যান্ডমাইন খোঁজার কাজে লাগানো হয়।
ল্যান্ডমাইন আছে কি না, বম্ব-ডিটেকটর হাতে নিয়ে বম্ব স্কোয়াডের কর্মীদের যেখানে পরীক্ষা করতে প্রায় চার দিন সময় লাগে যায়, সেখানে মাত্র ৩০ মিনিটেই সফল ভাবে সার্চ অপারেশন চালায় এই মাগওয়া।
তাঁর এমন নিখুঁত কর্মদক্ষতা সেনার আধিকারিকদেরও অবাক করে দিয়েছে। আর সে জন্যই বিস্ফোরক উদ্ধারকারী দক্ষ ইঁদুর দলের মধ্যে মাগওয়া এখন এক নম্বরে এসেছে। মানে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য সে। শুধু কম্বোডিয়াতেই নয়, গোটা পৃথিবীর সর্বত্রই সে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। আর সে জন্যেই সেনাবাহিনীর তরফ থেকে তাঁকে দেওয়া হয়েছে সোনার পদক।
সিদ্ধার্থ সিংহ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top