বাবা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট, মেয়ে রেস্তোরাঁর পরিচারিকা -সিদ্ধার্থ সিংহ

 2 total views

[post-views]

একটি কৃষ্ণাঙ্গ মেয়ে চাকরির খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরছেন বিভিন্ন কোম্পানির দরজায় দরজায়। সর্বত্রই নো ভ্যাকেন্সি। যে দু’-এক জায়গায় ফাঁকা আছে, কাজের তেমন অভিজ্ঞতা নেই দেখে সেখানে কোনও চাকরিও জোটাতে পারছেন না তিনি।

হঠাৎ তাঁর মনে হল, তিনি তো ভালই খাবার সার্ভ করতে পারেন, তার মানে কোনও রেস্তোরাঁর পরিচারিকার কাজ তিনি ভালই করতে পারবেন। সেই জন‌্য যুক্তরাষ্ট্রের মাসাচুয়েটসের বিভিন্ন হোটেল এবং রেস্তোরাঁয় গিয়ে তিনি ইন্টারভিউ দিতে লাগলেন।

অবশেষে একদিন মাসাচুয়েটসের মার্থাস ভাইনইয়ার্ড দ্বীপের একটি রেস্তোরাঁয় তাঁর চাকরি হয়ে গেল।

প্রথম দিনই ওই রেস্তোরাঁর মালিক ন্যান্সি তাঁকে সতর্ক করে দিলেন, কোনও দিনই দেরি করে আসা যাবে না। দেরি করে এলে চাকরি হারাতে হবে। মালিকের কথায় সায় দিয়ে একদম ঘড়ি ধরে নির্দিষ্ট সময়ের একটু আগেই বরং আসতে লাগলেন সেই কৃষ্ণাঙ্গ তরুণী। সেটা দেখে রেস্তোরাঁর কর্মকর্তারাও যথেষ্ট সন্তুষ্ট হলেন।

কাজেও বেশ মনোযোগী তিনি। কাস্টমারদের অর্ডার নেওয়া, যত্ন করে দ্রুত খাবার পরিবেশন করা, টেবিল পরিষ্কার করা থেকে মাঝে মাঝেই ক্যাশ কাউন্টার সামলানো-সহ সমস্ত কাজই ঝটপট লিখে ফেললেন তিনি। তবু পান থেকে চুন খসলেই গালমন্দ শুনতে হয় তাঁকে। চুপচাপ তাও সহ্য করেন সেই তরুণী।

একদিন রেস্তোরাঁর এক কর্মী দেখলেন, তাঁদের সহকর্মী সেই কৃষ্ণাঙ্গ মেয়েটি কাজ শেষ করে রেস্তোরাঁ থেকে বেরোতেই মুহূর্তের মধ্যে ছ’জন দীর্ঘদেহী মানুষ তাঁকে ঘিরে ধরলেন। আর মেয়েটিও কোনও প্রতিবাদ না করেই তাঁদের সঙ্গে একটি বিশাল বড় বিলাসবহুল গাড়িতে উঠে পড়লেন।

ওই সহকর্মীটি দুইয়ে দুইয়ে চার করে খুব সহজেই বুঝে গেলেন মেয়েটির স্বভাব চরিত্র কেমন। পর দিনই মুখে মুখে রেস্তোরাঁর সহকর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ল এই মুখরোচক খবর। শুরু হয়ে গেল গুঞ্জন। ফিসফাস। কানাকানি। যে মেয়েটিকে তাঁরা এত দিন ধরে চিনতেন, মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই মেয়েটি তাঁদের কাছে কেমন যেন রহস্যময় হয়ে উঠলেন।

সবাই আড়চোখে দেখতে লাগলেন তাঁকে। কয়েক মিনিটের মধ্যে খবরটি পৌঁছে গেল রেস্তোরাঁর মালিকের কানেও। এক কান দু’কান হতে হতে খবরটি পৌঁছে গেল স্থানীয় এক সাংবাদিকদের কাছেও।

কে এই মেয়ে? সেই রহস্য উদ্ঘাটন করতে নেমে পড়লেন সেই সাংবাদিক। আর তখনই তাঁরা জানতে পারলেন এই কৃষ্ণাঙ্গ মেয়েটির আসল পরিচয়। মেয়েটি আর কেউ নয়, যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ছোট মেয়ে— সাশা ওবামা!

বিষয়টি জানাজানি হতেই গোটা যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। বিশ্ববাসী জেনে যায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ছোট মেয়ে সাশা ওবামা নিজের পরিচয় গোপন করে এত দিন ধরে একটি রেস্তোরাঁয় পরিচারিকার কাজ করছিলেন।

কিন্তু কেন? আমেরিকার মতো একটি দেশের প্রেসিডেন্টের মেয়ে হয়ে তিনি ‌কেন এমনটি করলেন?

না, সাশা ওবামা নয়, বারাক ওবামাও নয়, এর জবাব দিলেন বারাক ওবামার স্ত্রী মিশেল ওবামা। সাংবাদিকদের তিনি বললেন, একটি বয়সের পরে আমি আমার সন্তানদের বিলাসিতা ছাড়তে বাধ্য করেছি। আমি তাদের সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেশার জন‌্য পথে ছেড়ে দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, জীবনটা শুধুই হোয়াইট হাউসকেন্দ্রিক নয়। ওদেরও জানতে হবে কী ভাবে কাটছে যুক্তরাষ্ট্রের খেটে খাওয়া মানুষের জীবন। এটা না হলে ওরা যথার্থ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে না। তাই গ্রীষ্মকালীন ছুটির ফাঁকে মাসাচুয়েটসের ওই রেস্টুরেন্টে ও চাকরি করতে গিয়েছিল।

সিদ্ধার্থ সিংহ

0 - 0

Thank You For Your Vote!

Sorry You have Already Voted!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top