বাস্তব কল্পনায়

# অণুগল্প
#বাস্তব কল্পনা
#সুচন্দ্রা বসু
#১৫.০৬.২১

জয় অনেকদিন ধরেই মায়ের কাছে আবদার
করে সে কুকুরছানা পুষবে।মা কিন্তু রাজি
হয় না।কুকুরের কথা বলতে গেলেই মা বলে
মাধ্যমিক পরীক্ষা সামনে। এখন পোষ্যের বায়না
কেন? ইস্কুল বন্ধ সারাক্ষণ পড়তে জয়ের ভালো
লাগে না। টিভিতে পশুপাখির চ্যানেল দেখে, তাদের কথা মন দিয়ে শোনে।
একদিন ইউটিউবে ভিডিও দেখে, মাকে ডেকে বলে মা তুমি তো আমায় কুকুর পুষতে বারণ কর, এই দেখে যাও__
খেতে না পাওয়া গরিব বেকার যুবককে কোটিপতি বানিয়ে দিয়েছে তার পোষা কুকুর
‘সাইলার’।
বতর্মান যুগ ডিজিটাল। সুযোগ অনেক বেশি
ঘরে বসেই রোজগার করা যায়।
আচ্ছা তোর কি মাথা খারাপ হয়ে গেল নাকি।কি
সব আলতু ফালতু বলছিস।যা তো মন দিয়ে
মাধ্যমিক পরীক্ষাটা আগে ভালো ভাবে পাশ কর।
জয় বলছে আজকাল কুকুর পুষে লোকে ব্যবসা
করছে কতরকম।
তবে আর কি পাড়ার নেড়ির ছানাকে এবার ঘরে
নিয়ে এসো।
হ্যাঁ গো মা বেজিংয়ের ওই যুবক ঝৌ তিয়াংশিয়াও এর ভাগ্য ফিরিয়েছে ওই কুকুর।
ওসব চীন দেশেই সম্ভব।এখানে লোকে খেতেই
পায় না। তারা পোষ্য ঘরে রাখবে কি করে?

আসলে কুকুর সাইলার তার কাছে, ‘লাভ অ্যাট ফার্স্ট সাইট’। সাইলারকে মানুষের মতোই হাঁটতে
শেখায়। সে হাই ফাইভের মানে বুঝতে পারে,সে টেবিলের উপর খাবার রেখে খেতে পারে।বালিশ মাথায় বিছানায় ঘুমায়।
লেডি গাগার গানের সঙ্গে নাচ শিখিয়ে সাইলারের ভিডিও শেয়ার করলে সোশ্যাল মিডিয়ায়, সাদা-কালো রঙের মিশেলে এই দস্যিটা সকলের মন জয় করে। সাইলারের আট লক্ষেরও বেশি ফলোয়ার।

ভিডিও জনপ্রিয় হওয়ায় ভাগ্যের চাকা ঘুরতে থাকে ঝৌয়ের। ভিডিও প্রতি মিলতে থাকে টাকা। ভিডিও থেকে পাওয়া টাকা জমিয়ে
বেজিংয়ের কাছে এক পরিত্যক্ত বাড়ি কিনে নেয় ঝৌ। শুরু হয় তার মেকওভার। পোষ্যদের জন্য বিশেষ খাবার আর খেলনার ই-কমার্স সাইট খুলতেই ফুলে ফেঁপে ওঠে ব্যবসা।

এভাবে দু’বেলা ঠিকমতো খেতে না পাওয়া ঝৌ ধনকুবের কথা মা, ছেলের মুখে শুনে সত্যিই বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যায়। কুকুর পুষে তার ভিডিও বানিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় আপ্লোড করে এতো অর্থ উপার্জন করা যায়?
সত্যিই বর্তমান যুগটা পালটে গেছে।আমাদের
সময় এসব কল্পনা করা যেত না।

২৯৫ শব্দ সংখ্যা

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *