বাড়ি বিক্রয় – পর্ব – ৪ – সুদীপ ঘোষাল

[post-views]
Sudip Ghoshal

আর একজন ক্রেতা এলেন সপরিবারে। তারা আল রাস্তা পেরিয়ে দরজা অবধি এলেন। তারপর থমকে গিয়ে বললেন, বাবা রে এখানে কি মানুষ থাকে? আমি বললাম, মানুষই থাকে। ভালো জায়গার বাড়ি তো দশ লাখে পাবেন না। তারা বললেন এর থেকে ভাড়া থাকাই ভালো। রাস্তার ধারে থাকব।

তারা আর বাড়িতে প্রবেশ করলেন না। দরজা থেকেই টা টা বাই বাই করে চলে গেলেন। আমার মনটা খারাপ হয়ে গেল এই ভেবে যে আমি মানুষ হতে পারলাম না। তা না হলে এই মাঠে বাড়ি করে থাকতে হয়।

আমার বন্ধুটি সেটেলমেন্ট অফিসার। পাকা লোক। সে আমাকে সুযোগ পেলেই আইনগুলো শোনায়। সে বলে দুম করে বাড়ি কিনলেই হয় না। অনেক কিছু দেখতে হয়।সে বলল,আয়কর আইনের ধারা 54-এর অধীনে, যদি আপনি অন্য সম্পত্তিতে আপনার লাভের বিনিয়োগ করেন তবে দীর্ঘমেয়াদী মূলধন লাভের উপর কোনও কর দিতে হয় না।

যদিও, সেখানে কয়েকটি প্রাকশর্ত আছে। প্রথমত, এই সুবিধা শুধুমাত্র একজন স্বতন্ত্র ব্যক্তির বা এইচআইএফ (হিন্দু ইউনাইটেড ফ্যামিলি) -র জন্য পাওয়া যায়। দ্বিতীয়ত, আপনার লাভ একটি অন্য আবাসিক সম্পত্তিতে বিনিয়োগ করা উচিত, অন্য কোন সম্পদে বিনিয়োগ করা উচিত নয়।

তৃতীয়ত, প্রথম সম্পত্তি বিক্রি করার হয়তো এক বছর আগে অথবা দুই বছরের মধ্যে আপনার দ্বিতীয় সম্পত্তিতে বিনিয়োগ করতে হবে। যদি আপনি একটি নতুন বাড়ি নির্মাণ করেন, তবে প্রথম সম্পত্তি বিক্রির তারিখ থেকে তিন বছরের মধ্যে তার নির্মাণ সম্পন্ন করতে হবে। অবশেষে, সরকার এখন এই নিষ্কৃতিটিকে একমাত্র আবাসিক সম্পত্তিতে সীমিত করেছে।

বন্ধুর সঙ্গ ছেড়ে আমি বাথরুমে প্রবেশ করলাম। মাথাটা কেমন ঝিম ঝিম করছে।
Sudip Ghoshal

আপনার মতামতের জন্য

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top