বিশালাকায় ভোলা ভেটকি, পালটে দিল পুষ্পরানির জীবন – সিদ্ধার্থ সিংহ

 [post-views]

নিজের বাড়ির সামনের খাঁড়িতে প্রতিদিনের মতো মীন ধরতে গিয়ে পুষ্পরানি হঠাৎ দেখেন, সামনেই প্রকাণ্ড কী যেন একটা খাবি খাচ্ছে। কাছে গিয়েই চমকে ওঠেন। তিনি তো ননই, এর আগে ওই অঞ্চলের আর কেউ এত বড় মাছ দেখেছেন কি না যথেষ্ট সন্দেহ আছে।
 
তাই পরনের শাড়ি খুলে মাছটিকে কোনও রকমে জড়িয়ে টানতে টানতে পাড়ের দিকে নিয়ে আসেন। এত বড় আর এত ভারী যে, তিনি একা ওটাকে টেনে তুলতে পারছিলেন না, তাই পাড়ে আরও যাঁরা ছিলেন, তাঁরাও এগিয়ে এসে হাত লাগান।
 
এটা দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার শেষ ভূখণ্ড সাগরদ্বীপের ঘটনা। ওখানকার মৎস্যজীবীদের ধারনা, কোনও জাহাজ বা নৌকায় বেশ ভাল রকমের ধাক্কা খেয়ে মারাত্মক জখম হয়েছিল মাছটি। ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় কোনও ভাবে পাড়ের দিকে ভেসে আসে।‌ ঠিক তখনই নজর পড়ে প্রতিদিনের মতো সে দিনও মীন ধরতে যাওয়া পুষ্পরানি করের।
 
বছর পয়ত্রিশ‌ আগে স্বামীকে হারিয়েছেন তিনি। আর বিয়ে থা করেননি। দিন আনেন দিন খান। আর্থিক অবস্থা খুব খারাপ।‌ গত আমফানে প্রবল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাঁর মাটির ঘরটি। দুই ছেলের এক ছেলেও এখনও নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেনি। ফলে প্রতিদিন মীন ধরে তিনি যা পান, তাই দিয়েই দিন গুজরান করেন। তার মধ্যেই এই ঘটনা। হঠাৎ করেই তাঁর নাগালে চলে এল এত বড় একটা মাছ…
 
মুখে মুখে খবর ছড়িয়ে পড়তেই সাগরদ্বীপের চক ফুল ডুবি গ্রামে মানুষের ঢল নামে। শুধুমাত্র‌ ওই মাছটিকে দেখার জন্য। সঙ্গে সঙ্গে খবর পৌঁছে যায় মাছের আড়তেও। দল বেঁধে এসে পৌঁছন কাকদ্বীপ বাজারের আড়তদারেরা।
 
এত বড় মাছ দেখে তাঁরাও অবাক। মাছটি কেনার জন্য অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করেন। শেষ পর্যন্ত ৫২ কিলো ওজনের এই ভোলা ভেটকিটি ৬ হাজার ২০০ টাকা কিলো দরে কিনে নেন এক প্রভাবশালী মাছ ব্যবসায়ী।
সিদ্ধার্থ সিংহ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top