বুড়ো – অভিষেক সাহা

[post-views]

নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে কলকাতায় এসি লাগিয়েছে প্রকৃতি। নরম শীতের ছোঁয়া। শুধু রাত বাড়লে একটু ঠাণ্ডা বাড়ছে বটে, তবে অসহ্য নয়। বেশ মনোরম। করোনার জন্য মাস্ক-গ্লাভস তো ছিলই, ঠান্ডা পড়ায় কান ঢাকা টুপিটাও বউ টুসি ব্যাগে ঢুকিয়ে দিয়েছে হিয়ানের। সঙ্গে কড়া নির্দেশ ” অফিস থেকে বেরিয়ে টুপিটা পড়ে নেবে। শুরুর ঠান্ডা যদি লাগিয়েছ,  আমি কিন্তু বাবা-মার কাছে চলে যাব।কবে ফিরব জানিনা।”

টুসির টুপি পড়ে অফিস থেকে বেরিয়ে লাস্ট মেট্রো চড়ল হিয়ান। স্টেশন থেকে বেরিয়ে শান্তি দা-র  চায়ের দোকানে দাঁড়াল। এখন রাত সাড়ে দশটা। রাস্তা প্রায় ফাঁকা। মানুষের থেকে পথ সারমেয়র সংখ্যা বেশি। তবে একেবারেই কেউ নেই তাও নয় । চায়ের দোকানে সিতাংশু ছিল।

” খবরটা জানিস, জাস্ট মনটা ভেঙে গেল রে।” সিতাংশু বলল।

করোনার জেরে এখন কয়েক মাস যাবৎ মনের মধ্যে সবসময় ভয়ের চড়াই পাখি উড়ছে। নামী-অনামী- পরিচিত- অপরিচিত- আধা পরিচিত মানুষের টপাটপ উইকেট পড়ছে।

” কেন রে কার আবার কী হল!” শান্তি দা-র  থেকে চায়ের ভাঁড়টা নিয়ে এক চুমুক দিয়ে বলল হিয়ান।

” মারাদোনা আর নেই রে। একটু আগেই নিউজে  বলল। নিজের বাড়িতেই হার্ট অ্যাটাক।” সিতাংশু বলল।

” দিয়েগো মারাদোনা ! আমার অল টাইম হিরো। ইস্! সত্যিই এই মৃত্যু মিছিল আর নেওয়া যাচ্ছে না ।” মুষড়ে পড়া হিয়ান বলল।

” তোর মনে আছে যে বছর মারাদোনা ওয়ার্ল্ড কাপ জিতল , সেই ছিয়াশি সালে,  আমরা সবাই রাত জেগে  অবনী কাকুর বাড়িতে খেলা দেখেছিলাম। তখন থেকেই মানুষটা মনের মধ্যে পাথর গেথে বসে গেছে । ” সিতাংশু স্মৃতি হাতড়ে বলল।

” মনে থাকবে না । খুব মনে আছে। শুধু মারাদোনার খেলা  দেখব বলে কী না করতাম। তা বয়স কত হয়েছিল ? ” চা শেষ করে হিয়ানও স্মৃতি-সঙ্গ করল ।

” টিভিতে তো বলল ষাট বছর। এই তো তিরিশে অক্টোবর জন্মদিন ছিল। কিছুদিন আগেই তো হসপিটাল থেকে বাড়ি ফিরেছিল।” সিতাংশু আনমনা হয়ে বলল।

” এমনটাই তো হওয়ার ছিল! ” হিয়ান উত্তর দিল।

” কেন এমন বলছিস! এখন ষাট বছর কী ! কত লোক এই বয়সে ফিটফাট হয়ে চাকরি করছে, বিয়ে করছে ,আর উনি তো ফুটবলের ঈশ্বর !” সিতাংশু অবাক হল।

হিয়ান কষ্ট চেপে ,হালকা হেসে বলল ” ঈশ্বর কখনও বুড়ো হয় না ।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top