ঋতিকার মা সোয়েটার বুনতে খুব ভালবাসেন, কাজের অবসরে বাড়ির সবার জন্য সোয়েটার বোনেন। ঋতিকার আগামী শীতে পড়ার জন্য খেজুর পাতা ডিজাইন দিয়ে সোয়েটার বুনছেন।
ঋতিকার পছন্দ কিন্তু মল থেকে কেনা ব্র‍্যান্ডে সোয়েটার। তাই ঠিকঠাক মাপ দেওয়ার ব‍্যাপারে কোনমতেই সহযোগিতা করছে না। বাবা ওদের কান্ড দেখে ঋতিকার মাকে বলেন-“ছাড়ো তো ওরটা তোমায় বুনতে হবে না, তুমি বাড়ির বাকীদেরগুলো বোনো।” শত মুখ ঝামটা সত্ত্বেও বর্ণালী মানে ঋতিকার মা বুনে চলে সেই সোয়েটার। বর্ণালীর বান্ধবীরা কি সুন্দর সব সোয়েটার তৈরী করে তাদের মেয়েকে পড়ায়।
সোয়েটারটা বগলের ঘর ফেলার আগে এসে থমকে আছে। এর মধ্যেই বর্ণালীর কিডনির অসুখ ধরা পড়ল, একটানা বসে কিছু করা বারণ। ফলে সেই সোয়েটার আর শেষ হচ্ছে না। ঋতিকা মায়ের কষ্ট এখন বুঝতে পেরে মাপ দিতে চাইলেও বর্ণালী বেচারি আর পেরে ওঠে না। দিনে দিনে শরীর আরও খারাপ হয়। ভেলোরে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করালেও সুফল মেলে না। স্বামী, সংসার, ছেলেমেয়ে ছেড়ে চিরদিনের জন্য চোখ বোজে।
বেহাল সংসারের হাল ধরতে গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরে বেড়ানো ঋতিকাকে অনেক দায়িত্ব নিতে হয়। এবারের শীতটা একটু বেশী পড়ায় সবার জন্য গরম জামাকাপড় বার করতে গিয়ে হাতে উঠে আসে সেই মায়ের করা অসমাপ্ত সোয়েটারটা। ওটাকে জড়িয়ে ধরে ঋতিকা কাঁদে অনেকক্ষণ, তারপর বিড় বিড় করে বলে-“এ সোয়েটার আমি শেষ করে পড়ব মা, তুমি দেখো আমি ঠিক পড়ব।”
নিজের পড়ার টেবিলে গুছিয়ে রাখে সোয়েটারটা, ইউটিউব দেখে প‍্যাটার্ণটা শিখে নিয়েছে, রোজ একটু করে বোনে। আর ঋতিকার বাবা পর্দার আড়াল থেকে এ দৃশ্য দেখে চোখের জল ফেলেন।