ব্যক্তিগতলিখারএকাংশঃ

 2 total views

আমার জন্ম ১৫.৮.১৯৯৮ খ্রিঃ
তাহেরপুর উপজেলার গৌদুরী গ্রামে।
দিনটা ছিলো শ্রাবণ মাসের মাঝামাঝি সময়,
আকাশ এই গুমড়ো মুখে গর্জন করে কালো মেঘেছেয়ে যাচ্ছে আবার পরমূহূর্তেই মেঘ সড়ে যেয়ে হয়ে উঠছে রৌদ্রজ্বল,
প্রকৃতির এই রসিকতা দেখে আমার দাদা সোলাইমান হাওলাদার ছিলেন খুব চিন্তিত;
তিনি ছোটখাটো বিষয় নিয়েও চিন্তায় ভ্রুকুঞ্চিত করে থাকলেও এবারের ব্যাপারটা ছিলো বেশ গুরুতর,
কেননা ঘরে আমার মা প্রসববেদনায় অস্থির হয়ে পরেছেন!

বাবা গিয়েছেন হাটে। দুই গ্রাম পেড়িয়ে মস্ত এক বটতলা জুড়ে
হাট বসে প্রতি শনিবারে, ৩ গ্রামের বিক্রেতারা মিলিত হয়ে বিভিন্নরকমের নান্দনিক প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে উপস্থিত হন হাটে। কেউকেউ আসে ঘুরেঘুরে জিনিসপত্র দেখে দরদাম করে চলে যায়, আবার কেউবা আসেন সত্যি সত্যিই খরিদ করতে।
বাবা বরাবরই ঘুরেঘুরে জিনিসপত্র দরদাম করে যাওয়া লোকদের দলে, তবে আজকের ব্যাপারটা ভিন্ন, তিনি সঙ্গে এনেছেন তার নিজের শখে তৈরি মাটির রঙবেরঙের বউ এবং বর জোড়া ট্যাপা পুতুল; বাবার ধারনা “কোন মানুষের মধ্যে যদি বিন্দুপরিমাণও শিল্পচর্চা না থাকে তবে সে মানুষ জীবিত হয়েও মৃত”
যারে বলে জিন্দালাঁশ।

অনেকেই হাসিমুখে আগ্রহ করে পুতুল দেখছে
বিশেষ আগ্রহ চোখে পরছে বাবার হাতধরে হাটে ঘুরতে আসা কিশোরীদের, দামে বনিবনা হচ্ছেনা বলে অনেকেই মুখ পাংশুবর্ণ করে ফিরে যাচ্ছে। পুতুল খরিদ করতে না পারায় পেছন ফিরে অশ্রুস্বজল চোখে তাকিয়ে থাকা বাচ্চা একটি মেয়েকে দেখে
বড্ড মায়া লাগছিলো তমীজের, ইচ্ছে করছিলো সে মেয়েটাকে বিনা পয়সায় একজোড়া পুতুল ধরিয়ে দেয় _ দিবো দিবো করে শেষপর্যন্ত আর মনস্থির করতে পারলো না তমীজ;
হ্যা ঠিক ধরেছেন আমার বাবার নাম তমীজ ওরফে
“তমীজ হাওলাদার”।

দাদী মাকে বিভিন্ন আশ্বাসপূর্ণ কথার মাধ্যমে শান্ত করবার চেষ্টা করছেন কিন্তু তাতে কাজ হচ্ছেনা, লক্ষী বউমা আমার অস্থির হইয়োনা মা। তোমার শশুর আব্বায় রহিমের মারে ডাকতে গেছেন এক্ষুনি আইলো বইলা, আরেকটু সবুর করো মা
“সবুরে মেওয়া ফলে” মেওয়া সেদিন আর ফললোনা!
দাদাজান মুখ গুমড়ো করে বাড়ি ফিরলেন.

– তুমি একলা কেন রহিমের মায় কই?

– সে এক সাপ্তাহের জন্য গেছেন নেত্রকোনায় বড় মেয়ের বাড়ি, খবর পাঠানো হইছে কইলো ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যারাইত হইবো।

– পোলাডায় ভোরবেলা হাটে গেছে এখনো ফিরবার নাম নাই
ওই থাকলে কিচ্ছু একটা গতি হইতো

– নবাবজাদায় হাটে যাওয়ার আর দিন পাইলেন না আজকেই যাইতে হইলো, আমি কি আর সাধে হাটুপানির মহিষ ডাকি নাকি? হস্তশিল্পী সাজা হচ্ছে,
শিল্পচর্যা আমি যদি তারে বুড়িগঙ্গার জলে মিশাইয়া না গিলাইছি তাইলে আমার নামও সোলাইমান হাওলাদার না কইয়া দিলাম…..

– অযথা ক্যানক্যান কইরো নাতো পোলায় কি জানতো যে আজকেই এমন একটা পরিস্থিতি হইবো;

– এমন অবস্থায় বউমারে থুইয়া বাইরে বাইর হয় কেমনে? কাণ্ডজ্ঞান বইলা তো কিছু একটা আছে,

– মাইয়াডারে নিয়া আছি বিপদে! কথা না বাড়াইয়া যেমনেই পারো কিছু একটা ব্যবস্থা করো দেহি।
দাদাজান কোথপথ খোলা না পেয়ে সীদ্ধান্ত নিলেন বউমাকে নিয়ে তিনি সদর হাসপাতালে রউনা হবেন…(বাকি লেখা আসছে শীঘ্রই)।

– সোহানূর রহমান শান্ত✒

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *