ভবিতব্য – অভিষেক সাহা

 [post-views]

সকাল বেলা দরজা খুলেই বিস্ফারিত চোখে রিনা বলল ” এ আবার কাকে জোটালি শ্যামলী !” 
 
ঘরে ঢুকে একটুও উত্তেজিত না হয়ে শ্যামলী বলল ” কাকে জোটালি মানে ! এ আমার নিজের নাতনি রাইমা।সাত বছর বয়স। আমার বড় মেয়ের ঘরের।আজ থেকে  আমার সঙ্গেই থাকবে গো বৌদি। তোমার আপত্তি নেই তো ?”
 
” আপত্তি আর কী! কিন্তু এতটুকু মেয়ে বাবা-মাকে ছাড়া থাকতে পারবে ?” মনে মনে একটু বিরক্ত হলেও মুখে কিছু বলল না রিনা। 
 
প্রায় বারো বছর ধরে রিনার বাড়িতে রান্নার কাজ করে শ্যামলী। সেবার ডাক্তার যখন রিনাকে আগুনের সামনে যেতে নিষেধ করেছিল , সেই থেকেই ও এখানে। বাড়ির পিছন দিকে একটা ঘরে থাকে। ওর বাড়ি অনেক দূরে।ওর স্বামী যখন ওকে ছেড়ে অন্য মহিলা নিয়ে সংসার শুরু করে, সেই থেকে শ্যামলী নিজের দুই মেয়েকে ওর মায়ের কাছে রেখে এসে কলকাতায় রান্নার কাজে লাগে। রিনা অনেকবার বলেছিল মেয়েদের এনে ওর কাছে রাখতে। শ্যামলী শোনেনি। বলেছিল, কাজে ক্ষতি হবে।
 
” ওর মা-বাবা কিছু বলবে না ওইটুকু বাচ্চা এখানে থাকলে?” রিনা জানতে চাইল।
 
” এ বেটির তো কপাল পুড়েছে  গো বৌদি। ওর মা এই মেয়েকে রেখে নতুন মানুষ ধরেছে। সেই থেকে ওর বাপটা যে কোথায় গেছে কেউ জানেনা। তাই বাধ্য হয়ে আমিই নিয়ে এলাম। রক্তের জিনিস, ফেলে তো দিতে পারিনা বলো ! মানুষ তো করতে হবে। ” লম্বা শ্বাস ফেলে শ্যামলী বলল।
 
” তুই যেমন নিজের মেয়েদের তোর মায়ের কাছে ফেলে রেখে টাকা পাঠিয়ে দায় সেরেছিলি , তোর মেয়েও ঠিক তেমন করল।” শান্তভাবে  রিনা বলল।
” কী বলছো গো বৌদি , ভগবান শাস্তি দিলেন !” শ্যামলী জিজ্ঞেস করল।
রিনা আর কথা বাড়াল না , আস্তে করে শুধু বলল ”  ভবিতব্য।”
 
অভিষেক সাহা

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top