ভাড়া করে বউ নিয়ে জীবন কাটানোই যে গ্রামের প্রথা – সিদ্ধার্থ সিংহ

[post-views]
.

ভারতের উত্তরপ্রদেশের শিবপুরি জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি ছোট্ট গ্রামের পুরুষেরা এখন ভাড়া করা বউ নিয়েই জীবন কাটাচ্ছেন। আজ নয়, এই প্রথা দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে ওখানে। এটাকে স্থানীয় ভাষায় বলা হয়— ‘ধাদিচা’।

এই প্রথা ওখানকার লোকজনের কাছে এতটাই স্বাভাবিক যে, কেউ আর কোনও আপত্তি করেন না। আপত্তি করলে তাঁদের একঘরে করে দেওয়া হয়। বরং ওটা এতটাই জনপ্রিয়তা লাভ করেছে যে, ওটা এখন‌ গ্রাম্য আইনে বৈধতা পেয়ে গেছে। তাই উভয় পক্ষ সম্মত হলে রীতিমতো কোর্টের স্ট্যাম্প পেপারে ‌চুক্তি করা হয়। সেখানে উভয় পক্ষের‌ লোকজনেরা ছাড়াও স্বাক্ষর করেন গ্রামের মাতব্বরেরাও।

সেই বয়ানে যেমন লেখা থাকে, ওই বউয়ের উপর স্বামী যত দিন সন্তুষ্ট থাকবে, তত দিন তাঁরা একসঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধে ঘর-সংসার করবেন। ঠিক তেমনি একই সঙ্গে লেখা থাকে, যদি কোনও কারণে সেই সন্তুষ্টিতে খামতি‌ দেখা যায়, তা হলে বউয়ের দিক থেকে ওই সম্পর্ক আগলে রাখার যতই আগ্রহ থাকুক না কেন, ওই চুক্তি অনায়াসে বাতিল করতে পারবেন সেই স্বামী। না, তার জন্য গ্রাম্য মাতব্বরদের আর দরকার হবে না।

আসলে ওই গ্রামে প্রচুর বিয়ে হলেও কোনও বিয়েই আর টিকছিল না। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই ভেঙে যাচ্ছিল। পুরুষদের অভিযোগ ছিল, বিয়ে করলেই বউ এবং বউয়ের বাড়ির লোকজনদের কাছে তাঁদের নানা ভাবে হেনস্থা হতে হচ্ছে। অত্যাচারিত হতে হচ্ছে। তাই ওই গ্রামের কোনও পুরুষই আর বিয়ে করতে চাইছিলেন না।

তাঁদের কাছে বিয়েটা শুধু একটা ঝামেলার কাজই ছিল না, ছিল ভয়ানক আতঙ্কেরও। তাই তাঁরা কোনও নারীকে বিয়ে করে স্থায়ী ভাবে দায়বদ্ধ হতে চাইছিলেন না। তার ফলে ওই গ্রামের মেয়েদেরও বয়স বেড়ে যাচ্ছিল। কিন্তু বিয়ে হচ্ছিল না।

তখন গ্রামের সবাই মিলে আলাপ-আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেন। আর সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই এখনও বউ ভাড়া করেই দাম্পত্য জীবন কাটান ওই গ্রামের পুরুষেরা।

.
[post-views]
.

আপনার মতামত এর জন্য

[everest_form id=”3372″]

সিদ্ধার্থ সিংহ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top