ভালবাসা ও সম্মান জোর করিয়া পাওয়া যায় না। দুটোই অর্জন করিয়া লইতে হয়।

MIJANUR RAHMAN

ইংরাজী ভাষায় নিজের নাম লিখুন ।

 16 total views

মাধুরীলতা

মিজানুর রহমান

একটি রমনী, তাহার রুপের প্রকাশ করিতে চাই। তাহার সমস্ত দেহই সুন্দর তব তাহার আখি অতীব সুন্দর্য। তাহা প্রকাশ করিবার ভাষা মোর জানা নাই। তবে মন যাহা চাহিয়াছে তাহাই বলি। তাহার দুটি আখি, তাহাতে কাজল দেওয়া।

দুই আখি ঠিক মাঝখানে কপালে কালো টিপ। তাহা যে কত সুন্দর লাগছে, ঠিক দেখিতে চন্দ্রের মতন। ওষ্ঠে গোলাপি লিপস্টিক। তাহাতে তাহারে বেশ মানিয়েছে, একদম সূর্যে সহিত আলো যেমন মানায়। কালো কেশ! কেশ হইতে সুগন্ধি আসিতেছ, একদম বেলি ফুলের সুভাষের মতন। এক কথাই বলিতে গেলে তার রুপ-যৌবন সবই সুন্দর। তার নামটাও ভারি সৌন্দর্য নাম তাহার মাধুরীলতা।

মাধুরীলতা একটি পুষ্পের নাম সেই পুষ্পের মতন দেখিতে রমনীটি। পুষ্প খানি ৫টি পাপড়ি বিশিষ্ট একটি পুষ্প । যাহার রং লাল! মোর মনে হইলো এই পুষ্পের মতন সুন্দর বলিয়া তার নাম রাখা হইয়াছে মাধুরীলতা।

এই রমনীটি একদিন পুকুরে স্নান করিতেছে। আমি সেই পথ দিয়া যাইতে ছিলাম বিশেষ কোন কাজে কি কাজ তাহা এখন সরণ হইতেছে না। পথের ধারেই পুকুরটি ছিলো। আমিতো তারে দেখিয়া পথ হারাইয়া গিয়াছিলাম। মোর মনে হইলো ওই পথ দিয়া যে যাইবে সেই পথ হারাইয়া যাইবে। এমন সুন্দরী রমনী আগে বুঝি নাহি দেখিয়াছি। তার গায়ে ছিল লাল শাড়ী।

লাল শাড়ীতে তাকে দেবী অন্যপূর্ন্নার মতন দেখাইতেছে। খোলা কেশ তাহার! তার মুখখানি মাধুরীলতা পুষ্পের মতন। তাহার মুখখানি দেখিলে ভবের সকল বিষাদ ভুলিয়া থাকা যায়। সে যত কঠিন বিষাদ হোক না কেন। তাহার মুখখানি একবার দেখিলে আখির পলক ফেলিতে সাধ জাগেনা। মোর বড়ই সাধ জাগিল তাহারো সনে কথা বলিবার।

এমন কেন হয়লো? তাহার তো আমি একটিবার দেখিয়াছি। একবার দেখিলেই এমন নেশা তৈরি হয় আগে জানিতাম না। তবে কি আমি তাহার প্রতি মত্ত হইয়াছি? এমনটি হচ্ছে কেন? মাধুরীলতাকে দেখিবার আগে আমি বহু রমনী দেখিয়াছি, তখন তো এমনটি হয়নি। তব এখন হইলো কেন? এটাই কি প্রেমের মত্তা? নাকি শুধুই ভাল লাগা? কিন্তু সে সাধ মোর পূরণ হইলো না।

কোন কথা তাহার সহিত হইলো না। আমি শুধুই প্রতিদিন তাহারে দেখিতে লাগিলাম। তব কোন একটা কথা তাহারো সনে হয়নি। পরে অবশ্য বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যমে তাহার সহিত কথা হইয়াছিল।খানিক কথোপ-কথন। তাহারে দেখিলে যে মোর আখি ফেলিতে সাধ জাগে একথা বলা হইনি। তাহার মুখখানা দেখিলে সকল বিষাদ ভুলিয়া থাকা যায়, তাহাও বলা হইনি।

শুধুই বলিতাম কেমন আছো? কি কর? এই আর কি। এমনি করিয়া কাটিয়া গেল দুইটি বছর। তত দিনে মোর সকল আশা ভেঙ্গে চুর্মার হইয়াছে। আমি জানিতে পারিলাম তাহার বিবাহ হইয়াছে। এমনি কি তাহার একটি কন্যা সন্তান হইয়াছে। তাহার নাম মধু। বয়স ১ বছর ৭৮ দিন।

মোর সহিত কেন এমনটি হয়? এর উত্তর যদি কাহারো জানা থাকে মোরে জানাইবেন। তার বিবাহের পর তাহারে কয়েক বার দেখিয়াছি। কিন্তু সেই কথাগুলো বল হয়নি। কথা গুলো কি এখন বলা যাবে? এই মোর মনে ভেবে চিন্তে হ্নদয়ের মাঝে পুষিয়া রাখিয়াছি। কিন্তু কত দিন মনের মাঝে এসব কথা পুষিয়া রাখা যায়। আমিও আর পুষিয়া রাখিতে পারি নাই। একদিন বলিয়া ফেলিলাম, -মাধুরীলতা! -হুম বল? -মোর সহিত এমনটি কেন হয়? -কি হয়? -এই যাহাকে মোর ভাল লাগে, সে মোর থাকিয়া চলিয়া যায়। মোর মাতাকে আমি অনেক বেশি ভালবাসি তাই সেও চলিয়া গিয়াছে। -কোথায়? -না ফেরার দেশে। যেখান থেকে কেউ কোনদিন ফিরিয়া আসেনা। -আমি জানিনা, তোমার সাথে এমন কেন হয়। -তাহলে কে জানে? -বিধাতা জানেন! -তা থাক। তোমাকে একটা কথা বলিবার ছিল। -কি বল? -কয়েকটি রমনীকেও আমার ভাল লেগেছিল তাদেরও বিবাহ হইয়াছে।

-আমাদের এখান কার কোন রমনী আছে নাকি? -হুম আছে। -কি তাহার নাম? -নামের প্রথম বর্ণ “ম” – মানে কি মানসী, মাধবী,মনিসা? -না! ৩৫,৩৬,৩৭ মানে তুমি। -আগেতো জানতাম না? -তোমারে বলি নাই তাই জানো না। -এই সব কবে থেকে শুরু হইলো কবে থেকে? -তোমারে যেদিন প্রথম দেখিয়াছিলাম সেদিন থেকে। -বল কি? -হুম! সত্য কথা। – ও তাই! – হুম! তুমি কি বল?

-আমি আবার কি বলব? -কেন তোমার কি কিছুই বলার নাই? -আছে ভইকি! না! নাই। -তাহার কারন কি আমি জানিতে পারি? -না! -কেন? -এখন বলে কোন লাভ আছে কি? -আছেতো! -তুমি শুধু একবার বলে দেখ। -না! আমি বলিতে পারিনা আমি বোবা। -তুমি বোবা হইলে কবে? -যেদিন মোর সব সপ্ন ভাঙ্গিয়াছে, সেদিন হইতে আমি বোবা হইয়া গিয়াছি। সেদিন আমি কিছুই বলিতে পারিনাই। মা-বাবার সামনে সেদিন কিছুই বলিতে পারিনাই। -এখন বল?

-এখন বলিবার কোন সাধ মোর নাই। -কেন? -এখন মোর একটা সংসার আছে, একটি মেয়ে আছে। তাই আমি এবারো কোন কথা বলিতে পারিবনা। -না! তোমাকে বলিতেই হইবে? -শুনো একটি কথা বলি জোর করে সব কিছু পাওয়া যায়,কিন্তু ভালবাসা ও সম্মান পাওয়া যায় না। তাহা অর্জন করিয়া লইতে হয়। -তাই হবে মাধুরীলতা। আমি না হয় অর্জন করিয়া লইবো। -তুমি কি করবে তাহা তোমার ব্যপার। ইহার মাঝে মোরে টানিতেছো কেন? -তোমারি জন্যইতো সব কিছু মাধুরীলতা।

-তোমার মন যাহা চাই তাহাই কর। আমি কিছুই বলিব না। এখনো তাহারো সহিত কথা হয়। কিন্তু আমার উত্তর আমি আজও পাইনি। আমি তাহার ভালবাসা অর্জন করিবার লাগি সংগ্রাম করতেছি। পাইব কি না পাইব তাহার ভালবাসা তাহা আমি জানি না।

1 thought on “ভালবাসা ও সম্মান জোর করিয়া পাওয়া যায় না। দুটোই অর্জন করিয়া লইতে হয়।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *